খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৭ নভেম্বর ২০২৫
ঘরের মাঠে ভারতীয় ক্রিকেট দলের পরাজয়ের খেসারত হিসেবে বিশাল সমালোচনার মুখে পড়েছেন প্রধান কোচ গৌতম গম্ভীর। নিউজিল্যান্ড ও দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে টানা ধবলধোলাই, ব্যাটিং অর্ডারে অদ্ভুত পরীক্ষা-নিরীক্ষা, এবং উইকেট নির্বাচনে প্রশ্নবিদ্ধ সিদ্ধান্ত—সবকিছুই দেশের ক্রিকেটপ্রেমীদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি করেছে। বিশেষত ভারতীয় ফ্যানরা এমন হার খুব কমই দেখে, তাই ক্ষোভের মাত্রা আরও বেড়েছে।
চলতি বছর ঘরের মাঠে ভারত যেভাবে রেকর্ড ব্যবধানে পরাজিত হয়েছে, তা সাম্প্রতিক সময়ে বিরল ঘটনা। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ তো আরও বড় ধাক্কা—২৫ বছর পর ভারতের মাটিতে সিরিজ জিতেছে প্রোটিয়ারা। এমন ঐতিহাসিক হারের পর থেকেই প্রধান কোচ গম্ভীরকে ঘিরে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে তিনি আদৌ উপযুক্ত কি না।
তবে ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস জানায়, বিসিসিআই এখনই কোনো সিদ্ধান্ত নিতে রাজি নয়। তারা নির্বাচক কমিটি, টিম ম্যানেজমেন্ট ও অধিনায়কের সঙ্গে বৈঠক করে সিদ্ধান্তে যেতে চায়। বোর্ডের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, “দল একটা রূপান্তরের ভেতর দিয়ে যাচ্ছে। সামনে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। এখন কোনো বড় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে না।”
সাংবাদিকরা যখন দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজ হারের পর গম্ভীরকে প্রশ্ন করেন যে তিনি নিজেকে টেস্ট দলের সঠিক কোচ মনে করেন কি না, তখন গম্ভীর সরাসরি বলেন, “এটা বিসিসিআই ঠিক করবে।” এই উত্তরের পর সমালোচনা আরও জোরালো হয়।
বোর্ড সূত্র দাবি করে, গম্ভীরের চুক্তি ২০২৭ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপ পর্যন্ত। অর্থাৎ বোর্ড তার প্রতি আস্থা রেখেই দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা করেছে। মাঝপথে পরিবর্তন আনলে দলের উন্নয়ন ব্যাহত হতে পারে। তাই অন্তত এখনই পরিবর্তনের কোনো ইঙ্গিত নেই।
দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজে ভারতের টিম কম্বিনেশনও ব্যাপক সমালোচনার শিকার হয়েছে। বিশেষ করে অলরাউন্ডার ওয়াশিংটন সুন্দরের ব্যাটিং অর্ডার বারবার উপরে পাঠানো—যা বেশিরভাগ বিশ্লেষকের মতে সম্পূর্ণ অযৌক্তিক। শুধু তা-ই নয়, নিজের ব্যাটসম্যানদের ক্ষতি হবে জেনেও অতিরিক্ত টার্নিং উইকেট বানানো নিয়েও উঠেছে প্রশ্ন।
গম্ভীরও স্বীকার করেছেন যে ব্যাটিং ব্যর্থতা ভয়াবহ ছিল। তিনি বলেন, “৯৫/১ থেকে ১২০/৭ হওয়া মেনে নেওয়ার মতো নয়। শুধু স্পিন নয়, এখানে পেসারও ৪ উইকেট নিয়েছে। আগেও এমন হয়েছে।”