খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 17শে চৈত্র ১৪৩২ | ৩১ই মার্চ ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
বাংলাদেশে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে সশরীর ক্লাসের পাশাপাশি অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রম (ব্লেন্ডড লার্নিং) চালু করার বিষয়ে মন্ত্রিসভায় আলোচনা হতে পারে। শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন মঙ্গলবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপচারিতায় জানিয়েছেন, বৈশ্বিক জ্বালানি–সংকট এবং দেশের পরিস্থিতি বিবেচনায় তারা এমন একটি মিশ্র শিক্ষাপদ্ধতি নিয়ে ভাবছেন।
মন্ত্রী বলেন, “বিশ্বজুড়ে জ্বালানি–সংকট চলছে, যার প্রভাব বাংলাদেশেও পড়েছে। আমরা কেউ জানি না এই সংকট কতদিন চলবে। তাই স্কুল এবং কলেজগুলোতে সশরীর এবং অনলাইনের মিশ্র শিক্ষাব্যবস্থা আনার বিষয়ে আমরা চিন্তাভাবনা করছি।”
তিনি আরও বলেন, “রমজান, ঈদ এবং বিভিন্ন আন্দোলনের কারণে অনেক ক্লাস স্থগিত হয়েছিল। তাই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে সপ্তাহে ছয় দিন খোলা রাখা হয়েছে, যার মধ্যে আগামী ১০টি শনিবারও ক্লাস চলবে। জ্বালানি–সংকটকে মাথায় রেখে আমরা অনলাইন শিক্ষাকে উৎসাহিত করার পরিকল্পনা করছি।”
শিক্ষামন্ত্রী জানিয়েছেন, ইতিমধ্যে জরিপে দেখা গেছে শিক্ষার্থীর ৫৫ শতাংশ অনলাইন ক্লাসের পক্ষে। তবে পুরোপুরি অনলাইনে গেলে সামাজিকীকরণের অভাব হতে পারে—এ বিষয়টিও বিবেচনা করা হচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেন, আগামী বৃহস্পতিবার মন্ত্রিসভায় এই প্রস্তাব উপস্থাপন করা হবে এবং মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাব মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের পরই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
মন্ত্রী স্পষ্ট করেননি, সপ্তাহের ছয় দিনের মধ্যে কত দিন সশরীর এবং কত দিন অনলাইনে ক্লাস হবে। তিনি বলেন, “আমরা মিশ্র পদ্ধতি নিয়ে ভাবছি। প্রস্তাব দেওয়ার পর মন্ত্রিসভা যেটি অনুমোদন করবে, সেটিই বাস্তবায়িত হবে।”
শিক্ষামন্ত্রী আরও জানিয়েছেন, এই পরিকল্পনা বিশ্ববিদ্যালয়কে ছাড়া সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য প্রযোজ্য হবে। বিশেষভাবে মহানগরীতে এই উদ্যোগের প্রভাব পড়বে।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, “ইরান–মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার কারণে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট সৃষ্টি হয়েছে। এতে বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থার ওপরও চাপ পড়েছে। আমরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সশরীর ক্লাস কমিয়ে অনলাইনের মাধ্যমে শিক্ষা চালানোর বিকল্প খুঁজছি।”
বাংলাদেশে ক্লাস খোলার পরিস্থিতি (২০২৬)
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার তারিখ | ২০২৬ সালের ৩০শে মার্চ (রোববার) |
| স্কুল ছুটির কারণ | রোজা, ঈদ ও অন্যান্য অনুষ্ঠান |
| সপ্তাহে ক্লাসের দিন | ৬ দিন (পরবর্তী ১০টি শনিবারসহ) |
| শিক্ষার্থীর অনলাইন সমর্থন | ৫৫% ইতিবাচক |
| প্রস্তাবিত শিক্ষাপদ্ধতি | মিশ্র: সশরীর + অনলাইন |
মন্ত্রী আশা প্রকাশ করেছেন, এই মিশ্র শিক্ষাব্যবস্থা শিক্ষার্থীদের শেখার ধারাবাহিকতা বজায় রাখবে এবং জ্বালানি সংরক্ষণেও সহায়ক হবে। শিক্ষাব্যবস্থার এই পরিবর্তন বাস্তবায়িত হলে, বাংলাদেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো আন্তর্জাতিক সংকটের প্রেক্ষাপটেও স্থিতিশীলভাবে চলতে পারবে।
এই পদক্ষেপটি বৈশ্বিক জ্বালানি–সংকট এবং অভ্যন্তরীণ ছুটি ও ক্লাস স্থগিতের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় শিক্ষাব্যবস্থাকে আরও নমনীয় ও অভিযোজনযোগ্য করার উদ্যোগ হিসেবে ধরা হচ্ছে।