খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬
পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতা বদলের পর থেকেই বাংলাদেশ সীমান্ত ও অভিবাসন ইস্যুতে কড়া অবস্থান নিয়েছে রাজ্যের নতুন ক্ষমতাসীন দল বিজেপি। মে মাসে সরকার গঠনের পর থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ১০ হাজার অবৈধ অভিবাসীকে শনাক্ত করে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে বলে দাবি করেছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। গত মঙ্গলবার (২৩ জুন) রাজ্য বিধানসভায় দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি এই তথ্য জানান।
মুখ্যমন্ত্রী বিধানসভাকে অবহিত করেন যে, সীমান্তরক্ষা বাহিনী (বিএসএফ) পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন এলাকা থেকে নথিপত্রবিহীন এই ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে এবং আইনি প্রক্রিয়া শেষে সীমান্ত পার করে বাংলাদেশে ফেরত পাঠায়। কেবল ফেরত পাঠানোই নয়, অনুপ্রবেশকারীদের জন্য রাজ্যে কঠোর প্রশাসনিক নজরদারি চালানো হচ্ছে। বর্তমানে রাজ্যের ১২টি ডিটেনশন সেন্টার বা আটক কেন্দ্রে আরও প্রায় ১ হাজার ৮০০ জন অবৈধ অভিবাসী অবস্থান করছেন, যাদেরকেও পর্যায়ক্রমে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।
সীমান্তবর্তী রাজ্যে এই বড় ধরনের অভিযানের ফলে সাধারণ মানুষের মনে যেন কোনো বিভ্রান্তি বা ভীতির সৃষ্টি না হয়, সে বিষয়েও কথা বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি স্পষ্ট করে জানান, ভারতের বৈধ নাগরিকদের এই অভিযান নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো কারণ নেই। ধর্ম, সম্প্রদায় কিংবা রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা না করে প্রতিটি প্রকৃত নাগরিকের অধিকার ও আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এই পদক্ষেপ কেবল অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকাতে এবং রাজ্যের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা জোরদার করতেই নেওয়া হচ্ছে।
অবৈধ অনুপ্রবেশ পুরোপুরি বন্ধ করতে পশ্চিমবঙ্গ সরকার এখন দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার দিকে হাঁটছে। মুখ্যমন্ত্রী জানান, ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের নিরাপত্তা নিশ্ছিদ্র করার অংশ হিসেবে আগামী ছয় মাসের মধ্যে প্রায় ৬০০ কিলোমিটার সীমান্ত এলাকায় কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের কাজ শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
এই অবকাঠামোগত উন্নয়নের জন্য রাজ্য সরকার ইতোমধ্যে বিএসএফ-এর কাছে ১৪২ দশমিক ৭৯ একর জমি হস্তান্তর করেছে। সরকারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, হিলি-হাকিমপুরের মতো সীমান্তবর্তী এলাকাগুলো দিয়ে অনেক বাংলাদেশি অভিবাসী উদ্ভূত পরিস্থিতিতে স্বেচ্ছায় নিজ দেশে ফিরে গেছেন।
অবৈধ অভিবাসীদের দীর্ঘদিন আটকে রেখে রাষ্ট্রীয় কোষাগারের অর্থ ব্যয় করার চেয়ে তাদের দ্রুত নিজ দেশে ফেরত পাঠানোকে সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্ত হিসেবে উল্লেখ করেছেন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন, আটক কেন্দ্রে বিপুল সংখ্যক মানুষের ভরণপোষণ ও আইনি প্রক্রিয়ার পেছনে যে বিশাল অঙ্কের সরকারি অর্থ ব্যয় হয়, তা সাশ্রয় করা জরুরি। এই বাঁচানো অর্থ রাজ্যের বিভিন্ন সামাজিক কল্যাণমূলক প্রকল্প এবং সাধারণ মানুষের উন্নয়নে ব্যবহার করা যাবে, যা স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
গত মে মাসে পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির নেতৃত্বাধীন সরকার গঠিত হওয়ার পর থেকেই নথিপত্রবিহীন অভিবাসীদের শনাক্তকরণ ও পুশব্যাক অভিযান গতি পায়, যা বর্তমান প্রশাসনের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে দেখা হচ্ছে।