খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ৭ ডিসেম্বর ২০২৫
নোয়াখালীর সোনাইমুড়ীতে ইঁদুর দমনের জন্য পাতা বৈদ্যুতিক ফাঁদে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মো. নুরুল হুদা নামে এক প্রবাসীর মৃত্যুর ঘটনা স্থানীয় এলাকায় গভীর শোক ও আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। শিবপুর গ্রামে শনিবার সকালে ঘটে যাওয়া এই দুর্ঘটনা গ্রামীণ কৃষিকাজে নিরাপত্তাহীনতা এবং অনিয়ন্ত্রিত বৈদ্যুতিক ব্যবহারের বিপজ্জনক দিকগুলোকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে।
মো. নুরুল হুদা সম্প্রতি কাতার থেকে দেশে ফিরেছিলেন। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সময় কাটিয়ে আবার সৌদি আরব যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল তাঁর। কিন্তু তার আগেই ইঁদুর মারার বৈদ্যুতিক ফাঁদ তাঁর জীবন কেড়ে নিল। স্থানীয় লোকজন জানায়, নুরুল হুদা সকালে নিজের জন্য নতুন বীজতলা প্রস্তুত করতে জমিতে যান। দুর্ঘটনাক্রমে তিনি প্রতিবেশী রিয়াজের পাতা বৈদ্যুতিক ফাঁদের সংস্পর্শে আসতেই বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। অচেতন অবস্থায় তাঁকে দ্রুত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলেও চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
স্থানীয়দের দাবি, ইঁদুর দমনের জন্য অল্প খরচে ব্যবস্থা নিতে গিয়ে কৃষকেরা প্রায়ই বৈদ্যুতিক তার টেনে ফাঁদ তৈরি করেন। এতে ইঁদুর মারা গেলেও যে কোনো মানুষ একইভাবে ঝুঁকিতে থাকে। বিশেষ করে ভোরের দিকে বা সন্ধ্যার পরে জমিতে গেলে এ ধরনের দুর্ঘটনার সম্ভাবনা কয়েকগুণ বেড়ে যায়।
নিহতের শ্যালক মো. পারভেজ আলম জানান, “রিয়াজ বৈদ্যুতিক ফাঁদ পেতে রেখেছিল, কিন্তু সে বিষয়টি কাউকে জানায়নি। ঘটনাটি জানার পর সে এলাকা ছেড়ে পালিয়েছে।” তাঁর অভিযোগ, সামান্য সতর্কতা নিলেই এ ধরনের মৃত্যু এড়ানো যেত। তিনি জানান, স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা চলছে, তবে পরিবার এখনো শোকে স্তব্ধ।
সোনাইমুড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মোরশেদ আলম বলেন, নিহতের পরিবার অভিযোগ না করলেও পুলিশ একটি অপমৃত্যু মামলা নিয়েছে। তিনি আরও জানান, মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
এই ঘটনা বিশেষজ্ঞদের আবারও মনে করিয়ে দিচ্ছে—বৈদ্যুতিক ফাঁদ মানুষের জীবনের জন্য কতটা ঝুঁকিপূর্ণ। বাংলাদেশে অনেক গ্রামীণ এলাকায় ফসল রক্ষায় কৃষকেরা বৈদ্যুতিক তার ও খোলা সংযোগ ব্যবহার করেন, যা সম্পূর্ণভাবে আইনবিরোধী এবং প্রাণঘাতী। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রশাসনিক পর্যায়ে কঠোর নজরদারি ছাড়া এ ধরনের দুর্ঘটনা চলতেই থাকবে।
নুরুল হুদার মৃত্যু তাই শুধু একটি ব্যক্তিগত ট্র্যাজেডি নয়; এটি গ্রামীণ কৃষি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বড় ধরনের দুর্বলতার প্রতিফলন। স্থানীয়রা প্রশাসনের কাছে দাবি তুলেছেন—বৈদ্যুতিক ফাঁদের ব্যবহার বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং কৃষকদের নিরাপদ বিকল্প ব্যবস্থা সম্পর্কে সচেতন করা।