খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 9শে কার্তিক ১৪৩২ | ২৪ই অক্টোবর ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত হলে জুনিয়র শিক্ষার্থীদের হাতে র্যাগিং-সদৃশ দুর্ব্যবহার, হুমকি ও অপমানের শিকার হয়েছেন ইনফরমেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশন টেকনোলজি (আইসিটি) বিভাগের ২০২২–২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী দ্বীন ইসলাম হৃদয়।
এ ঘটনায় ব্যক্তিগত নিরাপত্তাহীনতার অভিযোগ জানিয়ে তিনি বৃহস্পতিবার (২৩ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর বরাবর লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন।
অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, প্রায় এক মাস আগে হল প্রশাসনের মাধ্যমে শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত হলের ১০৪ নম্বর (গণরুম) সিট পান। সেখানে বাকি শিক্ষার্থীরা ছিলেন ১৮তম আবর্তনের। সহাবস্থানে সমস্যা দেখা দিলে প্রভোস্টের নির্দেশে গত ১৯ অক্টোবর তাকে ১০৩ নম্বর রুমে স্থানান্তর করা হয়।
দ্বীন ইসলামের দাবি, সেদিন রাত ১০টার দিকে নতুন রুমে গেলে বাংলা বিভাগের ২০২৩–২৪ শিক্ষাবর্ষের দুই শিক্ষার্থী রোমান ও মো. ইউনুস আলী আক্রমণাত্মক আচরণ করেন। তারা বলেন, “হলে উঠার কিছু রুলস আছে, হলে থাকতে হলে কষ্ট করতে হয়।” তিনি প্রতিবাদ করলে রোমান বলেন, “আস্তে কথা বলুন, আপনি এখনো হলে থাকেন না।” আর ইউনুস বলেন, “প্রশাসন মুখ্য না, প্রশাসন চাইলেই কাউকে শিফট করতে পারে না।”
এ সময় উপস্থিত ছিলেন রাসেল (ইংরেজি-১৭), রাতুল (সিএসই-১৭) ও আব্দুল্লাহ (ব্যবস্থাপনা-১৭)। রাসেল প্রতিবাদ জানালে রোমান বলেন, “এখন হলে সিনিয়র-জুনিয়র নেই, আগে আসলে সেই সিনিয়র।” দ্বীন ইসলামের অভিযোগ, তারা টেবিলে আঘাত করে তার দিকে তেড়ে আসেন। পরে তিনি সহকারী রেজিস্ট্রারকে বিষয়টি জানান।
পরদিন প্রভোস্ট উভয় পক্ষকে ডেকে বক্তব্য নেন। শুনানিতে রোমান বলেন, “স্যার, আমি টেবিলে থাপ্পড় দেইনি, শুধু দাঁড়িয়েছি।” ইউনুস বলেন, “স্যার, আমি নরমালভাবেই একটু উচ্চস্বরে কথা বলি।” প্রভোস্ট সহযোগী অধ্যাপক মো. জিয়া উদ্দিন জানান, “আগেও তাদের সতর্ক করা হয়েছিল। তাই রোমান, ইউনুস ও নাদিমের সিট তাৎক্ষণিকভাবে বাতিল করা হয়েছে।”
দ্বীন ইসলাম অভিযোগ করেন, ঘটনার পর তাওহীদ (১৭তম আবর্তন) নামে আরেক শিক্ষার্থী তাদের হয়ে রাজনৈতিক উগ্রতা দেখিয়ে তাকে হুমকি দেন। প্রভোস্টের নির্দেশে সিট বাতিলের পরও তিন শিক্ষার্থীকে ২১ অক্টোবরের মধ্যে হল ছাড়ার কথা থাকলেও তারা এখনো হলে অবস্থান করছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি বলেন, “হল প্রশাসন থেকে পরে জানানো হয়, তারা হলে থাকবে—সমস্যা হলে জানাতে। এতে আমি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি, মানসিকভাবে বিপর্যস্ত, স্বাভাবিক পড়াশোনা করতে পারছি না।”
অভিযোগের বিষয়ে রোমান বলেন, “ওনাকে স্যার সিট দিয়েছিল। আমি শুধু দাঁড়িয়ে কথা বলেছিলাম—এটাই আমাদের ভুল। যদি ওইভাবে বলে থাকি, স্যার আমাদের শাস্তি দিয়েছিলেন এবং ক্ষমাও করেছিলেন।” তবে তিনি ‘শিবির সন্দেহে’ দুর্ব্যবহারের অভিযোগ অস্বীকার করেন।
অভিযুক্ত মো. ইউনুস আলীকে একাধিকবার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি।
প্রভোস্ট সহযোগী অধ্যাপক মো. জিয়া উদ্দিন বলেন, “অভিযোগটি অফিস টাইমের পরে এসেছে। রবিবার অভিযোগ পর্যালোচনা করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আব্দুল হাকিম বলেন, “অভিযোগ হাতে পাইনি। হাতে পেলে বিষয়টি দেখা হবে।”
উল্লেখ্য, এর আগেও মো. ইউনুস আলী, রোমানসহ বাংলা বিভাগের ২০২৩–২৪ শিক্ষাবর্ষের কয়েক শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে একই বিভাগের নবীন শিক্ষার্থীদের র্যাগিংয়ের অভিযোগ উঠেছিল।
খবরওয়ালা/আশ