পাকিস্তান সুপার লিগের সদ্য সমাপ্ত আসর শেষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট বিষয়ক স্বনামধন্য বিশ্লেষণ সংস্থা উইজডেন ক্রিকেটার্স টুর্নামেন্টের সেরা একাদশ ঘোষণা করেছে। এবারের তালিকায় বাংলাদেশের তরুণ পেসার নাহিদ রানা জায়গা করে নিয়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছেন। পেশোয়ার জালমি দলের হয়ে সীমিত সুযোগ পেলেও নিজের গতি, নিয়ন্ত্রণ এবং ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের মাধ্যমে তিনি নির্বাচকদের আস্থা অর্জন করেছেন।
নাহিদ রানা পুরো আসরে মাত্র পাঁচটি ম্যাচ খেলার সুযোগ পান। তবে এই অল্প ম্যাচেই তিনি ৯টি উইকেট শিকার করেন, যা তার কার্যকারিতা এবং দক্ষতার পরিচয় বহন করে। তার বোলিং গড় ছিল প্রায় ১০-এর কাছাকাছি, যা প্রতিযোগিতামূলক লিগে একজন পেসারের জন্য অত্যন্ত প্রশংসনীয়। একই সঙ্গে তার ইকোনমি রেটও ছিল নিয়ন্ত্রিত, যা তাকে আরও কার্যকর বোলার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
তার বোলিংয়ের প্রধান শক্তি ছিল উচ্চগতির ডেলিভারি, নিখুঁত ইয়র্কার এবং বৈচিত্র্যপূর্ণ শর্ট বল। প্রতিপক্ষ ব্যাটসম্যানদের জন্য তার গতি সামলানো বেশ কঠিন হয়ে ওঠে, বিশেষ করে ডেথ ওভারে তিনি ধারাবাহিকভাবে চাপ সৃষ্টি করতে সক্ষম হন। বাংলাদেশ ও নিউজিল্যান্ড সিরিজে অংশ নিতে দেশে ফিরে গেলেও টুর্নামেন্টের গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে আবার দলে ফিরে এসে তিনি ফাইনাল ম্যাচেও উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখেন।
উইজডেনের ঘোষিত সেরা একাদশে নেতৃত্ব দিয়েছেন বাবর আজম, যিনি পেশোয়ার জালমিকে শিরোপা জেতাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ওপেনিং জুটিতে ছিলেন সাহিবজাদা ফারহান ও উইকেটরক্ষক ব্যাটার কুশল মেন্ডিস। মিডল অর্ডারে জায়গা পেয়েছেন শান মাসুদ এবং উসমান খান। অলরাউন্ড বিভাগে শাদাব খান ও অ্যারন হার্ডির অন্তর্ভুক্তি দলকে ভারসাম্যপূর্ণ করেছে। বোলিং বিভাগে নাহিদ রানার সঙ্গে আছেন হুনাইন শাহ, মোহাম্মদ আলী এবং সুফিয়ান মুকিম।
নিচে পিএসএলের সেরা একাদশের পূর্ণ তালিকা উপস্থাপন করা হলো—
| ক্রমিক |
খেলোয়াড়ের নাম |
ভূমিকা |
| ১ |
বাবর আজম |
ব্যাটসম্যান (অধিনায়ক) |
| ২ |
সাহিবজাদা ফারহান |
ব্যাটসম্যান |
| ৩ |
কুশল মেন্ডিস |
উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান |
| ৪ |
শান মাসুদ |
ব্যাটসম্যান |
| ৫ |
উসমান খান |
ব্যাটসম্যান |
| ৬ |
শাদাব খান |
অলরাউন্ডার |
| ৭ |
অ্যারন হার্ডি |
অলরাউন্ডার |
| ৮ |
হুনাইন শাহ |
বোলার |
| ৯ |
মোহাম্মদ আলী |
বোলার |
| ১০ |
সুফিয়ান মুকিম |
বোলার |
| ১১ |
নাহিদ রানা |
বোলার |
নাহিদ রানার এই অর্জন বাংলাদেশের ক্রিকেটের জন্যও ইতিবাচক বার্তা বহন করে। আন্তর্জাতিক ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে তার মতো তরুণ পেসারের এমন পারফরম্যান্স ভবিষ্যতে জাতীয় দলের পেস আক্রমণকে আরও শক্তিশালী করার সম্ভাবনা তৈরি করছে। সীমিত সুযোগে এমন পারফরম্যান্স প্রমাণ করে যে তিনি বড় মঞ্চে নিজেকে আরও প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম।