খবরওয়ালা আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ১৮ জুলাই ২০২৫
কোনও বিদেশির আদেশ মানবেন না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা ডা সিলভা। বৃহস্পতিবার (১৭ জুলাই) এক ভাষণে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ইঙ্গিত করে এ কথা বলেন তিনি। ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ঘোষিত নতুন শুল্ককে ‘অগ্রহণযোগ্য ব্ল্যাকমেইল’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে লুলা বলেন, ‘কোনো গ্রিংগো (বিদেশিদের বোঝাতে লাতিন আমেরিকায় ব্যবহৃত শব্দ, যা অনেক জায়গায় অবমাননাকর) এই দেশের প্রেসিডেন্টকে আদেশ দিতে পারবে না।’
মার্কিন শুল্ক নিয়ে ব্রাজিলের পক্ষ থেকে আলোচনার প্রচেষ্টা চালানো হয়েছে বলে উল্লেখ করেন ডা সিলভা। তিনি বলেন, গত মে মাসে তারা একটি প্রস্তাব পাঠিয়েছে। উত্তরের অপেক্ষায় থেকে আমরা পেয়েছি অগ্রহণযোগ্য একটি ব্ল্যাকমেইল। তারা ব্রাজিলীয় প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে হুমকি এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যের বিষয়ে ভুয়া তথ্য ছড়িয়ে যাচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর ওপর ব্রাজিল নিজস্ব নীতিতেই নিয়ন্ত্রণ ও কর আরোপ করবে। আমাদের সার্বভৌমত্ব মানে শুধু সীমান্ত সুরক্ষা নয়, বরং বিদেশি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের হস্তক্ষেপ থেকেও নিজেকে রক্ষা করা।’
গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ব্রাজিলের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেয়। আগস্টের শুরু থেকে তা কার্যকর হবে বলে জানানো হয়। যুক্তরাষ্ট্র দাবি করে, ব্রাজিলের ‘অন্যায্য বাণিজ্যনীতি’ এবং সাবেক প্রেসিডেন্ট জইর বলসোনারোর বিরুদ্ধে বর্তমান সরকারের অবস্থানের প্রতিক্রিয়ায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এর জবাবে প্রেসিডেন্ট লুলা বলেন, ‘ট্রাম্প এমন একজন সম্রাট, যাকে বিশ্ব চায় না।’
এই অবস্থান আরও পরিষ্কার করে বৃহস্পতিবার রাতে টেলিভিশন ও রেডিও ভাষণে লুলা বলেন, ‘ব্রাজিলের সার্বভৌমত্বকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে। কেউ চাপ দিলে আমরা মাথা নত করব না।’
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্তের পাল্টা জবাব দিতে ব্রাজিল সরকার এখন শিল্পমালিকদের ও ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে আলোচনায় বসেছে। সম্ভাব্য প্রতিক্রিয়া কী হতে পারে, তা নিয়েও পর্যালোচনা চলছে।
ব্রাজিলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাওরো ভিয়েইরা জানিয়েছেন, ডি সিলভা ট্রাম্পের সঙ্গে আলোচনায় প্রস্তুত আছেন, তবে সেটা তখনই হবে যখন সঠিক পরিবেশ তৈরি হবে। এখনো এই দুই রাষ্ট্রপ্রধানের মধ্যে সরাসরি সাক্ষাৎ হয়নি।
উল্লেখ্য, এটি ডা সিলভার তৃতীয় মেয়াদ। ট্রাম্পের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার পর সাম্প্রতিক এক জনমত জরিপে তার জনপ্রিয়তা কিছুটা বেড়েছে বলেও জানানো হয়েছে।
খরবওয়ালা/এসআর