খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণের ঠিক আগমুহূর্তে কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) আসনের নির্বাচনী পরিবেশ উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর জাতীয় নাগরিক কমিটির (এনসিপি) প্রার্থীর বিরুদ্ধে ভোট কেনার অভিযোগ তুলেছে প্রতিপক্ষ শিবির। ভিডিওটিতে এক এনসিপি কর্মীকে প্রকাশ্যে নারীদের মাঝে অর্থ বিতরণ করতে দেখা গেছে, যা নিয়ে এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া ও রাজনৈতিক বাগযুদ্ধ শুরু হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ২৮ সেকেন্ডের ওই ভিডিওতে দেখা যায়, উপজেলার সুবিল ইউনিয়নের বুড়িরপাড় এলাকায় এনসিপি কর্মী মো. মিশকাত সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে থাকা নারীদের হাতে ১০০ টাকা করে তুলে দিচ্ছেন। ভিডিওটি দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায় এবং নেটিজেনদের একাংশ দাবি করে, এটি জামায়াত জোট সমর্থিত এনসিপি প্রার্থী হাসনাত আবদুল্লাহর পক্ষে ভোট কেনার অগ্রিম অর্থ। নির্বাচনের মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে এ ধরনের নগদ অর্থ বিতরণকে নির্বাচনী আচরণবিধির চরম লঙ্ঘন হিসেবে দেখছেন অনেকে।
| বিষয় | বিস্তারিত তথ্য |
| আসন নম্বর | কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার উপজেলা) |
| এনসিপি প্রার্থী | হাসনাত আবদুল্লাহ (চিহ্ন: এনসিপি প্রতীক) |
| বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী | মো. আ. জসিম উদ্দিন (চিহ্ন: ট্রাক – গণঅধিকার পরিষদ) |
| ঘটনার স্থান | বুড়িরপাড়, সুবিল ইউনিয়ন |
| বিতর্কিত কর্মকাণ্ড | নারীদের মাঝে নগদ ১০০ টাকা করে বিতরণ |
| পক্ষের দাবি | উঠান বৈঠকের নাস্তার খরচ প্রদান |
| বিপক্ষের দাবি | নগদ অর্থে ভোটারদের প্রভাবিত করা বা ভোট ক্রয় |
নগদ অর্থ বিতরণের বিষয়টি স্বীকার করলেও এর উদ্দেশ্য নিয়ে ভিন্ন ব্যাখ্যা দিয়েছে স্থানীয় এনসিপি নেতৃবৃন্দ। দলটির কেন্দ্রীয় যুব শক্তির সংগঠক নাজমুল হাসান নাহিদ দাবি করেন, এটি কোনোভাবেই ভোট কেনার টাকা নয়। তিনি বলেন, “সম্প্রতি আমাদের নারী কর্মীদের নিয়ে একটি উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সেখানে অংশগ্রহণকারীদের যাতায়াত ও নাস্তার খরচ বাবদ এই সামান্য অর্থ দেওয়া হয়েছে। প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক দলগুলো পরাজয় নিশ্চিত জেনে এখন এই ভিডিওটি ব্যবহার করে অপপ্রচার চালাচ্ছে।”
অন্যদিকে, এ আসনে বিএনপির দীর্ঘদিনের হেভিওয়েট প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর প্রার্থিতা ঋণ খেলাপি ও তথ্য গোপনের অভিযোগে আদালত কর্তৃক চূড়ান্তভাবে বাতিল হওয়ায় সমীকরণ বদলে গেছে। বিএনপি এখন নিজেদের দলীয় প্রার্থী না থাকায় জামায়াত ও এনসিপি জোটের প্রার্থী হাসনাত আবদুল্লাহকে ঠেকাতে ‘ট্রাক’ প্রতীকের গণঅধিকার পরিষদ প্রার্থী জসিম উদ্দিনকে সমর্থন দিয়েছে। ফলে ভোটের লড়াই এখন মূলত হাসনাত ও জসিমের মধ্যে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে।
কুমিল্লা-৪ আসনে ধানের শীষ প্রতীক না থাকলেও বিএনপির বিশাল ভোট ব্যাংক এখন ট্রাক প্রতীকের দিকে ঝুঁকবে কি না, তা নিয়ে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। এর মধ্যেই টাকা বিতরণের এই ভিডিও ভোটারদের মনে কৌতূহল ও সন্দেহের উদ্রেক করেছে। প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশন বিষয়টি তদন্ত করে দেখছে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে শেষ মুহূর্তের এই ‘মানি গেম’ এবং পাল্টাপাল্টি অভিযোগ দেবিদ্বারের ভোটের ফলাফলকে প্রভাবিত করতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।