খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 21শে মাঘ ১৪৩২ | ৩ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
যুক্তরাষ্ট্রের শিল্প ও সংস্কৃতির অন্যতম প্রাণকেন্দ্র ‘জন এফ কেনেডি মেমোরিয়াল সেন্টার ফর দ্য পারফর্মিং আর্টস’ নিয়ে এক চরম বিতর্কিত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ব্যাপক সংস্কার ও পুনর্গঠনের অজুহাতে আগামী জুলাই মাস থেকে টানা দুই বছরের জন্য এই ঐতিহাসিক সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। ট্রাম্পের এই আকস্মিক সিদ্ধান্তে যুক্তরাষ্ট্রের শিল্পী ও সাংস্কৃতিক মহলে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।
সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত রবিবার (১ ফেব্রুয়ারি) তার নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ এই ঘোষণা দেন। ট্রাম্পের দাবি, কেন্দ্রটিকে সাফল্যের সর্বোচ্চ শিখরে নিয়ে যেতে এবং এর জাঁকজমক বৃদ্ধি করতে হলে সাময়িকভাবে এর সকল বিনোদনমূলক কার্যক্রম বন্ধ রাখা অপরিহার্য। তিনি এই প্রতিষ্ঠানটিকে পুনর্নির্মাণ করে ‘বিশ্বের সেরা পারফর্মিং আর্টস সেন্টার’ হিসেবে গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তবে সবচেয়ে বড় বিতর্কের বিষয় হলো, প্রতিষ্ঠানটির নামের সাথে নিজের নাম জুড়ে দিয়ে তিনি এটিকে ‘ট্রাম্প কেনেডি সেন্টার’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
প্রেসিডেন্ট তার পোস্টে উল্লেখ করেন, ৪ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম স্বাধীনতা দিবসের দিন থেকে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে। ট্রাম্পের যুক্তি হলো, কনসার্ট, অপেরা, ব্যালে বা মিউজিক্যাল শো চলাকালীন বড় ধরণের নির্মাণকাজ চালানো সম্ভব নয়। তাই কাজ দ্রুত শেষ করতে হলে দুই বছরের জন্য এর দ্বার পুরোপুরি রুদ্ধ করতে হবে।
ট্রাম্প কেনেডি সেন্টারের বোর্ডের চেয়ারম্যান হওয়ার পর থেকেই প্রতিষ্ঠানটির ভেতরে ও বাইরে অস্থিরতা শুরু হয়। বিশেষ করে ভবনের নামের সাথে ‘ট্রাম্প’ নাম যুক্ত করার প্রচেষ্টাকে অনেকেই সাবেক প্রেসিডেন্ট জন এফ কেনেডির স্মৃতির অবমাননা হিসেবে দেখছেন। এর প্রতিবাদে অনেক প্রখ্যাত শিল্পী, সংগীতজ্ঞ এবং সাংস্কৃতিক দল কেনেডি সেন্টারে তাদের পূর্বনির্ধারিত পরিবেশনা বাতিল করেছেন।
সবচেয়ে বড় ধাক্কাটি এসেছে যখন ‘ওয়াশিংটন ন্যাশনাল অপেরা’ ঘোষণা দিয়েছে যে তারা কেনেডি সেন্টার ছেড়ে চলে যাচ্ছে। ১৯৭১ সালে কেন্দ্রটি উদ্বোধনের পর থেকেই এটি ছিল তাদের স্থায়ী ঠিকানা। দীর্ঘ দশকের এই সম্পর্ক ছিন্ন হওয়ার বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্রের সাংস্কৃতিক ইতিহাসে এক নজিরবিহীন ঘটনা।
| বিষয়ের ধরণ | বিস্তারিত তথ্য |
| প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্য | ১৯৬৪ সালে নিহত প্রেসিডেন্ট জন এফ কেনেডির স্মরণে ‘জীবন্ত স্মৃতিসৌধ’। |
| উদ্বোধন ও অবস্থান | ১৯৭১ সালে ওয়াশিংটন ডিসিতে উদ্বোধন করা হয়। |
| ট্রাম্পের নতুন প্রস্তাব | প্রতিষ্ঠানটির নাম পরিবর্তন করে ‘ট্রাম্প কেনেডি সেন্টার’ রাখা। |
| বন্ধের সময়কাল | ২০২৬ সালের জুলাই থেকে টানা দুই বছর। |
| প্রতিবাদের ধরণ | শিল্পীদের পরিবেশনা বাতিল ও ন্যাশনাল অপেরার প্রস্থান। |
| চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত | ট্রাম্পের মনোনীত পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদনের অপেক্ষায়। |
সমালোচকদের মতে, সংস্কারের বিষয়টি কেবল একটি অজুহাত মাত্র। মূলত প্রতিষ্ঠানটির ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা এবং এর ঐতিহাসিক পরিচয় মুছে ফেলতেই ট্রাম্প এই দুই বছরের দীর্ঘ বিরতি দিতে চাইছেন। কেনেডি সেন্টারের নিজস্ব কোনো মন্তব্য এখনো পাওয়া না গেলেও সাংস্কৃতিক বোদ্ধারা মনে করছেন, টানা দুই বছর বন্ধ থাকলে এর সাথে জড়িত কয়েক হাজার কর্মী কর্মহীন হয়ে পড়বেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অপূরণীয় ক্ষতি হবে।
যে কেন্দ্রটি কয়েক দশক ধরে ‘ন্যাশনাল সিম্ফনি অর্কেস্ট্রা’র মতো বিশ্বখ্যাত দলের পদচারণায় মুখর ছিল, তা এখন রাজনৈতিক ইগো এবং ক্ষমতার লড়াইয়ের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। জুলাই মাসে যখন যুক্তরাষ্ট্র তার ২৫০তম স্বাধীনতা দিবস উদযাপন করবে, তখন এই সাংস্কৃতিক বাতিঘরটি নিভে যাওয়াকে অনেকেই গণতন্ত্র ও সংস্কৃতির জন্য একটি কালো অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত করছেন।