খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৫
মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরে অবৈধভাবে বসবাসের অভিযোগে ২৬ জন বিদেশি নাগরিককে আটক করেছে দেশটির ইমিগ্রেশন বিভাগ। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে ১৮ জন ইন্দোনেশীয়, ৩ জন বাংলাদেশি এবং ৫ জন নেপালি রয়েছেন।
আটক ইন্দোনেশীয় এক নারী জানান, দেশে ফিরে যাওয়ার সামর্থ্য না থাকায় তিনি এখনো মালয়েশিয়ায় রয়েছেন। অভিবাসন কর্মকর্তাদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমার দেশে কাজ পাওয়া কঠিন। কয়েক বছর আগে বৈধভাবে এখানে এসেছিলাম, কিন্তু এখন দেশে ফেরার টাকাটাও নেই।’
৪০ বছর বয়সী ওই নারী আরও বলেন, ‘আমার পাসপোর্ট ছিল, পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কাজও পেয়েছিলাম। বর্তমানে মাসে প্রায় ১৪০০ রিঙ্গিত আয় করি, এর মধ্যে ৫০০ থেকে ৬০০ রিঙ্গিত দেশে পাঠাই। কিন্তু এখন নিজ দেশে ফেরার মতো টাকা হাতে নেই।’
শনিবার (১১ অক্টোবর) ভোরে উলু ক্লাংয়ের জালান পেরমাতা এলাকায় একটি বাণিজ্যিক ভবনে অভিযান চালায় মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন বিভাগ। ওই সময় ৩৯ জন বিদেশি ও স্থানীয় নাগরিককে তল্লাশি করে ২৬ জন অবৈধ অভিবাসীকে আটক করা হয়।
কুয়ালালামপুর ইমিগ্রেশন বিভাগের পরিচালক ওয়ান মোহাম্মদ সাউপি ওয়ান ইউসফ জানান, জনগণের অভিযোগের ভিত্তিতে রাত ১টার দিকে অভিযান শুরু হয়। মোট ৩৯ জনকে যাচাই করা হয়—এর মধ্যে ১০ জন স্থানীয়, ২৬ জন ইন্দোনেশীয়, ৩ জন বাংলাদেশি, একজন পাকিস্তানি এবং ৫ জন নেপালি ছিলেন।
তিনি আরও জানান, অবৈধভাবে বসবাসের অভিযোগে ২৬ জনকে আটক করা হয়েছে। এদের বিরুদ্ধে ইমিগ্রেশন আইন ১৯৫৯/৬৩-এর ১৫(১)(সি) ও ৬(১)(সি) ধারায় মামলা করা হয়েছে।
মালয়েশিয়ায় হাজার হাজার নিম্নআয়ের বিদেশি শ্রমিক বৈধ ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও অর্থের অভাবে দেশে ফিরতে পারছেন না। কেউ কেউ স্থানীয়দের কাছ থেকে সামান্য কাজ পেয়ে অবৈধভাবে থেকে জীবিকা নির্বাহের চেষ্টা করছেন।
খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, অবৈধভাবে থাকা এসব শ্রমিক মানবিক সংকট, স্বাস্থ্যঝুঁকি ও নিরাপত্তা সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন। তাদের পুনর্বাসন বা স্বদেশে ফেরাতে মানবিক উদ্যোগ গ্রহণ জরুরি।
এক ইমিগ্রেশন কর্মকর্তা বলেন, ‘বেশিরভাগ অবৈধ অভিবাসী আসলে দেশে ফিরতে চান, কিন্তু আর্থিক সামর্থ্যের অভাবে পারেন না।’
খবরওয়ালা/টিএসএন