খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 4শে ফাল্গুন ১৪৩২ | ১৬ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে বিএনপি। নির্বাচনের পর থেকে দলীয় নেতারা নতুন মন্ত্রিসভার গঠন নিয়ে ব্যস্ত, কারা মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী বা উপমন্ত্রী হবেন তা নিয়ে চলছে তীব্র আলোচনা। বিরোধী দল ও জোটের অংশীদার জামায়াতসহ অন্যান্য এমপিরা এখন বিরোধী আসনে থাকবেন।
মঙ্গলবার নতুন সংসদ সদস্যদের শপথের পাশাপাশি সম্ভাব্য মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের শপথ অনুষ্ঠানও অনুষ্ঠিত হবে। এরপর নবগঠিত মন্ত্রিপরিষদের সদস্যরা সরকারি বাসভবনে বসবাস শুরু করবেন। তবে এ পর্যন্ত নতুন প্রধানমন্ত্রী কোন বাসভবনে উঠবেন তা নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মধ্যে নিশ্চিত তথ্য নেই।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী, বিরোধীদলীয় নেতা, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী এবং উপমন্ত্রিসহ সমমানের ব্যক্তিদের জন্য ৭১টি সরকারি বাংলো ও সরকারি বাসা রয়েছে। বর্তমানে এসব বাসা প্রস্তুত করার কাজ চলছে। প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সংস্কার ও প্রস্তুতি প্রকল্পে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তবে প্রধানমন্ত্রীর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না আসায় সরাসরি সংস্কার কাজ শুরু করা যায়নি।
গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মো. খালেকুজ্জামান চৌধুরী জানিয়েছেন, “নতুন প্রধানমন্ত্রী কোন বাসায় উঠবেন তা আমাদের এখনো জানানো হয়নি। প্রধানমন্ত্রীর ইচ্ছার পর আমরা বাসার সংস্কার ও প্রস্তুতির কাজ শুরু করব।”
সরকারি আবাসন পরিদপ্তরের পরিচালক মো. আসাদুজ্জামান বলেন, “৭১টি সরকারি বাংলোর মধ্যে অর্ধেক খালি আছে এবং বাসযোগ্য। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করার পরই নতুনরা বসবাস করতে পারবেন। বাকি বাসাগুলোতে বর্তমানে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কর্মকর্তারা রয়েছেন, তারা বাসা ছাড়লে সেগুলো প্রস্তুত করা হবে।”
সরকারি বাসা বরাদ্দে তিনটি কমিটি রয়েছে। প্রধান মন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন কমিটি প্রধানমন্ত্রীর, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীর বাসা বরাদ্দ দেয়। বাকি দুটি কমিটি অন্যান্য কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য। শপথ ও দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে সরকারের সদস্যরা বাসাসহ অন্যান্য সুবিধা প্রাপ্য হন। যদি বাসা বুঝিয়ে দিতে দেরি হয়, তবে সরকারি ভাতা প্রদান করা হয়।
নতুন প্রধানমন্ত্রী, বিরোধীদলীয় নেতা, মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীদের জন্য সরকারি বাসা রয়েছে রাজধানীর বেইলি রোড, মিন্টো রোড, হেয়ার রোড, ধানমন্ডি, সংসদ ভবন এলাকা এবং গুলশান এলাকায়। এর মধ্যে মিন্টো রোডের ২৯ নম্বর বাসভবন দীর্ঘকাল ধরে বিরোধীদলীয় নেতাদের জন্য নির্দিষ্ট। পূর্বে এই বাসভবনে থাকতেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এবার এটি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের জন্য নির্ধারিত হতে পারে।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টারা তাদের বাসা ছেড়ে চলেছেন। ইতোমধ্যে উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান, উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া এবং প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী খোদা বকশ চৌধুরী বাসা ছাড়েছেন। ফলে নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের জন্য বাসা বরাদ্দ ও প্রস্তুতির কাজ শিঘ্রই শুরু করা সম্ভব হবে।
| পদ | সরকারি বাসস্থান | বর্তমান অবস্থান |
|---|---|---|
| প্রধানমন্ত্রী | গণভবন / প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন | সংস্কারের অপেক্ষা |
| বিরোধীদলীয় নেতা | মিন্টো রোড ২৯ | নির্ধারিত |
| মন্ত্রী / প্রতিমন্ত্রী / উপমন্ত্রী | বেইলি রোড, ধানমন্ডি, গুলশান, হেয়ার রোড | অর্ধেক খালি, অর্ধেক বর্তমান কর্মকর্তা দখল |
| অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা | বিভিন্ন সরকারি বাংলো | বাসা ছাড়ার প্রক্রিয়া চলছে |
নতুন মন্ত্রিপরিষদের শপথ অনুষ্ঠান ও সরকারি বাসায় বসবাস শুরু হওয়া দেশীয় প্রশাসনে একটি গুরুত্বপূর্ণ যান্ত্রিক ও প্রশাসনিক প্রস্তুতির সূচনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।