খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৬ ডিসেম্বর ২০২৫
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কলকাতায় যথাযোগ্য মর্যাদা ও আবেগঘন পরিবেশে বাংলাদেশের ৫৫তম মহান বিজয় দিবস উদ্যাপিত হতে যাচ্ছে। ঐতিহাসিক এই দিনটি উপলক্ষে কলকাতায় একাধিক কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে, যেখানে অংশ নেবে বাংলাদেশ ও ভারতের প্রতিনিধিরা। একই সঙ্গে বিজয় দিবসটি জাঁকজমকপূর্ণভাবে উদ্যাপন করবে ভারতীয় সেনাবাহিনীর পূর্বাঞ্চলীয় কমান্ড, যা মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি ও দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও একবার নতুন করে তুলে ধরবে।
ভারতীয় সেনাবাহিনীর পূর্বাঞ্চলীয় কমান্ডের সদর দপ্তর কলকাতার ঐতিহাসিক ফোর্ট উইলিয়ামে মঙ্গলবার সকালে বিজয় দিবসের মূল অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। এ উপলক্ষে বাংলাদেশ থেকে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সেনা কর্মকর্তাদের একটি প্রতিনিধিদল ইতিমধ্যে কলকাতায় পৌঁছেছে। চার দিনব্যাপী এই বিজয় উৎসবে অংশ নিতে বাংলাদেশ থেকে এসেছেন আটজন বীর মুক্তিযোদ্ধা, দুজন সেনা কর্মকর্তা এবং তাঁদের পরিবারের সদস্যরা।
প্রতিনিধিদলে রয়েছেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এম লুৎফর রহমান ও মেজর শের–ই–শাহবাজ, সঙ্গে তাঁদের স্ত্রীরা। মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে উপস্থিত থাকবেন মো. হাবিবুল আলম, মেজর (অব.) অলিক কুমার গুপ্ত, মেজর (অব.) কামরুল আবেদিন, মেজর (অব.) মনীষ দেওয়ান, মেজর (অব.) মো. আব্দুল হাকিম, মেজর (অব.) হাফিজুর রহমান, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) মো. শামছুল হুদা এবং আবদুল্লাহ হিল শফি। তাঁদের উপস্থিতি বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানে বাড়তি গৌরব ও তাৎপর্য যোগ করেছে।
ফোর্ট উইলিয়ামের বিজয় স্মারকস্তম্ভে বাংলাদেশ ও ভারতের প্রতিনিধিরা একসঙ্গে মুক্তিযুদ্ধে শহীদ বীরদের স্মৃতির প্রতি ফুল দিয়ে গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন। অনুষ্ঠানে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশি মুক্তিযোদ্ধা ও ভারতীয় সেনাবাহিনীর পূর্বাঞ্চলীয় কমান্ডের যৌথ লড়াইয়ের কথা কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করা হবে। এই যৌথ বাহিনীর বীরত্বপূর্ণ সংগ্রামের মধ্য দিয়েই পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী পরাজিত হয় এবং স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয় ঘটে—এই ঐতিহাসিক সত্য আবারও গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হবে।
এদিকে কলকাতায় অবস্থিত বাংলাদেশ উপহাইকমিশনও পৃথক কর্মসূচির মাধ্যমে বিজয় দিবস উদ্যাপন করবে। সকালে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে দিবসের সূচনা হবে। এরপর আলোচনা সভা ও বিশেষ মোনাজাতের আয়োজন করা হয়েছে। সন্ধ্যায় থাকবে একটি মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, যেখানে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক গান, কবিতা ও পরিবেশনার মাধ্যমে বিজয়ের চেতনা তুলে ধরা হবে।
এর আগে সোমবার সকালে বাংলাদেশের মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতিনিধিদল কলকাতার রাজ্যপাল সি ভি আনন্দ বোসের সঙ্গে তাঁর দপ্তরে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। এই সাক্ষাৎ দুই দেশের ঐতিহাসিক সম্পর্ক ও মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিকে আরও দৃঢ় করেছে।
| আয়োজন | স্থান | অংশগ্রহণকারী |
|---|---|---|
| মূল অনুষ্ঠান ও শ্রদ্ধা নিবেদন | ফোর্ট উইলিয়াম | বাংলাদেশ ও ভারতের প্রতিনিধি |
| জাতীয় পতাকা উত্তোলন | বাংলাদেশ উপহাইকমিশন | কূটনীতিক ও প্রবাসী বাংলাদেশি |
| আলোচনা সভা ও মোনাজাত | উপহাইকমিশন প্রাঙ্গণ | আমন্ত্রিত অতিথিরা |
| সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান | সন্ধ্যায় নির্ধারিত স্থান | শিল্পী ও অতিথিবৃন্দ |
সব মিলিয়ে, কলকাতায় মহান বিজয় দিবসের এই আয়োজন শুধু একটি আনুষ্ঠানিক উদ্যাপন নয়; এটি বাংলাদেশ–ভারত বন্ধুত্ব, মুক্তিযুদ্ধের যৌথ ইতিহাস এবং স্বাধীনতার চেতনাকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার এক গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ।