খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬
মালয়েশিয়া থেকে ২৬ হাজার টন অকটেন নিয়ে হংকং পতাকাবাহী জাহাজ কুইচি চট্টগ্রাম বন্দরে এসে পৌঁছেছে। বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) সকালে জাহাজটি বন্দরের বহির্নোঙরে নোঙর করে। জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে চলতি মাসে এটি তৃতীয় বড় চালান হিসেবে এসেছে।
বন্দর ও সংশ্লিষ্ট এজেন্ট সূত্রে জানা গেছে, জাহাজটি বহির্নোঙরে পৌঁছানোর পর প্রাথমিক প্রস্তুতি শেষে আজ দুপুর থেকেই তেল খালাস কার্যক্রম শুরু হবে। এ কার্যক্রম পরিচালনা করছে স্থানীয় এজেন্ট প্রতিষ্ঠান প্রাইড শিপিং লাইন। প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আবহাওয়ার পরিস্থিতি ও বন্দরের জেটি ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতার কারণে খালাস প্রক্রিয়ায় কিছুটা সময় লাগতে পারে।
চলতি এপ্রিল মাসে মোট তিনটি পৃথক জাহাজে বড় আকারের অকটেন চালান এসেছে। এর মধ্যে ৮ এপ্রিল একটি জাহাজে ২৬ হাজার টন এবং ১৭ এপ্রিল আরেকটি জাহাজে ২৭ হাজার টন অকটেন আসে। সর্বশেষ কুইচি জাহাজে যুক্ত হয়েছে আরও ২৬ হাজার টন। ফলে এক মাসেই মোট ৭৯ হাজার টন অকটেন দেশে পৌঁছেছে।
জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাপনা সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, দেশে দৈনিক অকটেনের চাহিদা প্রায় ১২০০ টন। সেই হিসাবে এপ্রিল মাসে আসা এই তিনটি চালান দিয়ে প্রায় দুই মাসের বেশি সময়ের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হবে।
প্রাইড শিপিং লাইনের স্বত্বাধিকারী নজরুল ইসলাম জানিয়েছেন, বর্তমানে বহির্নোঙরে অকটেন ও ডিজেলসহ জ্বালানি বহনকারী আরও পাঁচটি জাহাজ অবস্থান করছে। পাশাপাশি বুধবার থেকেই তিনটি জাহাজ বন্দরের নির্ধারিত জেটিতে ভেড়ে তেল খালাস কার্যক্রম শুরু করেছে। তবে বন্দরের অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা এ ক্ষেত্রে বড় একটি চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তিনি আরও জানান, বন্দরে ডলফিন জেটির সংখ্যা মাত্র তিনটি হওয়ায় একসঙ্গে অনেক জাহাজকে বার্থিং দেওয়া সম্ভব হয় না। এতে করে জাহাজগুলোকে বহির্নোঙরে অপেক্ষা করতে হয় এবং খালাস কার্যক্রম ধীরগতিতে সম্পন্ন হয়। এ ছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে আবহাওয়া খারাপ থাকায় কার্গো খালাস কার্যক্রমে অতিরিক্ত জটিলতা তৈরি হয়েছে।
নিচে সাম্প্রতিক অকটেন চালানের একটি সংক্ষিপ্ত চিত্র দেওয়া হলো—
| তারিখ | জাহাজ | পরিমাণ (টন) | উৎস দেশ |
|---|---|---|---|
| ৮ এপ্রিল | অনির্দিষ্ট জাহাজ | ২৬,০০০ | মালয়েশিয়া |
| ১৭ এপ্রিল | অনির্দিষ্ট জাহাজ | ২৭,০০০ | মালয়েশিয়া |
| ৩০ এপ্রিল | কুইচি | ২৬,০০০ | মালয়েশিয়া |
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ধারাবাহিকভাবে বড় আকারের জ্বালানি চালান আসায় আপাতত সরবরাহ পরিস্থিতি স্বস্তিদায়ক রয়েছে। তবে বন্দরের অবকাঠামো উন্নয়ন ও জেটি সক্ষমতা বাড়ানো না গেলে ভবিষ্যতে জাহাজ জট ও খালাস বিলম্বের ঝুঁকি থেকে যেতে পারে।