খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬
খুলনা মহানগরীর খালিশপুরে নিজ ঘর থেকে মমতাজ বেগম (৬৫) নামে এক বৃদ্ধার মরদেহ উদ্ধারকে কেন্দ্র করে তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। নিহতের মুখমণ্ডল ও শরীরে আঘাতের চিহ্ন থাকায় এই মৃত্যুকে ঘিরে দড় পাকিয়েছে রহস্য। ঘটনার পর প্রতিবেশীদের না জানিয়ে তড়িঘড়ি করে মরদেহ দাফনের চেষ্টা করার সময় ওই বৃদ্ধার দুই ছেলেকে আটক করেছে পুলিশ।
গত মঙ্গলবার (২৪ জুন) দিবাগত রাতে নগরীর খালিশপুরের উত্তর কাশিপুর কবরস্থান রোডের একটি বাড়িতে এই ঘটনা ঘটে। বুধবার দুপুরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে এবং জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুই ছেলেকে থানায় নিয়ে যায়।
স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছ থেকে জানা যায়, উত্তর কাশিপুর কবরস্থান রোডের ‘ডাক্তার বাড়ি’ নামের ওই বাসায় পরিবারের সঙ্গেই থাকতেন মমতাজ বেগম। মঙ্গলবার রাতের কোনো একসময় নিজ কক্ষের ভেতর তার মৃত্যু হয়। পরিবারের সদস্যরা তার মরদেহ উদ্ধার করলেও বিষয়টি নিয়ে প্রথমে তারা এক ধরনের গোপনীয়তা বজায় রাখার চেষ্টা করেন।
বুধবার দুপুরের দিকে মমতাজ বেগমের বড় ছেলে মাসুম এবং ছোট ছেলে হোমিও চিকিৎসক মেহেদী হাসান সোহাগ প্রতিবেশীদের কিছু না জানিয়ে আচমকা জানাজা ও দাফনের প্রস্তুতি শুরু করেন। সাধারণত এলাকায় কেউ মারা গেলে যেভাবে সবাইকে জানানো হয়, এই ক্ষেত্রে তার উল্টো চিত্র দেখা যায়। ছেলেদের এই অস্বাভাবিক তাড়াহুড়ো ও গোপনীয়তা দেখে প্রতিবেশীদের মনে খটকা লাগে। সন্দেহ দানা বাঁধলে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে যান এবং মরদেহটি দেখার পর তারা স্তব্ধ হয়ে পড়েন।
মরদেহটি দেখার পর প্রতিবেশীরা লক্ষ করেন, বৃদ্ধার চোখ ও মুখ দিয়ে রক্ত বের হচ্ছে। শুধু তাই নয়, তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে কালশিটে ও আঘাতের স্পষ্ট দাগ দৃশ্যমান ছিল। স্বাভাবিক মৃত্যু হলে শরীরে এমন ক্ষত থাকার কোনো কারণ নেই—এই ভাবনা থেকে এলাকাবাসী বুঝতে পারেন যে ঘটনাটি সাধারণ নয়। এরপরই তারা জানাজা ও দাফন প্রক্রিয়া থামিয়ে দিয়ে সরাসরি পুলিশে খবর দেন।
খবর পেয়ে খালিশপুর থানা পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। তারা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে এবং মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। একই সঙ্গে ঘটনাস্থল থেকে নিহতের দুই ছেলে মাসুম ও মেহেদী হাসান সোহাগকে আটক করা হয়।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে খালিশপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম জাবীদ হাসান জানান, মমতাজ বেগমের মৃত্যুর বিষয়টি প্রাথমিকভাবে বেশ রহস্যজনক বলে মনে হচ্ছে। শরীরে আঘাতের চিহ্ন এবং মুখ দিয়ে রক্ত বের হওয়ার কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর মৃত্যুর আসল কারণ সুনির্দিষ্টভাবে জানা যাবে। এটি হত্যাকাণ্ড নাকি অন্য কোনো ঘটনা, তা নিশ্চিত হতে জিজ্ঞাসাবাদের পাশাপাশি তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। আটক হওয়া দুই ছেলের পাশাপাশি পরিবারের অন্য সদস্যদেরও এই বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। কোনো লিখিত অভিযোগ বা ময়নাতদন্তে হত্যার প্রমাণ মিললে সেই অনুযায়ী পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।