খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫
পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের পাঁচ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে। সোমবার (২৯ সেপ্টেম্বর) পিবিআইয়ের পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। গ্রেপ্তারকৃতদের কাছ থেকে নগদ ৭০ লাখ টাকা ও একটি গাড়ি উদ্ধার করা হয়েছে।
পিবিআই জানিয়েছে, উচ্চ বেতনে চাকরি দেয়া ও ব্যবসায়িক পার্টনার বানানোর প্রলোভন দেখিয়ে প্রতারণা করতো চক্রটি। আর প্রতারণার জন্য চক্রটি ভুক্তভোগীদের পবিত্র কুরআন ছুঁইয়ে শপথ করাতো ও বলতো ‘আমরা সকলে এখন ভাই ভাই এবং আজ থেকে আমরা ব্যবসায়িক যৌথ পার্টনার।’
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সম্পতি অবসরপ্রাপ্ত ব্যাংক কর্মকর্তা মিজানুর রহমান বিজ্ঞপ্তি দেখে ব্রাদার্স গ্রুপ নামের একটি কোম্পানিতে দুই লাখ টাকা বেতনসহ ,গাড়ি ও আনুসাঙ্গিক সুবিধাসহ চাকরিতে যোগদানের জন্য গ্রেপ্তারকৃতদের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করে। পরে তারা মিজানুরকে কলাবাগানস্থ এসেট ড্রিম ভিলা, ফ্ল্যাট নং-৩/বি- তে আসতে বলে। মিজানুর সেখানে পৌঁছালে চক্রের সদস্যরা তার সঙ্গে লোভনীয় ব্যবসায়িক বিষয় নিয়ে আলোচনা করে এবং কুরআন ছুঁইয়ে শপথ পাঠ করিয়ে মিজানুরকে তাদের সঙ্গে ব্যবসায়িক অংশীদার হিসেবে নেয়। তাকে শপথ পাঠ করার সময় বলা হয় এ বিষয় নিয়ে বা এ সংক্রান্তে পরিবার বা কাউকে জানানোর দরকার নেই।
এতে আরও বলা হয়েছে, পরবর্তীতে গত ২১ জুন সকালে একই ঠিকানায় চক্রের সদস্যদের সঙ্গে একজন ভারতীয় নাগরিক/বায়ার সেজে সেখানে আসে। ওই ভারতীয় জানায়, তিনি এই কোম্পানি থেকে কয়েক কোটি টাকার রোলেক্স ঘড়ি কিনবেন এবং অগ্রীম হিসেবে তিন কোটি টাকার চেক দেন। এরপর ২৫ জুন দুপুরে মিজানুরকে ওই ফ্ল্যাটে ডেকে নিয়ে ব্যবসার প্রয়োজনে ২০ লাখ টাকা নেন। তারপর হতে তাদেরকে ব্যবসায়িক অংশীদারীর অংশের লাভ অথবা চাকরির কথা বললে তারা নানা রকম মিথ্যা আশ্বাসে সময়ক্ষেপন করতে থাকে। পরবর্তীতে ২৮ জুন ভোরে চক্রটি গোপনে ওই বাসা ছেড়ে চলে যায়। এরপর মিজানুর বুঝতে পারেন তিনি প্রতারক চক্রের খপ্পরে পড়েছেন। পরে মিজানুর রাজধানীর পল্লবী থানায় চক্রটির বিরুদ্ধে মামলা করে। মামলায় তিনি অভিযোগ করেন, তার কাছ থেকে সর্বমোট ২২ লাখ টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। পরে মামলাটির গুরত্ব বিবেচনায় পিবিআই, ঢাকা মেট্রো ( উত্তর) স্ব-উদ্যোগে বিশেষ গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত শুরু করে।
পিবিআই জানিয়েছে, গোয়েন্দা তথ্য পর্যালোচনা করে গত ৩০ জুলাই মো. আব্দুল আজিজকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদে বেশ কিছু তথ্য পাওয়া যায়। সেই তথ্যের ভিত্তিতে রোববার সন্ধ্যায় সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের মূলহোতাসহ ৫ সদস্যকে আটক করা হয়। এসময় আরও একজন ভুক্তভোগী অবসর প্রাপ্ত ব্যাংক কর্মকর্তা ইলিয়াস খানকেও একই কায়দায় প্রতারণা করার সময় নগদ ৭০ লাখ টাকাসহ উদ্ধার করা হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, চক্রটি বিভিন্ন সময় বাসা ভাড়া করে নিজেদেরকে বড় কোম্পানির মালিক দেখিয়ে সাধারণ মানুষকে প্ররতারণার ফাদে ফেলে সর্বশান্ত করে। বিশেষ করে তারা অবসরপ্রাপ্ত ব্যাংক ও সরকারি কর্মকর্তাকে টার্গেট করে প্রতারণার উদ্দেশ্যে নতুন নতুন অস্থায়ী অফিস স্থাপন করে পত্রিকায় নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি দেয়। পরে কেউ যোগাযোগ করলে আদর আপ্যায়ন করে এবং বড় ব্যবসা চলছে এমন ধারণা দেয়। ভিকটিমদেরকে ধারণা দেয় যে, তাদের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা আছে, তাদেরকে ভালো সন্মানী দেবে, যাতাযাতের জন্য গাড়ি দেবে, টেলিফোন ও অন্যান্য ভাতা দেবে এবং মালিকপক্ষ ব্যবসায়িক কারণে বেশিরভাগ সময় দেশের বাহিরে থাকে, অনেক বড় বড় ব্যবসা আছে ভিকটিমদের বিশ্বস্ততার সঙ্গে ওই ব্যবসা চালাতে হবে। একপর্যায়ে ব্যবসায়িক পার্টনার হওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে বড় অংকের টাকা হাতিয়ে অফিস ছেড়ে দিয়ে হঠাৎ লাপাত্তা হয়ে যায়। পূর্বের মোবাইল ফোন ও সীম পরিবর্তন করে ফেলে। আবার নতুন জায়গায় নতুন অফিস খোলে।