খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 11শে জ্যৈষ্ঠ ১৪৩২ | ২৫ই মে ২০২৫ | 1149 Dhu al-Hijjah 5
ছোট্ট এক দোকান। কথা বলার সময় নেই কারও। কেউ হাপর টানছেন। কেউবা আগুনে কয়লা দিচ্ছেন। জ্বলন্ত আগুন থেকে লোহা তুলে সমানতালে পেটাচ্ছেন তারা। সেই পেটানো তপ্ত লোহা থেকে তৈরি হচ্ছে দা, বটি, ছুরি কুড়াল, চপাতিসহ বিভিন্ন ধরনের ধারালো অস্ত্র। চারপাশে হাতুড়ির টুং-টাং শব্দ। চেহারায় ক্লান্তি, তবুও থেমে নেই হাতের কাজ।
ঈদুল আজহা সামনে রেখে এমনই দৃশ্য দেশের বেশিরভাগ কামারপাড়ায়। কোরবানির পশু জবাই ও মাংস প্রস্তুতের নানা সরঞ্জাম তৈরিতে এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন কামাররা।
আগে মানুষ হাতে তৈরি জিনিসেই ভরসা করত। এখন সব কিছুই চায় দোকান থেকে কিনে নিতে।
সাধারণত সারা বছর কাজ থাকে না। কোরবানির আগে এই সময়টাতেই মূল আয় হয় কামারদের। এই আয়ে ভর করেই সারাবছর চলতে হয় তাদের। আগুনের তাপে কপাল থেকে টপটপ করে ঘাম ঝরে, তবুও হাত থামানোর সুযোগ নেই যেন।
চাকু, দা, বটি, চাপাতি—সবই তৈরি হচ্ছে এখন। পাশাপাশি পুরোনো দা-বটির শান দিতেও আসছেন ক্রেতারা। দামও কিছুটা বেশি। চাকুর দাম ৩০০–৪০০ টাকা, দা ১২০০–২০০০ টাকা, কেজি দরে চাপাতি বিক্রি হচ্ছে। পুরোনো ছুরি বা বটি শান দিতে লাগছে ১০০–২০০ টাকা পর্যন্ত।
কামারপাড়ায় সরঞ্জাম কিনতে আসা এক ক্রেতা বলেন, “গত বছর যে দা ১২০০ টাকায় কিনেছিলাম, এবার সেটা ১৬০০ চাইছে। লোহার দাম বেড়েছে, তাই কামাররাও দাম একটু বাড়িয়েছে।”
দাম বাড়লেও হাতে তৈরি যন্ত্রপাতির ধার ও স্থায়িত্ব বেশি, তাই এসব সরঞ্জাম কিনতেই কামারপাড়ায় ছুটে আসেন।
কামার পেশাটি এক সময় গ্রামীণ জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিল। এখন সেই কদর কমে গেলেও ঈদুল আজহার মতো উৎসব সামনে এলে আবারও যেন ফিরে আসে পুরোনো দিনের আমেজ। ঈদের এখনও বেশ কিছুদিন বাকি থাকায় ক্রেতার চাপ এখনো তেমন বাড়েনি। তবে কামাররা বলছেন, শেষ মুহূর্তে ভিড় বেড়ে যাবে। তাই আগেভাগেই প্রস্তুতি নিচ্ছেন তারা।
আমাদের সমাজে কামাররা হয়তো আলোচিত হন না, কিন্তু তাদের তৈরি করা সরঞ্জাম ছাড়া ঈদুল আজহার প্রস্তুতিও অসম্পূর্ণ থেকে যায়। ঘাম, আগুন, লোহা আর টুংটাং শব্দ—এই নিয়েই যেন গড়ে উঠেছে ঈদের এক অনন্য প্রস্তুতির গল্প।
খবরওয়ালা/এন