খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
পাবনা জেলার আব্দুল হামিদ সড়কে অবস্থিত জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে দীর্ঘ ১৮ মাস পর গতকাল শুক্রবার জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। বিকেল ৪টার দিকে স্থানীয় কিছু নেতা–কর্মী কার্যালয়ে প্রবেশ করে পতাকা উত্তোলন করেন এবং ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ ও ‘শেখ হাসিনা আসবে, বাংলাদেশে হাসবে’ স্লোগান দেন। এই ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে ভিডিওতে নেতা–কর্মীদের মধ্যে জেলা আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক আইনজীবী তৌফিক ইমাম খান, উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতা মাহবুব আলম খান, এবং পৌর আওয়ামী লীগের নেতা রহমান স্লোগান দিতে দেখা যায়।
তবে পতাকা উত্তোলনের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই আজ শনিবার বিকেলে কার্যালয়টিতে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, কয়েকজন তরুণ টায়ার নিয়ে কার্যালয়ে প্রবেশ করে তা জ্বালিয়ে অগ্নিসংযোগ করেন। কার্যালয়টি ভেতরে জোড়ালো বস্তু না থাকায় মূলত টায়ার জ্বালানো হয়, তবে ধোঁয়া ও পোড়া গন্ধ এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে।
পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. দুলাল হোসেন বিষয়টি নজরদারিতে রেখেছেন। তিনি জানান, “শৃঙ্খলাবিরোধী কোনো কার্যক্রম পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
কার্যালয়টি ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর পরিত্যক্ত হয়ে পড়ে। ওই সময় বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা কয়েক দফায় ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ চালিয়ে যায়।
| তারিখ | ঘটনা | নেতৃত্ব/প্রধান ব্যক্তি | বিস্তারিত |
|---|---|---|---|
| ২০২৪-০৮-০৫ | দলীয় নেতা–কর্মীরা আত্মগোপন | — | কার্যালয় পরিত্যক্ত, বিক্ষুব্ধ জনতা ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ চালায় |
| ২০২৬-০২-২১ | জাতীয় পতাকা উত্তোলন | তৌফিক ইমাম খান, মাহবুব আলম খান, রহমান | নেতা–কর্মীরা কার্যালয়ে প্রবেশ করে স্লোগান দেন, ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়ায় |
| ২০২৬-০২-২২ | অগ্নিসংযোগ | অজ্ঞাত তরুণ | টায়ার জ্বালানো হয়, ধোঁয়া ও পোড়া গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে, কার্যালয় ধ্বংসের উপক্রম |
স্থানীয়রা জানান, কার্যালয়টি বর্তমানে এক ধরণের ভুতুড়ে পরিত্যক্ত স্থানে পরিণত হয়েছে। নিচতলার দুটি কক্ষে আগুন এখনও জ্বলছে এবং আশেপাশে নোংরা আবর্জনার স্তূপ দেখা যাচ্ছে। আগুন নেভানোর কোনো প্রচেষ্টা লক্ষ্য করা যায়নি, এবং স্থানীয়রা নিরাপদ দূরত্ব থেকে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন।
পাবনার রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, এই ঘটনা স্থানীয় রাজনৈতিক উত্তেজনা ও দলীয় কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে নিরাপত্তা ও সচেতনতার অভাবের প্রতিফলন। তবে পুলিশ জানিয়েছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।