খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 28শে আষাঢ় ১৪৩২ | ১২ই জুলাই ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
কখনো নিজেকে `উডবিএ’-এর উপদেষ্টা, কখনো ‘আইসিবি ব্যাংক’-এর চেয়ারম্যান, আবার কখনো “মর্ডান ইকোনমিক জোন”-এর প্রতিষ্ঠাতা-বাহারী ভিজিটিং কার্ডে এমনই অসংখ্য পরিচয় বহনকারী ব্যক্তি হলেন ড. কামাল মোস্তফা। নামের সঙ্গে ব্যবহার করেন `ডক্টর’ ও ’প্রফেসর” পদবিও।
তবে অনুসন্ধানে উঠে এসেছে সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র। এই ‘চেয়ারম্যান সাহেব’ মূলত একজন চতুর প্রতারক, যিনি ভুয়া পরিচয় আর ভুয়া প্রতিষ্ঠান দেখিয়ে বছরের পর বছর ধরে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন।
ড. কামাল মোস্তফার ভিজিটিং কার্ডে প্রায় ১০টি ভিন্ন ভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নাম- যার সম্মিলিত নাম ‘ঢাকা ক্যাপিটাল গ্রুপ (ডিসিজি)’। কিন্তু আমাদের অনুসন্ধানী টিম ওই ঠিকানায় গিয়ে দেখতে পান, এটি মূলত মীর আক্তার লিমিটেডের একটি নির্মাণাধীন অ্যাপার্টমেন্ট প্রকল্প। কোন প্রতিষ্ঠান বা অফিসের অস্তিত্বই নেই।
তিনি নিজেকে পরিচয় দেন আরও বহু প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান বা প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে: দি ইউনিভার্সিটি অব কুমিল্লা, ট্রু এভিয়েশন লিমিটেড, ঢাকা ক্যাপিটাল বিল্ডার্স লিমিটেড, আল আমিন মাইক্রো ইন্স্যুরেন্স কো. লি., আল সাফা মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড স্পেশাল হসপিটাল, বাংলাদেশ আমেরিকান বিজনেস ফোরাম, কোরিয়ান বাংলা নেটওয়ার্ক লি., সুবাস্ত স্পেস লি. কিন্তু বাস্তবে এসব প্রতিষ্ঠানের সুনির্দিষ্ট কার্যক্রম বা অফিস কোথাও খুঁজে পাওয়া যায়নি।
ড. কামাল মোস্তফার গ্রামের বাড়ি ঝালকাঠিতে হলেও তিনি পরিচয় দেন চট্টগ্রামের আগ্রাবাদের বাসিন্দা হিসেবে। “আগ্রাবাদ ট্রেডিং” নামক এক ভুয়া প্রতিষ্ঠানের ব্যানারে পণ্য সরবরাহের মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে হাতিয়ে নিয়েছেন বিপুল অঙ্কের অর্থ।
কবিরহাট অ্যাগ্রো লিমিটেড নামের একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে মশুর ডাল সরবরাহের কথা বলে তিনি ও তার সহযোগী কিবরিয়া ১ কোটি টাকা গ্রহণ করেন। কিন্তু ডালও আসেনি, ফেরতও মেলেনি টাকা।
পাবনার ব্যবসায়ী উজির সাহেবের কাছ থেকে একইভাবে ৩৫ লক্ষ টাকা নিয়েও সাত মাসে কোনো পণ্য দেননি।
একজন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিনিয়োগকারী দাবি করেছেন, ব্যাংকের শেয়ার হস্তান্তরের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তার কাছ থেকে নেওয়া হয়েছে প্রায় ৫ কোটি টাকা।
সম্প্রতি জানা জানা গেছে, তিনি এখন আবার সোয়াবিন তেল সরবরাহের প্রস্তাব দিয়ে অগ্রিম টাকা নেওয়ার চেষ্টা করছেন।
অভিনব কৌশলে প্রতারণা
ড. কামাল প্রতারণার ক্ষেত্রে ব্যবহার করেন বহুমুখী কৌশল। প্লট বা ফ্ল্যাট বরাদ্দ, ব্যাংকে চাকরির নিশ্চয়তা, ব্যাংকের ডিরেক্টরশিপ হস্তান্তর, বিদেশি বিনিয়োগ বা ঋণের ব্যবস্থা করা-এসব প্রলোভন দেখিয়ে সহজ-সরল মানুষদের কাছ থেকে আদায় করছেন মোটা অঙ্কের টাকা। তিনি কখনোই স্থায়ী অফিস রাখেন না। বরং রাজধানীর পাঁচতারকা হোটেলে ‘মিটিং’ এর নামে ব্যক্তিগত আলোচনা করেন এবং প্রতারণার পরিকল্পনা সাজান। এ কাজে যুক্ত তার একাধিক সহযোগী।
এই প্রতিবেদনের জন্য একাধিকবার তার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায় অথবা রিসিভ করেননি। সরাসরি যোগাযোগের চেষ্টাও ব্যর্থ হয়েছে।
এদিকে একাধিক ভুক্তভোগী আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন। তারা জানিয়েছেন, অভিযোগের অনুলিপি দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)-এ পাঠানোর প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে।
খবরওয়ালা/এমএজেড