খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 1শে ফাল্গুন ১৪৩২ | ১৩ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
এম এ কাইয়ুম অভিযোগ তুলেছেন, যে প্রার্থী নিজ কেন্দ্রের প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে পোলিং এজেন্ট দিতে পারেন না, তিনি কীভাবে বিপুল ভোট পান— এ প্রশ্নের সদুত্তর জনগণ জানতে চায়। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১১ আসনে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা কাইয়ুম এ বক্তব্য দেন। তিনি মূলত ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী ও এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম-এর ফলাফলের প্রতি ইঙ্গিত করেন, যিনি অল্প ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছেন।
শুক্রবার (১২ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে রাজধানীতে তার নির্বাচনী কার্যালয়ের সামনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে কাইয়ুম বলেন, নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে তার গুরুতর আপত্তি রয়েছে। তার দাবি, ভোটগ্রহণ ও গণনার পুরো প্রক্রিয়ায় ‘কারচুপি ও ইঞ্জিনিয়ারিং’ হয়েছে। বিশেষ করে পোস্টাল ভোটের মাধ্যমে ফলাফল প্রভাবিত করা হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, নির্বাচনের দিন অনেক কেন্দ্রে তার পোলিং এজেন্টদের বাধা দেওয়া হয় এবং কয়েকটি স্থানে সমর্থকদের ওপর হামলার ঘটনাও ঘটে।
তিনি আরও বলেন, “যে প্রার্থী অধিকাংশ কেন্দ্রে পোলিং এজেন্ট দিতে পারে না, তার পক্ষে বিপুল ভোট পাওয়া প্রশ্নবিদ্ধ। জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত সমর্থন থাকলে মাঠপর্যায়ে তার প্রতিফলন দেখা যেত।” কাইয়ুমের অভিযোগ, ‘জুলাইযোদ্ধা’ পরিচয় ব্যবহার করে ভোটারদের মধ্যে আবেগ সৃষ্টি ও বিভ্রান্তি ছড়ানো হয়েছে, যা নির্বাচনের সমতা নষ্ট করেছে।
নির্বাচনী ফলাফলের বিষয়ে তিনি নির্বাচন কমিশনে পুনরায় ভোট গণনার আবেদন করেছেন বলে জানান। কমিশনের পক্ষ থেকে সন্তোষজনক ব্যবস্থা না পেলে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ারও ঘোষণা দেন। তার দাবি, বিতর্কিত নির্বাচনের মধ্য দিয়ে সরকারের গ্রহণযোগ্যতা ক্ষুণ্ণ হয়েছে এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে।
নিম্নে সংশ্লিষ্ট আসনের নির্বাচনী প্রেক্ষাপট সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো—
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| আসন | ঢাকা-১১ |
| প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী | এম এ কাইয়ুম (বিএনপি), নাহিদ ইসলাম (১১ দলীয় জোট/এনসিপি) |
| নির্বাচনের ধরন | ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন |
| ফলাফল | নাহিদ ইসলাম অল্প ব্যবধানে বিজয়ী |
| অভিযোগ | কারচুপি, পোস্টাল ভোটে প্রভাব, এজেন্ট বাধা |
সংবাদ সম্মেলনে কাইয়ুম বলেন, তিনি সংসদ সদস্য বা মন্ত্রী না হলেও তার দল ক্ষমতায় যাওয়ার পথে রয়েছে এবং তিনি নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নে কাজ চালিয়ে যাবেন। বিশেষ করে তার নির্বাচনী এলাকাকে মাদক ও সন্ত্রাসমুক্ত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। “জনগণের আস্থা আমার শক্তি। আইনি ও রাজনৈতিকভাবে লড়াই চালিয়ে যাব,”— এমন মন্তব্য করেন তিনি।
বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের পর ফলাফল নিয়ে বিরোধী প্রার্থীদের আপত্তি নতুন নয়; তবে পুনর্গণনার আবেদন ও আইনি পদক্ষেপের ঘোষণা রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন উত্তেজনা সৃষ্টি করতে পারে। এখন দেখার বিষয়, নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত ও সম্ভাব্য আইনি প্রক্রিয়া এই বিতর্কের কী পরিণতি ডেকে আনে।