খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 6শে বৈশাখ ১৪৩২ | ১৯ই এপ্রিল ২০২৫ | 1149 Dhu al-Hijjah 5
গ্রামীণ সাংবাদিকতার পথিকৃৎ, সমাজ সংস্কারক, বাউল, সাধক ও সাহিত্যিক কাঙাল হরিনাথ মজুমদারের ১২৯তম প্রয়াণ দিবসে কুষ্টিয়ার কুমারখালী কাঙাল হরিনাথ স্মৃতি জাদুঘরে স্মরণসভার কোনো আয়োজন করা হয়নি। এছাড়াও উপজেলা প্রশাসন বা কোনো সংগঠনও দিবসটি পালন করেনি।
জাদুঘরে অবস্থিত তার ম্যুরালে জাদুঘরের কর্মচারীরা দায়সারাভাবে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও ফুলের মালা দিয়েছেন। এতে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেন কাঙাল হরিনাথের বংশধররা।
শুক্রবার (১৮ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ১০টায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কুমারখালী পৌরসভার কার্যালয়ের পাশে অবস্থিত গ্রামীণ সাংবাদিকতার পথিকৃৎ সাংবাদিক কাঙাল হরিনাথ মজুমদারের স্মৃতি জাদুঘরে সুনসান নীরবতা। প্রধান গেটে ঝুলছে তালা। চত্বরে অবস্থিত ম্যুরালে ফুলের মালা ও পুষ্পস্তবক রয়েছে।
এসময় জাদুঘরের নিরাপত্তাকর্মী রুহুল আমিন বলেন, জাদুঘরের তত্ত্বাবধায়ক তাপস কুমার মণ্ডল চলতি মাসের ৫ তারিখ যোগদান করেছেন। আজ কাঙাল হরিনাথের প্রয়াণ দিন। আবার আজই স্যারের (তত্ত্বাবধায়ক) বিয়ে। সেজন্য আলোচনা সভা ও অন্যান্য অনুষ্ঠান পেছানো হয়েছে। পরে করা হবে।
কোনো আয়োজন না থাকায় চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন কাঙাল হরিনাথের চতুর্থ বংশধর স্বর্গীয় অশোক মজুমদারের স্ত্রী গীতা রানী মজুমদার।
তিনি বলেন, কাঙাল ভাঙিয়ে কতজন বড়লোক হয়েছেন। তবে সেই কাঙাল কাঙালই আছেন। কাঙালের মতন যাচ্ছে তার তিরোধান দিবস।
তিনি আক্ষেপ করে বলেন, মানুষের মুক্তির জন্য কাজ করে গেছেন কাঙাল হরিনাথ। কিন্তু আজ কাঙালই বঞ্চিত। আমরাই সবচেয়ে বঞ্চিত, অনাহারে-অর্ধাহারে দিনাতিপাত করতে হয়। অরক্ষিত কাঙালের সমাধি ও ব্যবহৃত তৈজসপত্র। প্রশাসন তো দূরের কথা সাংবাদিকরাও এখন আর খোঁজখবর নেন না।
গীতা রাণীর ছেলে দেবাশীষ মজুমদার বলেন, সাংবাদিকরা কাঙালকে গুরু দাবি করেন। কিন্তু গুরুকে শুধু চার দেওয়ালের মধ্যে রেখে স্মরণ করলেই হবে না। কাঙালের সকল অনুষ্ঠান জাতীয়ভাবে পালন করতে হবে।
কাঙাল হরিনাথ ১৮৩৩ সালের ২২ জুলাই কুমারখালীর কুণ্ডুপাড়া এলাকায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ১৮৬৩ সালের এপ্রিল মাসে কুমারখালী থেকে গ্রামবার্তা প্রকাশিকা নামের একটি মাসিক পত্রিকা প্রকাশ শুরু করেন। তার স্মরণে কুমারখালীতে একটি স্মৃতি জাদুঘর নির্মাণ হয়েছে। কিন্তু অযত্ন-অবহেলায় নষ্ট হচ্ছে তার বাস্তুভিটা ও সমাধি।
এ বিষয়ে জানতে কাঙাল হরিনাথ স্মৃতি জাদুঘরের তত্ত্বাবধায়ক তাপস কুমার মণ্ডলকে ফোন দেওয়া হয়। তার ফোনটি অন্য একজন রিসিভ করে বলেন, তাপসের বিয়ের অনুষ্ঠান চলছে। পরে কথা বলে নিয়েন।
কাঙাল হরিনাথের অনুষ্ঠানগুলো সাধারণত জাদুঘর কর্তৃপক্ষ করে থাকে বলে ফোনে জানিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম মিকাইল ইসলাম। তিনি বলেন, আয়োজনের বিষয়টি জাদুঘর কর্তৃপক্ষ কিছু জানায়নি। খোঁজ নিয়ে দেখা হচ্ছে।
খবরওয়ালা/এমইউ