খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ১৭ জানুয়ারি ২০২৬
সিলেটের এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসায় অভিযোগ এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষানবিশ চিকিৎসকের ওপর হামলার ঘটনায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। শুক্রবার রাত ১২টার দিকে হাসপাতালের চতুর্থ তলার ৬ নম্বর ওয়ার্ডে ঘটেছে এই হামলার ঘটনা। ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে শিক্ষানবিশ চিকিৎসকেরা নিরাপত্তা ও দোষীদের শাস্তির দাবিতে কর্মবিরতি পালন করছেন।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, রোগীর স্বজনেরা চিকিৎসায় তৎপরতার অভাবে অভিযোগ তুলেন। প্রথমে তারা ওয়ার্ডের নার্সদের সঙ্গে বাগ্বিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। একপর্যায় তারা একত্র হয়ে ওয়ার্ডের ভেতরে ভাঙচুর শুরু করেন এবং শিক্ষানবিশ চিকিৎসকসহ অন্যান্য চিকিৎসা সহায়তাকারী কর্মীদের ওপর হামলা চালান। এতে অন্তত এক নারী শিক্ষানবিশ চিকিৎসককে হেনস্তা করা হয় এবং তিনজন ওয়ার্ডবয় আহত হন। হাসপাতাল এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
খবর পেয়ে দায়িত্বরত শিক্ষানবিশ চিকিৎসকেরা হামলার সঙ্গে জড়িত এক নারীসহ তিনজনকে আটক করেন। পরে পুলিশ গভীর রাতে তিনজনকে থানায় নিয়ে যায়। একই সঙ্গে হাসপাতালের অন্যান্য শিক্ষার্থীরাও ঘটনা শুনে হাসপাতালে পৌঁছান, যা সাময়িকভাবে উত্তেজনা আরও বাড়ায়।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের উপপরিচালক মো. মাহবুবুর রহমান জানান, হামলার ঘটনায় হাসপাতাল প্রশাসন মামলা দায়ের করবে এবং দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত করবে। তিনি আরও বলেন, শিক্ষানবিশ চিকিৎসকেরা নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচারের দাবিতে কর্মবিরতি পালন করছেন।
ঘটনার সংক্ষিপ্ত বিবরণ (৬ নম্বর ওয়ার্ড, সিলেট ওসমানী হাসপাতাল)
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| ঘটনা সময় | শুক্রবার রাত ১২টা |
| স্থান | চতুর্থ তলা, ৬ নম্বর ওয়ার্ড |
| আহত | শিক্ষানবিশ চিকিৎসক ১, ওয়ার্ডবয় ৩ |
| হামলার কারণ | চিকিৎসায় অভিযোগ ও দায়িত্বে অবহেলা |
| আটককৃত | নারীসহ ৩ জন |
| কর্মবিরতি | শিক্ষানবিশ চিকিৎসকেরা নিরাপত্তা ও শাস্তির দাবিতে |
হাসপাতাল প্রশাসন জানিয়েছে, শিক্ষানবিশ চিকিৎসকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ করাই তাদের প্রধান লক্ষ্য। হামলার পর হাসপাতাল এলাকায় নিরাপত্তা বৃদ্ধি করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট থানার পুলিশ পর্যবেক্ষণ করছে।
এ ঘটনার প্রভাব স্থানীয় কমিউনিটিতেও পড়েছে। রোগী ও স্বজনরা আশঙ্কা প্রকাশ করছেন, এবং স্বাস্থ্যসেবায় স্বাভাবিক কার্যক্রম কিছুটা ব্যাহত হয়েছে। হাসপাতালের পক্ষ থেকে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে যে, দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হবে এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা হবে।