খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 11শে ফাল্গুন ১৪৩২ | ২৩ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
কুষ্টিয়ার সদর উপজেলার পাটিকাবাড়ি বাজারে পবিত্র রমজান মাসকে কেন্দ্র করে স্থানীয় পুলিশ ক্যাম্পের এক কর্মকর্তার মৌখিক নির্দেশনাকে ঘিরে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। গত শুক্রবার (২০ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় ওই বাজারে গিয়ে পুলিশের এক উপ-পরিদর্শক (এসআই) প্রকাশ্যেই ঘোষণা দেন যে, তারাবির নামাজের সময় কোনো দোকানে ক্যারাম খেলা বা টেলিভিশন চালানো যাবে না। এই ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে শুরু হয়েছে জোর বিতর্ক।
প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, গত শুক্রবার কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য আমির হামজা স্থানীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে পাটিকাবাড়ি বাজার পরিদর্শনে যান। তার নিরাপত্তায় এবং সফরসঙ্গী হিসেবে সাথে ছিলেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) থানার অন্তর্গত পাটিকাবাড়ি পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ মসিউল আজম। সাদা পোশাকে থাকা এই পুলিশ কর্মকর্তা একটি চা দোকানে ক্যারাম খেলা চলতে দেখে ক্ষুব্ধ হন।
ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, মসিউল আজম দোকানির দিকে আঙুল উঁচিয়ে বলছেন,
“আমি সেদিন বাজার কমিটিকে ডেকে বলে গেছি না, তারাবির এক মাস কোনো ক্যারাম, কোনো টিভি চলবে না। কেন চলল? দেব বসান?”
এ সময় তিনি ক্যারাম বোর্ডের দিকে অগ্রসর হয়ে খেলা বন্ধের নির্দেশ দেন। পাশে দাঁড়িয়ে থাকা সংসদ সদস্যও তখন মন্তব্য করেন যে, রমজান ইবাদতের মাস, তাই নামাজের সময় যেন এসব বিনোদনমূলক কর্মকাণ্ড না চলে।
ঘটনার পরদিন বাজারে গিয়ে দেখা যায় এক থমথমে অবস্থা। স্থানীয় চা বিক্রেতারা আতঙ্কে রয়েছেন। অনেক দোকানপাট সন্ধ্যার পরেই বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে। কিছু দোকানে টেলিভিশন চললেও ভয়ে কেউ ক্যারাম বোর্ড বের করছেন না। স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য কাশেম এই নির্দেশের সমালোচনা করে বলেন, তরুণদের বিনোদনের মাধ্যমগুলো এভাবে হঠাৎ বন্ধ করে দেওয়া ঠিক নয়, তবে জুয়া বা টাকার বিনিময়ে খেলা অবশ্যই পরিত্যাজ্য।
| বিষয় | বিবরণ ও বর্তমান অবস্থা |
| স্থান | পাটিকাবাড়ি বাজার, সদর উপজেলা, কুষ্টিয়া |
| সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা | মসিউল আজম (ক্যাম্প ইনচার্জ, ইবি থানা) |
| নির্দেশনার বিষয় | তারাবির সময় ক্যারাম ও টিভি প্রদর্শন বন্ধ |
| পুলিশ প্রশাসনের অবস্থান | এটি দাপ্তরিক কোনো আদেশ নয় বলে নিশ্চিত করেছে |
| জনপ্রতিক্রিয়া | ধর্মীয় অনুশাসন বনাম ব্যক্তিস্বাধীনতা নিয়ে মিশ্র বিতর্ক |
এই বিতর্কিত নির্দেশের বিষয়ে ইবি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাসুদ রানা এবং কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার (এসপি) জসিম উদ্দিন স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, জেলা পুলিশ বা সদর দপ্তর থেকে এ ধরনের কোনো আনুষ্ঠানিক নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়নি। এসপি জসিম উদ্দিনের মতে, রোজার দিনে চায়ের দোকান খোলা রাখা বা টেলিভিশন দেখা আইনি কোনো অপরাধ নয়, বরং এটি মানুষের ব্যক্তিগত ও ধর্মীয় অনুভূতির বিষয়। এখানে পুলিশের জোরপূর্বক হস্তক্ষেপের কোনো আইনি সুযোগ নেই।
ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর নেটিজেনরা দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছেন। এক পক্ষ মনে করছেন, রমজানের পবিত্রতা রক্ষায় এটি একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ। অন্যদিকে নাগরিক অধিকারকর্মীরা বলছেন, আইন-শৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনীর কোনো সদস্যের এভাবে নিজের ব্যক্তিগত বা ধর্মীয় বিশ্বাস অন্যের ওপর চাপিয়ে দেওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। এই ঘটনাটি মূলত পুলিশি ক্ষমতার অপব্যবহার নাকি ধর্মীয় শিষ্টাচার রক্ষার প্রচেষ্টা—তা নিয়ে এলাকায় এখনও গুঞ্জন চলছে। তবে পুলিশের ঊর্ধ্বতন মহলের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হলেও পাটিকাবাড়ি বাজারের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের মনে এখনও আতঙ্ক বিরাজ করছে।