খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬
রেলপথে চলন্ত ট্রেনে পাথর নিক্ষেপের এক নির্মম ও বর্বরোচিত ঘটনায় নিজের ডান চোখটি চিরতরে হারিয়েছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আইনজীবী শ্যামল চন্দ্র দাস (৪৫)। গত মঙ্গলবার (২৩ জুন) ঢাকার জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে দীর্ঘ অস্ত্রোপচারের পর চিকিৎসকরা তার ক্ষতিগ্রস্ত চোখটি পুরোপুরি অপসারণ করতে বাধ্য হন।
বুধবার (২৪ ২৪ জুন) এই মর্মান্তিক ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সর্বস্তরের মানুষের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় উঠেছে। ট্রেনের যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি এই অপরাধের সঙ্গে জড়িত দুষ্কৃতকারীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন ক্ষুব্ধ নাগরিকরা।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া আয়কর আইনজীবী সমিতির সভাপতি মানছুরুল হক মনা ঘটনার বিবরণ দিয়ে জানান, সোমবার সকালে একটি পারিবারিক কাজে তিনি এবং আইনজীবী শ্যামল চন্দ্র দাস একসঙ্গে ঢাকায় এসেছিলেন। কাজ শেষে ওই দিন রাতেই তারা তূর্ণা নিশিতা এক্সপ্রেস ট্রেনে চড়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ফিরছিলেন।
তারা ট্রেনের ‘ন’ বগির সিটে বসে গল্প করছিলেন। রাত তখন আনুমানিক দেড়টা। ট্রেনটি আশুগঞ্জের তালশহর রেলস্টেশন এলাকা অতিক্রম করার সময় হঠাৎ অন্ধকার থেকে একটি বড় পাথর ট্রেনের জানালা দিয়ে ভেতরে ছিটকে আসে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই পাথরটি সরাসরি শ্যামল চন্দ্র দাসের ডান চোখে এসে তীব্র গতিতে আঘাত করে। পাথরের আঘাতে মুহূর্তের মধ্যে তার চোখ ফেটে রক্তে ভেসে যায় এবং তিনি যন্ত্রণায় ট্রেনের মেঝেতে লুটিয়ে পড়েন।
ট্রেনের ভেতরে এমন আকস্মিক ও রক্তাক্ত ঘটনায় সহযাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ও শোরগোল পড়ে যায়। ট্রেনটি ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলস্টেশনে পৌঁছালে সহকর্মীরা তাকে দ্রুত উদ্ধার করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তার চোখের ক্ষত দেখে প্রাথমিক চিকিৎসা দেন, তবে আঘাত অত্যন্ত গুরুতর হওয়ায় জরুরি ভিত্তিতে তাকে ঢাকার জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে স্থানান্তরের পরামর্শ দেওয়া হয়।
স্বজনরা রাতেই তাকে নিয়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হন। মঙ্গলবার দুপুরে হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের একটি দল তার চোখে জরুরি অস্ত্রোপচার শুরু করেন। বিকেল পর্যন্ত চলা এই অপারেশনে চিকিৎসকরা জানান, পাথরের আঘাতে চোখের ভেতরের অংশ এতটাই চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে গেছে যে সেটি আর আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়। ইনফেকশন যেন মস্তিষ্কে বা অন্য চোখে ছড়িয়ে না পড়ে, সেজন্য চিকিৎসকরা অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তার ডান চোখটি পুরোপুরি ফেলে দিতে বাধ্য হন।
রেলপথের এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা ও নিরাপত্তা ত্রুটি নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও পুলিশ এখনো অন্ধকারে রয়েছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ও উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. শাহ আলম জানান, ঘটনাটি তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভিন্ন পোস্টের মাধ্যমে জানতে পেরেছেন।
রেলওয়ে পুলিশের এই কর্মকর্তা আরও বলেন, ট্রেনটি ঠিক কোন পয়েন্টে থাকা অবস্থায় পাথরটি নিক্ষেপ করা হয়েছে, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য এখনো মেলেনি। তবে আশুগঞ্জের তালশহর বা আশেপাশের পুরো রেললাইন এলাকা জুড়ে খোঁজ নেওয়া হচ্ছে। এই ঘটনার নেপথ্যে কারা রয়েছে এবং কোনো কিশোর গ্যাং বা দুষ্কৃতকারী চক্র এর সঙ্গে জড়িত কি না, তা গভীরভাবে খতিয়ে দেখে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।