খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ১৮ মে ২০২৫
ইসরায়েলে ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইয়েমেনের সশস্ত্র বাহিনী। এর পরপরই ইসরায়েলের তেলআবিবসহ বিভিন্ন শহরে সাইরেন বেজে ওঠে—এমনটাই জানিয়েছে ইসরায়েলি সংবাদ সংস্থাগুলো। একই সঙ্গে ঘোষণা আসে, গুরুত্বপূর্ণ বেন-গুরিয়ন বিমানবন্দর সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
ইয়েমেনি সূত্রগুলো দাবি করে, রবিবার দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোঁড়া হয় এবং সেগুলো প্রতিহত করতে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যর্থ হয়। এতে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে, আর সাধারণ মানুষ আশ্রয়কেন্দ্র বা বাঙ্কারের দিকে ছুটে যান।
এই ঘটনার পর তেলআবিবের বেন-গুরিয়ন বিমানবন্দরের সব ফ্লাইট সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে নির্দেশ দিয়েছে।
ইয়েমেনের হুথি আনসারুল্লাহ গোষ্ঠীর তথ্য শাখার উপপ্রধান নাসরেদ্দিন আমের এক্স (সাবেক টুইটার)-এ দেওয়া এক পোস্টে বলেন, গাজায় ইসরায়েলি আগ্রাসনের প্রতিক্রিয়ায় ইয়েমেন এমন পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়েছে।
তার ভাষায়, “ইসরায়েলি ভূখণ্ডে অবস্থিত সব বিমানবন্দর এখন অনিরাপদ। আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থাগুলোর উচিত ইসরায়েলগামী ফ্লাইট এড়িয়ে চলা।”
তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে আরও বলেন, যদি গাজায় হামলা বন্ধ না করা হয় এবং অবরোধ না তোলা হয়, তাহলে ইয়েমেনের সামরিক অভিযান আরও তীব্র হবে।
নাসরেদ্দিন আমের বলেন, “ইসরায়েল আরব নেতাদের আহ্বানে কর্ণপাত করেনি। এখন তাদের সেই মূল্য দিতে হবে—এই বিস্ফোরণের শব্দ তারা তাদের দখলকৃত এলাকায় শুনতে পাবে।”
উল্লেখযোগ্য যে, গাজায় ইসরায়েলি অভিযান শুরু হওয়ার পর থেকেই ইয়েমেনের সশস্ত্র বাহিনী গাজার প্রতি সংহতি জানিয়ে ইসরায়েল অধিকৃত এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়ে আসছে।
এদিকে, ইসরায়েলি বাহিনী অবরুদ্ধ গাজায় টানা বোমাবর্ষণ চালিয়ে যাচ্ছে। এতে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ১২৫ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, ইসরায়েলের অব্যাহত আগ্রাসনে এখন পর্যন্ত ৫৩,৩৩৯ জন ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১,২১,০৩৪ জন আহত হয়েছেন। তবে গাজার সরকারি মিডিয়া অফিস নিহতের সংখ্যা হালনাগাদ করে জানিয়েছে, মৃতের সংখ্যা ৬১,৭০০ ছাড়িয়ে গেছে। তারা জানিয়েছে, ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনো হাজার হাজার মানুষ নিখোঁজ, যাদের মৃত বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সূত্র: ইরনা ও আল-জাজিরা
খবরওয়ালা/এন