এবিএম জাকিরুল হক টিটন
প্রকাশ: 6শে অগ্রহায়ণ ১৪৩২ | ২০ই নভেম্বর ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
দেশের সর্বস্তরে ক্যাশলেস লেনদেন ব্যবস্থা চালু করলেই দুর্নীতির লাগাম দৃশ্যমানভাবে টেনে ধরা সম্ভব। এ জন্য প্রয়োজন একটি সমন্বিত, শক্তিশালী ও সর্বজনীন ডিজিটাল অ্যাপ—যেখানে প্রতিটি উপার্জনক্ষম নাগরিকের আর্থিক প্রোফাইল, সম্পদের বিবরণ, আয়-ব্যয় ও সকল লেনদেন একক প্ল্যাটফর্মে সংযুক্ত থাকবে।
একক অ্যাপের মূল কাঠামো
এই অ্যাপের মাধ্যমে—
প্রত্যেক নাগরিকের একটি মাত্র ব্যাংক হিসাব থাকবে,
বেতন-ভাতা, ব্যবসায়িক আয়, ব্যক্তিগত লেনদেনসহ সব আর্থিক কর্মকাণ্ডই হবে সম্পূর্ণ ক্যাশলেস,
যেকোনো পণ্য বা সেবা ক্রয়ের সময় ভ্যাট-ট্যাক্স স্বয়ংক্রিয়ভাবে সরকারের কোষাগারে জমা হবে,
টিআইএন ও বিআইএন-সংক্রান্ত সব তথ্য সরকার নিজেই হালনাগাদ করতে পারবে।
এভাবে সরকারের প্রাপ্য রাজস্ব কোথাও আটকে থাকবে না এবং কোনো ব্যক্তি বড় অঙ্কের টাকা নগদে লেনদেন করে ঘুষ, অবৈধ উপার্জন বা অর্থ পাচার করতে পারবে না।
সমন্বয়ের জরুরি প্রয়োজন
বাস্তবে বাংলাদেশের বিভিন্ন খাতে ইতোমধ্যেই উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে—
AID, তথ্য বাতায়ন, ব্যাংকিং সেক্টরের ডিজিটালাইজেশন, সেন্ট্রাল ব্যাংকের বিভিন্ন অ্যাপ, মোবাইল মানি সিস্টেমসহ অসংখ্য উদ্যোগ।
এখন প্রয়োজন শুধু সমন্বিত একটি জাতীয় প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা, যা সব সেবা ও ডেটাকে এক ছাতার নিচে এনে আরও শক্তিশালী করবে।
বিশ্বে এমন উদাহরণ রয়েছে
চীনসহ কয়েকটি দেশে ইতোমধ্যেই অনুরূপ ক্যাশলেস ইকোসিস্টেম গড়ে উঠেছে। Alipay ও WeChat Pay–এর মতো প্ল্যাটফর্মগুলো পুরো অর্থনীতি ও শাসন ব্যবস্থাকে ব্যাপকভাবে সহজ, স্বচ্ছ ও দুর্নীতিমুক্ত করেছে।
এটি নিঃসন্দেহে একটি ব্যাপক ও বিস্তৃত আলোচনার বিষয়। খাতভিত্তিক বিশ্লেষণ করলে বই আকারে প্রকাশ করা সম্ভব। এখানে শুধু প্রধান চিন্তাগুলোর নটশেল উপস্থাপন করলাম।
আপনাদের মতামত ও পরামর্শ কামনা করছি, যাতে এই ধারণাটি আরও সমৃদ্ধ হয় এবং ভবিষ্যতে দেশের উন্নয়ন ও দুর্নীতি প্রতিরোধে কার্যকর দিশা দেখাতে পারে।
লেখক: সম্পাদক ও প্রকাশক, খবরওয়ালা