খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 5শে চৈত্র ১৪৩২ | ১৯ই মার্চ ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
লোকগানের কিংবদন্তি শিল্পী কাংকালিনী সুফিয়া বর্তমানে অত্যন্ত সংকটাপন্ন জীবনযাপন করছেন। শারীরিকভাবে জটিল অসুস্থতায় ভুগছেন তিনি—উচ্চ রক্তচাপের সঙ্গে কিডনি ও হৃদ্রোগসহ আরও কিছু রোগ শরীরে বাসা বেঁধেছে। গত এক সপ্তাহ ধরে বুকে প্রচণ্ড ব্যথা, মুখ ফুলে যাওয়া এবং কথা বলতেও কষ্ট হচ্ছে। আর্থিক সংকটের কারণে চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় ওষুধ কেনা এখন তাঁর পক্ষে অসম্ভব। ঈদ ঘনিয়ে আসলেও পরিবারের ঘরে বাজারের কোনো প্রয়োজনীয় জিনিস নেই।
কাংকালিনী সুফিয়া বলেন, “চার মাসের বাসাভাড়া বাকি, খাওনের টাকা নেই, ওষুধ কিনব কই থাইকা।”
কয়েক বছরের ধারাবাহিক আর্থিক সমস্যা এবং দেনাদেনার মধ্যে তাঁর সংসার চলছিল। সাভারের পূর্ব জামসিং এলাকায় থাকা বাড়ি বিক্রি করতে হয়েছে, এখন উত্তর জামসিংয়ে ভাড়া বাসায় মানবেতর জীবন কাটছে।
সরকারি ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান থেকে অসচ্ছল শিল্পীদের ভাতা পাওয়া যেত। প্রতিবছর তিনি ৪২,০০০ টাকা ভাতা পেতেন, যা গত বছর হ্রাস পেয়ে ১২,০০০ টাকায় নেমে এসেছে।
| ভাতা উৎস | পূর্বের পরিমাণ (টাকা) | বর্তমান পরিমাণ (টাকা) | মন্তব্য |
|---|---|---|---|
| সরকারী সাংস্কৃতিক ভাতা | 42,000 | 12,000 | হ্রাস পেয়েছে |
| প্রধানমন্ত্রীর মাসিক সহায়তা | 10,000 | 0 | বন্ধ হয়েছে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় থেকে |
পুষ্প বেগম, কাংকালিনী সুফিয়ার একমাত্র মেয়ে, জানিয়েছেন, “ভাতা কমে যাওয়ায় ওষুধ, বাজার এবং দৈনন্দিন খরচ চালানো কঠিন হয়ে গেছে। আর ধারদেনা করারও সুযোগ নেই।”
কেবল ভাতার ওপরই সংসার চলত না; অনুষ্ঠানের আয়ও গুরুত্বপূর্ণ ছিল। তবে গত এক বছরে দেশজুড়ে অনুষ্ঠানের সংখ্যা কমে যাওয়ায় আয় প্রায় শূন্যের কোঠায়। বিটিভি ও বেসরকারি টেলিভিশনে ডাক এসেও, শেষ পাঁচ মাসে কোনো অনুষ্ঠান হয়নি। পুষ্প বেগম বলেন, “একবেলা খেয়ে অন্যবেলা খেতে পারি না, টেলিভিশনের টাকা থাকত তা দিয়ে ওষুধ ও বাজার হতো।”
কিডনি জটিলতা এবং উচ্চ রক্তচাপসহ বিভিন্ন অসুস্থতার কারণে প্রতি মাসে ৮–১০ হাজার টাকার ওষুধ প্রয়োজন। চিকিৎসক দুধ, ডিম এবং পুষ্টিকর খাবারের পরামর্শ দিয়েছেন। তবে খাদ্য ও চিকিৎসার অনিয়মিততা তাদের জীবনকে কঠিন করে তুলেছে।
২০২০ সালের পর চিকিৎসার জন্য ধার করা ১৫ লাখ টাকা মেটাতে সাভারের বাড়ি বিক্রি করতে হয়েছে। এখন ৩ শতাংশ জমি কিনেছেন, কিন্তু বাড়ি নির্মাণের টাকা নেই, ফলে ভাড়া বাসায় থাকতে হচ্ছে।
কাংকালিনী সুফিয়া নিজে সাহায্য চাইতে চান না। তিনি বলেন, “এখনও আমি গান গাইতে পারি। কারও কাছে সাহায্য চাই না। আমাকে গান শোনানোর জন্য নিন।”
রাজবাড়ী জেলার বালিয়াকান্দি উপজেলার জেলে পরিবারে জন্ম নেন কাঙালিনী সুফিয়া। প্রকৃত নাম টুনি হালদার। মাত্র ১৪ বছর বয়সে গ্রামের অনুষ্ঠানে গান করে মানুষের নজর কাড়েন। গানের গুরু ছিলেন গৌর মহন্ত ও দেবেন খ্যাপা। হালিম বয়াতির কাছেও গান শিখেছেন। তিনি এখন পর্যন্ত ৩০টি জাতীয় ও ১০টি আন্তর্জাতিক পুরস্কার লাভ করেছেন। তাঁর জনপ্রিয় গানগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘কোনবা পথে নিতাইগঞ্জ যাই’, ‘বুড়ি হইলাম তোর কারণে’, ‘নারীর কাছে কেউ যায় না’ এবং ‘আমার ভাটি গাঙের নাইয়া’।