খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 7শে মাঘ ১৪৩২ | ২০ই জানুয়ারি ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
নাইজেরিয়ার উত্তরাঞ্চলীয় কাদুনা রাজ্যের কুরমিন ওয়ালি এলাকায় দুটি গির্জায় সশস্ত্র হামলায় অন্তত ১৬৩ জন পুণ্যার্থীকে অপহরণ করেছে দুর্বৃত্তরা। ঘটনাটি ঘটেছে গত রোববার, যখন স্থানীয়রা সাপ্তাহিক প্রার্থনাসভায় উপস্থিত ছিলেন। হামলাকারীরা গির্জার প্রবেশপথগুলো বন্ধ করে পুণ্যার্থীদের জোরপূর্বক পাশের ঝোপঝাড়ে নিয়ে যায়, যা স্থানীয়রা ‘ভয়াবহতা ও বিশৃঙ্খলা’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
নাইজেরিয়ার খ্রিস্টান অ্যাসোসিয়েশনের প্রধান রেভারেন্ড জোসেফ হায়াব বলেন, “মোট ১৭২ জনকে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল, তবে ৯ জন পালিয়ে আসতে সক্ষম হয়েছেন। বর্তমানে ১৬৩ জন বন্দী অবস্থায় রয়েছেন।”
স্থানীয় গ্রামপ্রধান ইশাকু দানআজুমি জানান, ওই দিন কুরমিন ওয়ালি গ্রামের তিনটি গির্জা থেকে মোট ১৬৬ জনকে অপহরণ করা হয়েছে। তিনি অভিযোগ করে বলেন, “কেবল রাজনীতিবিদরাই আমাদের লোকজনকে অপহরণের বিষয়টি অস্বীকার করছেন।”
তবে কাদুনা রাজ্য পুলিশ ও নিরাপত্তা কর্মকর্তারা এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন। রাজ্য পুলিশ কমিশনার মুহাম্মদ রাবিউ জানিয়েছেন, “এ পর্যন্ত অপহরণের কোনো প্রমাণ আমাদের কাছে নেই।” রাজ্যের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা কমিশনার সুলে শাউইবু এই ঘটনাকে ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
গ্রামপ্রধান ইশাকু বলেন, “আমাদের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে বন্দুকধারীদের আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে। অপহরণের ভয়ে চাষাবাদও উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। আগে আমরা মুক্তিপণের মাধ্যমে ১০ থেকে ২০ জনকে উদ্ধার করতাম, কিন্তু এবার পরিস্থিতি এত সংকটময় যে আমরা আর কিছু করতে পারছি না। তাই আমরা কর্তৃপক্ষের সহায়তা চেয়েছি।”
বিশেষজ্ঞদের মতে, নাইজেরিয়ায় অপহরণ এখন একটি ‘লাভজনক পেশা’তে পরিণত হয়েছে। ২০২৪ সালের জুলাই থেকে ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো দেশজুড়ে মুক্তিপণ হিসেবে প্রায় ১৬ লাখ ৬০ হাজার ডলার আদায় করেছে।
নিচের টেবিলটি ২০২৪-২৫ সালের অপহরণ ও মুক্তিপণ সম্পর্কিত তথ্য সংক্ষেপে তুলে ধরেছে:
| সময়কাল | অপহৃতের সংখ্যা | আদায়কৃত মুক্তিপণ (USD) | লক্ষ্য গোষ্ঠী | মন্তব্য |
|---|---|---|---|---|
| জুলাই ২০২৪–জুন ২০২৫ | প্রায় ১,৬০০ জন | ১,৬৬০,০০০ | সশস্ত্র গোষ্ঠী | লাভজনক অপহরণ রূপান্তর |
নাইজেরিয়ার উত্তরের এই ক্রমবর্ধমান সন্ত্রাস ও অপহরণের ঘটনা স্থানীয় জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা ও জীবনমানের জন্য গুরুতর হুমকি হিসেবে দেখা যাচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা দৃঢ় না হলে এই ধরনের হামলা ও অপহরণ আরও বৃদ্ধি পাবে।