আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: 29শে আশ্বিন ১৪৩২ | ১৪ই অক্টোবর ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
ভারতের তিনটি কাশির ওষুধ ব্যবহারে এবং বিতরণে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে সতর্কতা জারি করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)।
সোমবার প্রকাশিত এক স্বাস্থ্য সতর্কতায় ডব্লিউএইচও জানিয়েছে, ভারতে তিনটি দূষিত কাশির ওষুধ শনাক্ত করা হয়েছে। গত এক মাসে বেশ কয়েকজন শিশুর মৃত্যুর সঙ্গে এই ওষুধগুলোর সেবনকে দায়ী করা হচ্ছে। এসব ওষুধ যদি দেশে পাওয়া যায়, তাহলে তা দ্রুত ডব্লিউএইচওকে জানাতে বলা হয়েছে।
ডব্লিউএইচও বিবৃতিতে এই ওষুধগুলোর নাম উল্লেখ করা হয়েছে—
১. স্রেসান ফার্মাসিটিক্যালসের কোল্ডরিফ
২. রেডনেক্স ফার্মাসিটিক্যালসের রেসপিফ্রেশ
৩. শেপ ফার্মার রিলাইফ
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এসব ওষুধে ক্ষতিকর উপাদান রয়েছে যা গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে এবং জীবন-সংহারী অসুস্থতার কারণ হতে পারে। বিশেষত শিশুদের ক্ষেত্রে এই উপাদান গুরুতর শারীরিক ক্ষতি বা মৃত্যুর কারণ হতে পারে।
পরীক্ষায় দেখা গেছে, ওষুধগুলোতে বিষাক্ত ডাইইথিলিন গ্লাইকল (Diethylene Glycol) পাওয়া গেছে, যা অনুমোদিত সীমার প্রায় ৫০০ গুণ বেশি।
ডব্লিউএইচও জানিয়েছে, ভারতের রাজ্য কর্তৃপক্ষ তিনটি ওষুধ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানের উৎপাদন সঙ্গে সঙ্গে বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছে এবং তাদের পণ্যের অনুমোদন সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে। দূষিত পণ্যগুলো বাজার থেকে ফেরত নেওয়া (রিকল) হয়েছে এবং ভারত থেকে রপ্তানি করা হয়নি।
ভারতের কেন্দ্রীয় ওষুধ মান নিয়ন্ত্রণ সংস্থা (সিডিএসসিও) জানিয়েছে, এই কাশির ওষুধগুলো মধ্যপ্রদেশের ছিন্দওয়ারা জেলায় পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের দ্বারা সেবন করা হয়েছিল, যার ফলে তাদের মৃত্যু হয়েছে।
মধ্যপ্রদেশের ছিন্দওয়ারা জেলার সুপারিন্টেনডেন্ট অজাউ পাণ্ডে গত ৫ অক্টোবর এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, শুরুর দিকে শিশুদের কাশি ও সর্দি দেখা দিয়েছিল, এরপর কিডনির সমস্যা হয়ে মৃত্যু ঘটে।
তিনি আরও জানান, পরে তদন্তে পাওয়া গেছে, মৃত্যুর কারণ ডাইথিলিন গ্লাইকোল (ডিইজি)-এর মাত্রা অনুমোদিত সীমার চেয়ে অনেক বেশি ছিল।
সিডিএসসিও আরও জানিয়েছে, এসব দূষিত ওষুধ ভারত থেকে রপ্তানি করা হয়নি এবং অবৈধভাবে রপ্তানির কোনো প্রমাণ মেলেনি।
বিশ্বের বৃহত্তম জেনেরিক ওষুধ রপ্তানিকারক দেশ ভারতের কিছু ওষুধ ২০২৩ সালে উজবেকিস্তান ও গাম্বিয়ায় শিশু মৃত্যুর সঙ্গে সম্পর্কিত বলে প্রমাণিত হয়েছিল।
ডব্লিউএইচও জানিয়েছে, এটি প্রথম ঘটনা নয়; ভারতের তৈরি কাশির ওষুধে বিষাক্ত উপাদানের উপস্থিতি আগে আরও ধরা পড়েছে। গাম্বিয়ায় ৬০টির বেশি শিশুর মৃত্যু এবং ইন্দোনেশিয়ায় ২০ শিশুর মৃত্যুর জন্যও এই কাশির সিরাপগুলোকে দায়ী করা হয়েছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন (এফডিএ) শুক্রবার নিশ্চিত করেছে, এ ধরনের বিষাক্ত কাশির ওষুধ যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো হয়নি।
খবরওয়ালা/শরিফ