খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 27শে মাঘ ১৪৩২ | ৯ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
অধিকৃত গাজা উপত্যকা দীর্ঘদিন ধরেই ইসরাইলের নিয়ন্ত্রণে থাকা সীমান্ত অবরোধ ও চলাচলের কঠোর বিধিনিষেধের কবলে রয়েছে। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া সাম্প্রতিক সংঘর্ষের পর এই নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা কেবল সাময়িক ‘নিরাপত্তা ব্যবস্থা’ নয়, বরং ফিলিস্তিনিদের ওপর সম্মিলিত শাস্তির একটি স্থায়ী হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে। গাজাবাসীর জীবনধারণ, খাদ্য সরবরাহ, শিক্ষা এবং জরুরি চিকিৎসা সেবা এখন পুরোপুরি ইসরাইলি অনুমতির ওপর নির্ভরশীল।
বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেন, ২০২৪ সালের মে মাসে রাফাহ সীমান্ত পারাপারের ফিলিস্তিনি অংশের নিয়ন্ত্রণ ইসরাইল নেওয়ার পর থেকে মানবিক সংকট আরও গভীর হয়েছে। সীমান্ত বন্ধ থাকায় আন্তর্জাতিক সহায়তা পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়েছে। হাজার হাজার টন খাদ্যসামগ্রী আটকা পড়ে নষ্ট হচ্ছে এবং জরুরি ওষুধের সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে।
গাজার জরুরি চিকিৎসা পরিস্থিতি (২০২৬ সালের তথ্য)
| বিষয় | সংখ্যা / অবস্থা |
|---|---|
| বিদেশে চিকিৎসার অপেক্ষায় রোগীর সংখ্যা | ১৮,৫০০+ |
| সীমান্ত পারাপারের অনুমোদিত রোগী | মাত্র কয়েকজন |
| গাজার ভেতরেই মৃত্যু হওয়া রোগী | ১,৬০০+ |
| চিকিৎসার জন্য অপেক্ষায় থাকা শিশু ও বৃদ্ধ | আনুমানিক ৪,০০০+ |
এছাড়া, গাজার শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী ও সাধারণ জনগণও সীমান্ত পারাপারের ক্ষেত্রে বহু স্তরের নিরাপত্তা তল্লাশি, জিজ্ঞাসাবাদ এবং ধীরগতির অনুমোদনের মুখোমুখি। মানবাধিকার কর্মীদের মতে, এই নিয়ন্ত্রণ কেবল ভ্রমণের স্বাধীনতা কেড়ে নেনি, বরং গাজার শিক্ষা, অর্থনীতি এবং পারিবারিক সম্পর্কও ভেঙে দিচ্ছে।
২০০৭ সাল থেকে চলা এই অবরোধের কারণে গাজার উত্তর অংশে দুর্ভিক্ষ দেখা দিয়েছে। জাতিসংঘ বারবার সতর্ক করেছে যে মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর পথে ইসরাইলি সামরিক বাধা সাধারণ মানুষকে চরম খাদ্য সংকটে ফেলছে। বিশ্লেষকরা মনে করেন, ইসরাইলের এই নীতি গাজাবাসীকে এক অনিশ্চিত অন্ধকারের দিকে ঠেলে দিচ্ছে, যা আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী এবং যুদ্ধাপরাধের অন্তর্ভুক্ত।
বর্তমানে, সীমিত সীমান্ত খোলার সময়ও সাধারণ মানুষকে নিরাপত্তা তল্লাশি, দীর্ঘ সময় অপেক্ষা এবং সীমিত অনুমোদনের মধ্য দিয়ে যাত্রা করতে হয়। এর ফলে গাজার অর্থনীতি স্থবির, শিক্ষাব্যবস্থা ব্যাহত এবং পরিবারের পুনর্মিলন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
বিশ্ব সম্প্রদায় বারবার ইসরাইলকে মানবিক সহায়তা unobstructed পৌঁছে দিতে এবং চলাচলের স্বাধীনতা ফিরিয়ে দিতে আহ্বান জানাচ্ছে। মানবাধিকার সংস্থা ও বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, গাজার মানুষের মৌলিক অধিকার রক্ষা করা না হলে এখানে মানবিক বিপর্যয় আরও গভীরতর হবে।