খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 21শে ফাল্গুন ১৪৩২ | ৫ই মার্চ ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
খুলনা মহানগরীর ব্যস্ততম বাণিজ্যিক কেন্দ্র ডাকবাংলা মোড় এলাকায় এক ভয়াবহ ও লোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ঈদের কেনাকাটা করতে এসে আততায়ীদের গুলিতে ও ধারালো অস্ত্রের আঘাতে প্রাণ হারিয়েছেন রূপসা-বাগেরহাট আন্তঃজেলা সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি মীনা মাসুম বিল্লাহ। বুধবার (৪ মার্চ) রাত ৯টার দিকে প্রকাশ্য দিবালোকে এবং নিজের মেয়ের চোখের সামনেই এই পৈশাচিক হত্যাকাণ্ডটি সংঘটিত হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নিহত মাসুম বিল্লাহ তার মেয়েকে নিয়ে ডাকবাংলা এলাকার ‘বাটা’ জুতার শোরুমে কেনাকাটা করছিলেন। এমন সময় ৭ জন সশস্ত্র সন্ত্রাসীর একটি দল শোরুমের ভেতরে প্রবেশ করে তাকে লক্ষ্য করে সরাসরি গুলি চালায়। গুলিবিদ্ধ হয়ে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়লে সন্ত্রাসীরা তার মৃত্যু নিশ্চিত করতে শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্র দিয়ে উপর্যুপরি কোপাতে থাকে। আর্তচিৎকাররত মেয়ের সামনেই রক্তাপ্লুত অবস্থায় নিস্তেজ হয়ে পড়েন এই সাবেক শ্রমিক নেতা।
ঘটনার পরপরই সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে স্থানীয় জনতা সাহসিকতার সঙ্গে ধাওয়া করে অশোক ঘোষ নামে একজনকে একটি বিদেশি পিস্তলসহ হাতেনাতে আটক করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ও পরবর্তীতে সেনাবাহিনীকে ঘটনাস্থলে মোতায়েন করা হয়। উত্তেজিত জনতা আটক আসামিকে গণপিটুনি দেওয়ার চেষ্টা করলে নিরাপত্তা বাহিনী তাকে হেফাজতে নেয়।
| বিষয় | বিস্তারিত তথ্য |
| নিহতের নাম | মীনা মাসুম বিল্লাহ। |
| পরিচয় | রূপসা-বাগেরহাট পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি ও বিএনপি নেতা। |
| পারিবারিক ব্যাকগ্রাউন্ড | রূপসার বাগমারা এলাকার বাসিন্দা; সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মীনা কামালের ভাই। |
| আটককৃত ঘাতক | অশোক ঘোষ (উদ্ধারকৃত অস্ত্র: একটি বিদেশি পিস্তল)। |
| ঘটনাস্থল | বাটা বাজার শোরুম, ডাকবাংলা মোড়, খুলনা মহানগরী। |
| হত্যার ধরন | প্রথমে গুলি এবং পরবর্তীতে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করা। |
ঈদের কেনাকাটার এমন ব্যস্ত সময়ে শহরের প্রাণকেন্দ্রে এই হত্যাকাণ্ডের ফলে মুহূর্তের মধ্যে ডাকবাংলা ও সংলগ্ন এলাকার জনজীবন স্থবির হয়ে পড়ে। ভয়ে ও আতঙ্কে কয়েক শ’ বিপণিবিতান বন্ধ করে দেন ব্যবসায়ীরা। কেনাকাটা করতে আসা নারী ও শিশুদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং তারা প্রাণভয়ে এদিক-ওদিক ছুটোছুটি করতে থাকেন। পুরো এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে অতিরিক্ত পুলিশ ও গোয়েন্দা সদস্য।
খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) উপ-পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম জানিয়েছেন, এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। হত্যার নেপথ্যে পরিবহন খাতের দীর্ঘদিনের অভ্যন্তরীণ কোন্দল, আধিপত্য বিস্তার নাকি রাজনৈতিক কোনো কারণ রয়েছে, তা নিবিড়ভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এদিকে হত্যাকাণ্ডের পর খুলনা মেডিক্যাল কলেজ (কুমেক) হাসপাতালে নিহতের স্বজনদের আহাজারিতে এক করুণ পরিবেশের সৃষ্টি হয়। মাসুম বিল্লাহর রাজনৈতিক ও শ্রমিক সংগঠনের সহকর্মীরা এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িত বাকি ছয় ঘাতককে অবিলম্বে গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন। কেএমপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে বাকি অপরাধীদের শনাক্ত করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
খুলনার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির এই আকস্মিক অবনতি ব্যবসায়ীদের মধ্যে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে ঈদের এই মৌসুমে বাজারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জোর দাবি জানিয়েছেন তারা।