নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলায় ট্রাক ও মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আরও তিনজন গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। বৃহস্পতিবার (৪ জুন) দুপুর আড়াইটার দিকে বনপাড়া–হাটিকুমরুল মহাসড়কের রয়না পাম্প এলাকার কাছে এ দুর্ঘটনা ঘটে, যা এলাকায় গভীর শোকের ছায়া ফেলেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাজশাহীর লক্ষ্মীপুর এলাকার বাসিন্দা প্রকৌশলী আকিব হোসেন তার পরিবারসহ একটি মাইক্রোবাসে করে রাজশাহী থেকে ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা করছিলেন। যাত্রাপথে তাদের সঙ্গে পরিবারের অন্যান্য সদস্যরাও ছিলেন। পথিমধ্যে বড়াইগ্রাম উপজেলার রয়না পাম্প এলাকায় বিপরীত দিক থেকে দ্রুতগতিতে আসা একটি আমবাহী পিকআপের সঙ্গে তাদের মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষটি এতটাই তীব্র ছিল যে মাইক্রোবাসটির সামনের অংশ সম্পূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে যায়।
দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই আকিব হোসেনের চার মাস বয়সী শিশু ইজাজের মৃত্যু হয়। পরে দ্রুত স্থানীয়দের সহায়তায় ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়। আহতদের মধ্যে ছিলেন প্রকৌশলী আকিব হোসেন, তার স্ত্রী এ্যানী, চার বছর বয়সী সন্তান ইহান এবং আকিব হোসেনের মা কনা বেগম।
হাসপাতালে নেওয়ার পথে আরেক শিশু ইহানও মারা যায়। ফলে এ দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা দাঁড়ায় দুই শিশুতে। আহত তিনজন বর্তমানে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন এবং তাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
বনপাড়া হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান জানিয়েছেন, দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত যানবাহন দুটি উদ্ধার করে হাইওয়ে থানার হেফাজতে রাখা হয়েছে। ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে প্রাথমিক তদন্ত শুরু হয়েছে এবং আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, এই সড়কটিতে প্রায়ই অতিরিক্ত গতির কারণে দুর্ঘটনা ঘটে। বিশেষ করে পণ্যবাহী যানবাহনের বেপরোয়া চলাচল ও ওভারটেকিংয়ের প্রবণতা দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়িয়ে তোলে। তারা সড়কে নজরদারি বৃদ্ধি ও কঠোর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার দাবি জানিয়েছেন।
নিচে দুর্ঘটনায় হতাহতদের একটি সংক্ষিপ্ত বিবরণ দেওয়া হলো—
পরিচয়
অবস্থা
চার মাস বয়সী শিশু ইজাজ
ঘটনাস্থলে নিহত
চার বছর বয়সী শিশু ইহান
হাসপাতালে নেওয়ার পথে নিহত
প্রকৌশলী আকিব হোসেন
আহত, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন
এ্যানী (স্ত্রী)
আহত, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন
কনা বেগম (মা)
আহত, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন
এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা আবারও দেশের সড়ক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মহাসড়কে গতিসীমা নিয়ন্ত্রণ, চালকদের প্রশিক্ষণ এবং নিয়মিত নজরদারি জোরদার করা না গেলে এ ধরনের প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা রোধ করা কঠিন হয়ে পড়বে।