খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 12শে ফাল্গুন ১৪৩২ | ২৪ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
বলিউড অভিনেতা রণবীর সিং বর্তমানে এক আইনি জটিলতার আবর্তে পড়েছেন। বহুল আলোচিত চলচ্চিত্র ‘কান্তারা ২’-এর প্রেক্ষাপটে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে দায়ের করা একটি মামলা বাতিলের আবেদন নিয়ে তিনি কর্ণাটক হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন। উপকূলীয় কর্ণাটকের প্রাচীন ও পবিত্র লোকজ ঐতিহ্যকে বিদ্রূপ করার অভিযোগে বেঙ্গালুরুতে দায়ের হওয়া এই মামলাটি এখন উচ্চ আদালতের শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে।
২০২৫ সালের ২৮ নভেম্বর গোয়ায় অনুষ্ঠিত ‘আন্তর্জাতিক ফিল্ম ফেস্টিভাল অব ইন্ডিয়া’ (IFFI)-এর সমাপনী অনুষ্ঠানে রণবীর সিং একটি বিশেষ পারফরম্যান্স প্রদান করেন। অভিযোগ উঠেছে, সেই মঞ্চে রণবীর এমন কিছু মন্তব্য এবং অঙ্গভঙ্গি করেছেন যা কর্ণাটকের ঐতিহ্যবাহী ‘দৈব’ সংস্কৃতির অবমাননা করেছে। বেঙ্গালুরুভিত্তিক আইনজীবী প্রশান্ত মেথাল গত ২ ডিসেম্বর একটি ইনস্টাগ্রাম ভিডিওতে রণবীরের সেই পারফরম্যান্স দেখে ক্ষুব্ধ হন। তার দাবি অনুযায়ী, রণবীর সিং উপকূলীয় কর্ণাটকের অত্যন্ত শ্রদ্ধেয় পঞ্জুরলি ও গুলিগা দৈবের অভিব্যক্তি বিকৃতভাবে নকল করেছেন। সবচেয়ে বিতর্কিত বিষয় ছিল, অভিনেতা ‘চাভুন্ডি দৈব’কে জনসমক্ষে “মেয়ে ভূত” বলে সম্বোধন করেন।
উপকূলীয় কর্ণাটকে ‘চাভুন্ডি দৈব’ কোনো সাধারণ সত্তা নন; তাঁকে দেবীশক্তির প্রতীক এবং ওই অঞ্চলের রক্ষাকর্তা হিসেবে পরম শ্রদ্ধার সঙ্গে পূজা করা হয়। স্থানীয়দের বিশ্বাস ও সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ এই দৈব ঐতিহ্য। প্রশান্ত মেথালের মতে, তাঁকে ‘ভূত’ হিসেবে অভিহিত করা কেবল একটি ভুল শব্দচয়ন নয়, বরং কোটি কোটি ভক্তের ধর্মীয় বিশ্বাসে কুঠারাঘাত এবং পবিত্র ঐতিহ্যকে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করার একটি অপপ্রয়াস।
২০২৫ সালের ২৭ ডিসেম্বর বিষয়টি নিয়ে প্রথম একটি ব্যক্তিগত অভিযোগ দায়ের করা হয়। পরবর্তীতে ২০২৬ সালের ২৩ জানুয়ারি আদালতের নির্দেশে বেঙ্গালুরুর হাই গ্রাউন্ডস থানায় ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS)-এর বিভিন্ন ধারায় একটি এফআইআর (FIR) নথিভুক্ত করা হয়।
মামলার প্রধান আইনি দিকগুলো নিচে একটি তালিকার মাধ্যমে উপস্থাপন করা হলো:
| বিষয় | বিবরণ |
| অভিযুক্ত | রণবীর সিং (বলিউড অভিনেতা) |
| অভিযোগকারী | প্রশান্ত মেথাল (আইনজীবী) |
| অভিযোগের স্থান | গোয়া আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব (IFFI), ২০২৫ |
| দায়েরকৃত ধারা | ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS) ১৯৬, ২৯৯ ও ৩০২ |
| মূল অভিযোগ | ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত ও দৈব সংস্কৃতির অবমাননা |
| বর্তমান অবস্থা | কর্ণাটক হাইকোর্টে মামলা বাতিলের আবেদন জমা |
| পরবর্তী শুনানি | ৮ এপ্রিল, ২০২৬ (নিম্ন আদালত) |
জানা গেছে, বেঙ্গালুরুর প্রথম অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এই মামলার পরবর্তী শুনানির দিন নির্ধারণ করা হয়েছে আগামী ৮ এপ্রিল। তবে রণবীর সিংয়ের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে, তার কোনো কাজই বিদ্বেষপ্রসূত ছিল না এবং তিনি কেবল শৈল্পিক অঙ্গনা থেকেই পারফর্ম করেছেন। এফআইআর-এ উল্লিখিত ধারাগুলো তার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয় বলে দাবি জানিয়ে তিনি কর্ণাটক হাইকোর্টে কোয়াশিং পিটিশন বা মামলা বাতিলের আবেদন করেছেন।
‘কান্তারা’ ফ্র্যাঞ্চাইজিটি এমনিতেই ভারতের লোকজ সংস্কৃতিকে বিশ্বদরবারে তুলে ধরে প্রশংসা কুড়িয়েছে। এর সিক্যুয়েল নিয়ে যখন উত্তেজনা তুঙ্গে, তখন একজন প্রথম সারির অভিনেতার বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ আসায় ভক্তদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। সাংস্কৃতিক বিশ্লেষকদের মতে, আধুনিক বিনোদন মাধ্যমে প্রাচীন ঐতিহ্য তুলে ধরার সময় যথাযথ সতর্কতা ও শ্রদ্ধা বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি।
কর্ণাটক হাইকোর্ট রণবীর সিংয়ের এই আবেদন গ্রহণ করে নাকি মামলা চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেয়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে আছে আইনি ও বিনোদন বিশ্ব।