খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৩ ডিসেম্বর ২০২৫
ঢাকা ক্যাপিটালস আসন্ন বিপিএল মৌসুমের প্রস্তুতি শুরু করেছে। এই দলের কোচিং স্টাফদের মধ্যে একমাত্র বিদেশি মুখ হলেন প্রধান কোচ টবি র্যাডফোর্ড। অন্য সব কোচ, সহকারী কোচ, ফিজিও ও ট্রেইনাররা দেশি। এই বাস্তবতা অনেককে ভাবাচ্ছে, কেন ঢাকার মতো বড় ফ্র্যাঞ্চাইজিতে মূল কোচিং স্টাফ হিসেবে দেশি কোচদের প্রাধান্য বেশি।
দলের সহকারী কোচ মাহবুব আলি জ্যাকি সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি ব্যাখ্যা করেন। তিনি বলেন, “আমাদের মূল কৌশল হলো দেশি কোচদের ওপর ভরসা রাখা। ফিজিও এবং ট্রেইনাররা খেলোয়াড়দের শারীরিক ও মানসিক প্রস্তুতির বিষয়ে সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ। আন্তর্জাতিক মানের খেলোয়াড়দের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতাও তাদের আছে। তাই দলের ফ্র্যাঞ্চাইজি আমাদের দেশি স্টাফদের কাজে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। এতে স্থানীয় কোচদেরও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কাজ করার সুযোগ তৈরি হচ্ছে।”
জ্যাকি আরও জানান, ঢাকার কোচিং স্টাফরা শুধুমাত্র অনুশীলনে নয়, ম্যাচের সময়ে গেম প্ল্যান তৈরি ও প্রয়োগেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। “প্রতিটি প্রতিপক্ষের জন্য আমাদের দুই-তিনটি গেম প্ল্যান থাকে। ম্যাচ চলাকালীন প্রতিপক্ষের খেলার ধরন অনুযায়ী, অধিনায়ক ও কোচিং স্টাফ মিলিয়ে কোন প্ল্যান কার্যকর হবে, তা ঠিক করি। খেলোয়াড়দের অবস্থানও সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হয়। এই কাজ দেশি কোচরা মূলত পরিচালনা করে। তাই তাদের গুরুত্ব অনেক বেশি।”
ঢাকা ক্যাপিটালসের এই নীতি দুটি দিক থেকে লাভজনক। প্রথমত, খেলোয়াড়রা দেশি কোচদের কাছ থেকে আরও ঘনিষ্ঠভাবে ফিজিও ও শারীরিক প্রশিক্ষণ পায়। দ্বিতীয়ত, দেশি কোচদের আন্তর্জাতিক মানের ম্যাচে কাজ করার অভিজ্ঞতা বৃদ্ধি পায়। ফলে দল শুধু খেলোয়াড় নয়, দেশের কোচিং প্রতিভার বিকাশেও ভূমিকা রাখছে।
| পদ | নাম | জাতীয়তা | ভূমিকা |
| প্রধান কোচ | টবি র্যাডফোর্ড | বিদেশি | প্রধান কোচ |
| সহকারী কোচ | মাহবুব আলি জ্যাকি | দেশি | সহকারী কোচ ও গেম প্ল্যানিং |
| ফিজিও | শফিকুল ইসলাম | দেশি | খেলোয়াড়দের শারীরিক প্রস্তুতি |
| ফিটনেস ট্রেইনার | আশিকুর রহমান | দেশি | ফিটনেস ও ট্রেনিং |
| বিশ্লেষক (আংশিক) | TBD | বিদেশি | ম্যাচ বিশ্লেষণ |
ঢাকার কোচিং স্টাফদের দেশি ও বিদেশি মিশ্রণ দলের অভ্যন্তরীণ শক্তি বৃদ্ধি করছে। বিদেশি কোচ থাকলেও মূল চালিকাশক্তি দেশি কোচরা, যারা খেলার পরিকল্পনা, শারীরিক প্রস্তুতি এবং ম্যাচের সময় গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে অভ্যস্ত। এই কাঠামো স্থানীয় কোচিং প্রতিভার বিকাশ নিশ্চিত করে এবং বাংলাদেশের ক্রিকেটকে আরও শক্তিশালী করছে।