খবরওয়ালা আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: 18শে বৈশাখ ১৪৩২ | ১ই মে ২০২৫ | 1149 Dhu al-Hijjah 5
কাশ্মীরের পেহেলগামে গত ২২ এপ্রিল সংঘটিত হামলায় অন্তত ২৬ জন নিহত হয়েছেন। হামলার পর থেকে চার সন্দেহভাজন হামলাকারী এখনো পলাতক রয়েছে এবং ধারণা করা হচ্ছে, তারা দক্ষিণ কাশ্মীরের ঘন জঙ্গলে আত্মগোপনে রয়েছে।
ভারতের জাতীয় তদন্ত সংস্থা (NIA) মনে করছে, এসব হামলাকারী ‘স্বনির্ভর’ বা স্বচালিত প্রকৃতির। এনআইএ সূত্রের বরাতে এনডিটিভি জানিয়েছে, পলাতক হামলাকারীদের কাছে পর্যাপ্ত খাদ্য, অস্ত্র ও সরঞ্জাম রয়েছে, যার ফলে তারা বাইরের সহায়তা ছাড়াই দীর্ঘদিন গা ঢাকা দিয়ে থাকতে পারছে।
সংস্থাটির একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, হামলাকারীরা তাদের প্রয়োজনীয় রসদ সঙ্গে নিয়ে আসে এবং বাইরের যোগাযোগ না থাকায় তারা নিরাপত্তা বাহিনীর নজর এড়িয়ে যাচ্ছে। এটি সেই সন্দেহকে আরও জোরালো করছে যে, তারা সরাসরি পাকিস্তান থেকে কোনো সাহায্য পাচ্ছে না, বরং আগে থেকেই প্রশিক্ষিত ও প্রস্তুত হয়ে ভারতে ঢুকেছে।
হামলার পরপরই ভারত পাকিস্তানের দিকে অভিযোগের আঙুল তোলে। দিল্লি দাবি করে, এ হামলার পরিকল্পনা ও সমর্থন পাকিস্তান থেকেই এসেছে। এই হামলাকে ২০১৯ সালের পুলওয়ামা হামলার পর সবচেয়ে বড় জঙ্গি হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
হামলার ঘটনায় সারা বিশ্ব নিন্দা জানালেও, ভারতের প্রতিক্রিয়া ছিল সরাসরি ও কঠোর। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ঘোষণা করেন, শুধু হামলাকারীদের নয়, তাদের পরিকল্পনাকারীদের বিরুদ্ধেও প্রতিশোধ নেওয়া হবে।
প্রাথমিক প্রতিক্রিয়ায় ভারত পাকিস্তানের বিরুদ্ধে একাধিক কূটনৈতিক পদক্ষেপ নেয়, যার মধ্যে ছিল-পাকিস্তানি নাগরিকদের বহিষ্কার,সিন্ধু পানিচুক্তি স্থগিত,আকাশপথে পাকিস্তান-ভারত বিমান চলাচল বন্ধ। পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় পাকিস্তানও ভারতীয়দের বহিষ্কার করে এবং ঐতিহাসিক শিমলা চুক্তি স্থগিত করে দেয়। বর্তমানে দুই দেশের মধ্যকার আকাশপথ বন্ধ এবং কূটনৈতিক সম্পর্ক চরম অবনতির দিকে।
বুধবার ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল এবং প্রতিরক্ষা প্রধান জেনারেল অনিল চৌহান-এর সঙ্গে উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক করেন। বৈঠকে সেনাবাহিনীকে ‘প্রতিআক্রমণের অনুমতি’ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর।
এরই মধ্যে সীমান্তে উত্তেজনা বাড়তে শুরু করেছে। বৃহস্পতিবার সকালে জম্মু-কাশ্মীরের কুপওয়ারা, উরি এবং আখনূর সেক্টরে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী বিনা উসকানিতে গুলি চালায় বলে ভারতের দাবি। ভারতও পাল্টা জবাব দেয়, যা গত সাত দিনের ধারাবাহিক সীমান্ত লঙ্ঘনেরই অংশ।
খবরওয়ালা/এমবি