খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
বিশ্বজুড়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) সংক্রান্ত পণ্য ও প্রযুক্তিতে বিনিয়োগের চাহিদা ক্রমেই বাড়ছে। এ প্রবণতা সিঙ্গাপুরের মতো উন্নত ইলেকট্রনিক্স কেন্দ্রকে বিশেষভাবে লাভবান করছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এআই পণ্য উৎপাদন ও রপ্তানির উপর সিঙ্গাপুরের নির্ভরতা দেশটির অর্থনীতিকে গতিশীল রাখছে, যা প্রত্যাশার তুলনায় আরও বেশি প্রবৃদ্ধি অর্জনে সহায়ক হচ্ছে।
বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, এআই পণ্যের ব্যাপক চাহিদি এবং বৈশ্বিক বাণিজ্যে সহনশীলতার কারণে সিঙ্গাপুর গত কয়েক মাসে অর্থনৈতিক সূচকে ইতিবাচক অগ্রগতি দেখেছে। গত মঙ্গলবার দেশটির বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ২০২৬ সালের জন্য দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) বৃদ্ধির পূর্বাভাস বৃদ্ধি করেছে।
সিঙ্গাপুরের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানায়:
| সূচক | পূর্ববর্তী পূর্বাভাস | নতুন পূর্বাভাস | মন্তব্য |
|---|---|---|---|
| ২০২৬ সালের জিডিপি বৃদ্ধি | ১.০–৩.০% | ২.০–৪.০% | এআই পণ্য ও রপ্তানি বৃদ্ধির প্রভাব |
| ২০২৫ সালের চতুর্থ প্রান্তিক প্রবৃদ্ধি | ৪.৮% | ৫.০% | বৈশ্বিক চাহিদা এবং সহনশীল বাণিজ্য অবদান |
মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, ২০২৫ সালের চতুর্থ প্রান্তিকে অধিকাংশ প্রধান অর্থনীতি প্রত্যাশার চেয়ে বেশি প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রে শুল্ক আরোপের পরও বৈশ্বিক বাণিজ্য কার্যক্রম তুলনামূলকভাবে সহনশীল ছিল, যা সিঙ্গাপুরের রপ্তানি ও বিনিয়োগের সুযোগ বৃদ্ধি করেছে।
এআই পণ্য উৎপাদনে সিঙ্গাপুরের প্রধান অবদান হলো উচ্চমানের ইলেকট্রনিক্স যেমন সেমিকন্ডাক্টর, মেমোরি চিপ এবং সার্ভার উপাদান, যা এআই পরিচালিত ডেটা সেন্টারের জন্য অপরিহার্য। এছাড়া, শহরটি আঞ্চলিক আর্থিক ও ডিজিটাল কেন্দ্র হিসেবে তার অবস্থানকে কাজে লাগিয়ে এআই সফটওয়্যার ও অবকাঠামো খাতে বিনিয়োগ আকর্ষণ করছে।
মন্ত্রণালয় আশা করছে, ২০২৬ সালেও এআই বিনিয়োগ অব্যাহত থাকবে। যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানি ও জাপানের সম্প্রসারণমূলক রাজস্বনীতি এবং অনুকূল বৈশ্বিক আর্থিক পরিস্থিতি আগামী প্রান্তিকগুলোতে বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি সমর্থনে সহায়ক হবে। তবে সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক ও বাণিজ্য প্রতিবন্ধকতার কারণে কিছু অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি গত বছরের তুলনায় ধীর হতে পারে।
সিঙ্গাপুর, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার একটি ধনী ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যভিত্তিক দেশ, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবণতার সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সংযুক্ত। এ কারণে এআই পণ্যের রপ্তানি বৃদ্ধি দেশের অর্থনীতিকে উল্লেখযোগ্যভাবে সমর্থন করছে, তবে বৈশ্বিক বাণিজ্যের চ্যালেঞ্জের ঝুঁকিও সতর্কভাবে মোকাবেলা করতে হবে।