খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 5শে অগ্রহায়ণ ১৪৩২ | ১৯ই নভেম্বর ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
ইসরাইলের জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী ইতামার বেন গভির প্রকাশ্যে হুমকি দিয়েছেন যে, যদি জাতিসংঘ ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয়, তবে প্যালেস্টাইনের (পিএ) শীর্ষ কর্মকর্তাদের হত্যার নির্দেশ দেওয়া উচিত। বেন গভির এই মন্তব্য করেছেন সোমবার তার দল ওতজমা ইহুদিতের একটি বৈঠকে। জেরুজালেম পোস্ট উদ্ধৃত করে আল জাজিরা জানিয়েছে, তিনি পিএ নেতাদের ‘সন্ত্রাসী’ আখ্যা দিয়েছেন এবং রাষ্ট্র স্বীকৃতির প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত হলে ‘টার্গেটেড হত্যার’ কথা বলেছেন।
ফিলিস্তিনি কর্মকর্তারা এই মন্তব্যকে ‘পদ্ধতিগত উসকানি’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। ফিলিস্তিনি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে বেন গভিরের জবাবদিহিতা নিশ্চিতের আহ্বান জানিয়েছে। প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের কার্যালয়ও বলেছে, এ হুমকির জন্য ইসরাইল সরকারই দায়ী।
এই উত্তেজনার মধ্যে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে গাজা যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব এবং আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনী গঠনের পরিকল্পনা নিয়ে ভোট হওয়ার কথা রয়েছে। প্রস্তাবে ফিলিস্তিনিদের আত্মনিয়ন্ত্রণ ও রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পথনকশা সমর্থনের কথাও বলা হয়েছে।
বেন গভির আরও বলেছেন, ফিলিস্তিন রাষ্ট্র স্বীকৃতির প্রক্রিয়া এগোলে পিএ প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসকে গ্রেপ্তার করা উচিত। ইসরাইলের কারাগারে আব্বাসের জন্য আলাদা সেল প্রস্তুত রয়েছে, দাবি করেছেন তিনি।
ইসরাইলের শীর্ষ নেতারা বরাবরই পশ্চিম তীরে পিএ নেতৃত্বাধীন একটি স্বাধীন ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রের বিরোধী। প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও তার জোট এ বিরোধিতায় অটল। সম্প্রতি বেন গভির আরও যুক্তি দিয়েছেন যে, ফিলিস্তিনিরা ইসরাইলি ভূখণ্ডে আরব দেশ থেকে আগত অভিবাসীদের সমষ্টি, যারা সন্ত্রাস ও নৃশংসতা ছড়িয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের পরিকল্পনায় গাজার শাসন আন্তর্জাতিক তত্ত্বাবধানে হবে, তবে ফিলিস্তিনি প্রশাসন ও স্থিতিশীলতা বাহিনী ভূমিতে কাজ করবে। হামাসসহ গাজার বিভিন্ন প্রতিরোধ গোষ্ঠী এই পরিকল্পনা সমালোচনা করেছে, এটিকে বিদেশি নিয়ন্ত্রণের সুযোগ হিসেবে দেখছে। তারা মানবিক সহায়তা বিতরণের ক্ষেত্রে স্বাধীনতা এবং গাজার প্রতিরোধের অধিকার রক্ষা চাচ্ছে।
বেন গভিরের মন্তব্য ফিলিস্তিনি-ইসরাইলি উত্তেজনা আরও বাড়িয়েছে। রাষ্ট্র স্বীকৃতির প্রক্রিয়ায় এই হুমকি আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ও মানবাধিকার প্রেক্ষাপটে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এখন ফিলিস্তিনি নেতাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি শান্তি প্রক্রিয়ায় সহায়তা দিতে হবে।