খবরওয়ালা আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১ জুলাই ২০২৫
তুরস্কের ইস্তাম্বুলে ইসলাম ধর্মের নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-কে নিয়ে ব্যঙ্গচিত্র প্রকাশের অভিযোগে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। সোমবার (৩০ জুন) ‘লে মান’ নামের একটি ব্যঙ্গাত্মক পত্রিকায় প্রকাশিত একটি কার্টুনকে কেন্দ্র করে দিনভর বিক্ষোভ ও সহিংসতা ঘটে। অভিযোগ উঠেছে, কার্টুনটিতে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করা হয়েছে।
ইস্তাম্বুলের প্রধান কৌঁসুলির দপ্তর থেকে ‘লে মান’ পত্রিকার প্রধান সম্পাদক তুনচাই আকগুনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। একইসঙ্গে চিত্রকরের পাশাপাশি গ্রাফিক ডিজাইনারকেও আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তুরস্কের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আলী ইয়েরলিকায়া। তিনি আরও বলেন, ‘ধর্মীয় মূল্যবোধে আঘাতের কোনো ছাড় নেই, জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
ঘটনার পর ক্ষুব্ধ জনতা ওই পত্রিকার সাংবাদিকদের নিয়মিত যাতায়াতকারী একটি বারে হামলা চালায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও রাবার বুলেট ছুড়ে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, সংঘর্ষে প্রায় ২৫০ থেকে ৩০০ জন জড়িত ছিল।
তবে ‘লে মান’ পত্রিকার প্রধান সম্পাদক আকগুন অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, ‘কার্টুনটি কোনোভাবেই হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর ছবি নয়। এটি ফিলিস্তিনের এক শিশুর কল্পিত নাম ‘মুহাম্মদ’ ব্যবহার করে তৈরি চিত্র। এখানে ধর্ম অবমাননার কোনো উদ্দেশ্য ছিল না।’
পত্রিকাটি একাধিক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্টে দাবি করেছে, কার্টুনটির মাধ্যমে ইসরায়েলের হাতে নিহত এক মুসলমানের প্রতি সহমর্মিতা জানানো হয়েছে। তারা বলেছে, ‘এই চিত্র বিকৃতভাবে উপস্থাপন করে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তোলা হচ্ছে, যা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’
যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান জানিয়েছে, ১৯৯১ সালে প্রতিষ্ঠিত লে মান পত্রিকাটি রাজনৈতিক ব্যঙ্গচিত্র প্রকাশের জন্য পরিচিত। বিশেষ করে, ২০১৫ সালে ফরাসি ম্যাগাজিন শার্লি হেবদো–র প্রতি সমর্থন জানানোর পর থেকেই এটি রক্ষণশীল ধর্মীয় গোষ্ঠীর নজরে আসে।
তুরস্কের বিচারমন্ত্রী ও ইস্তাম্বুলের গভর্নর এ ঘটনায় নিন্দা জানিয়ে বলেছেন, ‘ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত কখনোই বরদাশত করা হবে না।’ বর্তমানে ঘটনার তদন্ত চলছে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রেখেছে।
খবরওয়ালা/আরডি