খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫
বাংলা গান মানেই আবেগ, স্মৃতি আর হৃদয়স্পর্শী সুরের এক অনন্ত ভুবন। সেই ভুবনে যদি কারও কণ্ঠ অনায়াসে শ্রোতার হৃদয় ছুঁয়ে যায়, তবে নিঃসন্দেহে তিনি সাবিনা ইয়াসমিন। আজ, ৭২ বছরে পা রাখলেন এই গানের পাখি। অর্ধশতকেরও বেশি সময় ধরে সংগীতের আকাশে তাঁর কণ্ঠ ভেসে এসেছে, কখনো চলচ্চিত্রের পর্দা জুড়ে, কখনো বেতার-টেলিভিশনের সুরে, আবার কখনো মানুষের দৈনন্দিন জীবনের মধুর সঙ্গী হয়ে।
১৯৫৪ সালের ৪ সেপ্টেম্বর, ঢাকায় জন্ম সাবিনা ইয়াসমিনের। ছোটবেলা থেকেই সংগীতের প্রতি অনুরাগ ছিল প্রবল। পরিবারের উৎসাহে তিনি সংগীতশিল্পী হিসেবে বেড়ে ওঠেন। মাত্র নয় বছর বয়সে চলচ্চিত্রে প্রথম কণ্ঠ দেওয়া, যা পরবর্তীতে তাঁর জীবনের পথকে নির্ধারণ করে দেয়।
সাবিনা ইয়াসমিনের কণ্ঠ ছাড়া বাংলাদেশের চলচ্চিত্র ভাবাই যায় না। ষাটের দশক থেকে শুরু করে আজ অবধি তিনি হাজারেরও বেশি গানে কণ্ঠ দিয়েছেন। তাঁর গাওয়া গানগুলো শুধু চলচ্চিত্রের দৃশ্যমানতাকেই সমৃদ্ধ করেনি, বরং সেগুলো মানুষের মনে অমলিন স্মৃতি হয়ে রয়ে গেছে।
‘তুমি কি সেই চাঁদ, তুমি কি সেই ফুল”, ‘শুধু গানের দিনে’, ‘প্রেমের নাম বাবু’, কিংবা ‘জীবন আমার তুমি’—প্রতিটি গান একেকটি মাইলফলক।
১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের দিনগুলোতেও তিনি গানকে করেছেন অস্ত্র। দেশপ্রেমের গান গেয়ে তিনি মুক্তিকামী মানুষের মনোবল বাড়িয়েছিলেন। যুদ্ধের পরে নতুন বাংলাদেশের গানে গানে উজ্জীবিত করেছেন জাতিকে।
বাংলাদেশের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে সর্বাধিকবার (১৪ বার) শ্রেষ্ঠ গায়িকার সম্মান পাওয়া সাবিনা ইয়াসমিনের অর্জনের তালিকা দীর্ঘ। একুশে পদক (১৯৮৪) ও স্বাধীনতা পুরস্কার (১৯৯৬) অর্জন করে তিনি জাতীয় স্বীকৃতির শীর্ষে পৌঁছেছেন। এছাড়াও অসংখ্য পুরস্কার ও সম্মাননা তাঁকে দেশের সীমানা ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক পরিসরেও পরিচিত করেছে।
ব্যক্তিগত জীবনে নানা উত্থান-পতন সত্ত্বেও সংগীত থেকে কখনো বিচ্যুত হননি তিনি। শ্রোতার প্রতি ভালোবাসা এবং সংগীতের প্রতি নিবেদনই তাঁকে এগিয়ে নিয়ে গেছে।
আজকের প্রজন্মের অসংখ্য গায়ক-গায়িকা সাবিনা ইয়াসমিনকে অনুকরণ করে পথ চলেছেন। তিনি শুধু একজন গায়িকা নন, বরং সংগীতের এক জীবন্ত প্রতিষ্ঠান। তাঁর কণ্ঠে গান মানেই সুর ও আবেগের নিখুঁত সমন্বয়।
আজ তাঁর জন্মদিনে সংগীতপ্রেমীরা ফিরে দেখছেন স্মৃতির ভাণ্ডার। সিনেমার পর্দায় কিংবা বেতার-টেলিভিশনের মাইক্রোফোনে, সাবিনা ইয়াসমিনের গান যে বাঙালির সংস্কৃতির অংশ, এ নিয়ে কোনো দ্বিমত নেই।
গানের এই পাখিকে জানাই ৭২তম জন্মদিনের শুভেচ্ছা। তিনি আরও দীর্ঘদিন সুস্থ থাকুন, গানের ভুবনকে আলোকিত করুন—এই কামনাই সকলের।
খবরওয়ালা/এমএজেড