খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ১ ডিসেম্বর ২০২৫
কুড়িগ্রামে বীর প্রতীক তারামন বিবির সপ্তম মৃত্যুবার্ষিকী স্মরণে অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার বাদ যোহর কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার হলোখানা ইউনিয়নের আরাজী পলাশবাড়ী এলাকায় তাঁর বাসভবনে মিলাদ ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়।
দোয়া মাহফিল পরিচালনা করেন আরাজী পলাশবাড়ী দারুস সালাম জামে মসজিদের পেশ ইমাম মাওলানা আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ। একই দিনে রাজিবপুরে তাঁর কবরেও উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন ও দোয়া করা হয়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ফজলে এলাহী জানান, উপজেলা প্রশাসন থেকে তাঁর কবর জিয়ারত ও শ্রদ্ধা জানানো হয়েছে।
মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তাকে ‘বীর প্রতীক’ খেতাব দেওয়া হলেও দীর্ঘ ২৫ বছর তিনি এ সম্মানের কথা জানতে পারেননি। ১৯৯৫ সালের শেষের দিকে ঢাকায় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া তাঁর হাতে পদক তুলে দেন। দেশের ইতিহাসে বীর প্রতীক পাওয়া দুই নারীর একজন তিনি।
১৯৫৭ সালে কুড়িগ্রামের রাজিবপুর উপজেলার শংকর মাধবপুর গ্রামে আবদুস সোহবান ও কুলসুম বিবির ঘরে জন্ম নেন তারামন বিবি। দারিদ্র্য ও সংগ্রামের মধ্যে বেড়ে ওঠা তারামন বিবি সাত ভাইবোনের মধ্যে তৃতীয় ছিলেন এবং কম বয়সেই অন্যের বাড়িতে কাজ করতেন। ১৯৭১ সালে মাত্র ১৪ বছর বয়সে যোগ দেন মুক্তিযুদ্ধে।
শুরুতে মুক্তিযোদ্ধাদের রান্না, তথ্য সরবরাহ, অস্ত্র লুকিয়ে রাখা ও খবর সংগ্রহের কাজ করতেন তিনি। পরে রাইফেল চালানো শেখেন এবং সম্মুখ সমরে অংশ নিয়ে প্রকৃত যোদ্ধা হিসেবে পরিচিতি পান।
১৯৭৩ সালে তাঁর সাহসিকতার স্বীকৃতিতে বাংলাদেশ সরকার তাকে ‘বীর প্রতীক’ খেতাব দেয়। কিন্তু দীর্ঘদিন তাঁর প্রকৃত পরিচয় অজানা ছিল। ১৯৯৫ সালে গবেষক বিমল কান্তি ও আবদুস সবুর ফারুকীর উদ্যোগে তাকে পুনরায় খুঁজে পাওয়া যায় এবং ঢাকায় এনে তাঁর পরিচিতি প্রকাশ করা হয়।
তারামন বিবিকে নিয়ে লেখক ও সাংবাদিক আনিসুল হক ‘বীর প্রতীকের খোঁজে’ নামের বই লেখেন। তাঁর আরেক নাটক ‘করিমন বেওয়া’র কেন্দ্রীয় চরিত্রও ছিলেন তিনি।
২০১৮ সালের ১ ডিসেম্বর কুড়িগ্রামের রাজিবপুর উপজেলার কাচারীপাড়ায় নিজ বাড়িতে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাঁকে নিজ বাড়িতেই দাফন করা হয়।
খবরওয়ালা/এসএস