খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 16শে শ্রাবণ ১৪৩২ | ৩১ই জুলাই ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
মানবাধিকার সংস্থা মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশন (এমএসএফ) তাদের জুলাই মাসের মানবাধিকার প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে, যেখানে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, বিশেষ করে গণপিটুনি (মব সহিংসতা) এবং অজ্ঞাতনামা লাশের উদ্ধারের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ার বিষয়টি উঠে এসেছে।
বৃহস্পতিবার (৩১ জুলাই) মানবাধিকার সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, গত ১ জুলাই থেকে ৩১ জুলাই পর্যন্ত সংঘটিত ঘটনার ভিত্তিতে জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত সংবাদের তথ্যানুযায়ী প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, জুলাই মাসে দেশে অন্তত ৫১টি গণপিটুনির ঘটনা ঘটেছে, যার ফলে ১৬ জন নিহত এবং ৫৩ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। এসব গণপিটুনির শিকার ৩০ জনকে আহত অবস্থায় পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছে। গণপিটুনির শিকার ব্যক্তিরা বিভিন্ন অভিযোগে—ছিনতাই, চুরি, মাদক ব্যবসা, রাজনৈতিক মতাদর্শ, এবং অন্যান্য অপরাধে শিকার হন। এমএসএফ এই ধরনের বিচারবহির্ভূত কর্মকাণ্ডকে মানবাধিকার লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করে এবং গণপিটুনিতে জড়িত অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে।
এমএসএফের প্রতিবেদন অনুযায়ী, জুলাই মাসে দেশের বিভিন্ন স্থানে ৫১টি অজ্ঞাতনামা লাশ উদ্ধার হয়েছে, যার মধ্যে ৮ জন শিশু, ১ জন কিশোর, ১৩ জন নারী এবং ২৯ জন পুরুষ ছিল। অধিকাংশ লাশ নদী, ডোবা, মহাসড়ক, সেতুর নিচে বা পরিত্যক্ত স্থানে পাওয়া গেছে। বেশ কিছু লাশ গলা কাটা, বস্তাবন্দি ও রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার হয়েছে। এসব ঘটনা নাগরিক জীবনে নিরাপত্তাহীনতা এবং অস্থিরতা সৃষ্টি করছে। এমএসএফ মনে করে, অজ্ঞাতনামা লাশের পরিচয় উদ্ধারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি।
এমএসএফ জানিয়েছে যে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিষ্ক্রিয়তা বা অকার্যকর ভূমিকার কারণে এসব ঘটনাগুলি ঘটছে। বিশেষ করে মব সহিংসতা বা গণপিটুনি, যা দেশের আইন ও মানবাধিকারকে অগ্রাহ্য করে জনগণের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করছে।
এমএসএফ তাদের প্রতিবেদনে আরও জানায়, জুলাই মাসে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হেফাজতে মৃত্যুর ঘটনাও রিপোর্ট করা হয়েছে। এ মাসে কারা হেফাজতে ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে, যা গত মাসের তুলনায় বেড়েছে। এমএসএফ এসব ঘটনা তদন্তের জন্য সরকারকে উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
এমএসএফ সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা ও নির্যাতনের ঘটনা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। জুলাই মাসে ৮টি সংখ্যালঘু নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে, যার মধ্যে রয়েছে ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ এবং প্রতিমা ভাঙচুর।
এমএসএফ জানায়, জুলাই মাসে নারী ও শিশুদের প্রতি সহিংসতার ঘটনায় ৩৫২টি ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে ধর্ষণ, সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনা রয়েছে। নারী ও শিশুদের প্রতি সহিংসতা, বিশেষ করে ধর্ষণ এবং যৌন সহিংসতার ঘটনা প্রখর হয়ে উঠছে, যা দেশের সামাজিক নিরাপত্তাকে চ্যালেঞ্জ করছে।
এমএসএফ জানায়, জুলাই মাসে ১৯টি ঘটনার মধ্যে ৩০ জন সাংবাদিককে হামলা, আইনি হয়রানি, হুমকি ও নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে। সাংবাদিকদের নিরাপত্তা এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য তারা সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।
এমএসএফের প্রতিবেদন বলছে, দেশের বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি খুবই উদ্বেগজনক। তারা বিভিন্ন অপরাধমূলক ঘটনা এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের উপর গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং সরকারের কাছে আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থার মাধ্যমে পরিস্থিতি মোকাবিলার দাবি জানিয়েছে।
খবরওয়ালা/আরডি