আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: 17শে আশ্বিন ১৪৩২ | ২ই অক্টোবর ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
নবজাতকের নামকরণ নিয়ে পিতা-মাতার মধ্যে আনন্দ এবং দ্বিধার শেষ নেই। কিন্তু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সান ফ্রান্সিসকো নিবাসী টেলর এ হামপ্রি শিশুদের নাম নির্বাচনকে তাঁর পেশা হিসেবে গ্রহণ করেছেন। নতুন বাবা-মাকে তাদের শিশুর জন্য উপযুক্ত নাম খুঁজে দিতে সাহায্য করাই তাঁর কাজ। এই সেবার বিনিময়ে তিনি লক্ষ লক্ষ টাকা পারিশ্রমিক নেন।
দ্য নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, একটি শিশুর নাম ঠিক করে দেওয়ার জন্য হামপ্রি সর্বোচ্চ ৩০ হাজার ডলার পর্যন্ত ফি নেন, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৩৬ লাখ টাকার সমতুল্য।
নামের প্রতি হামপ্রির অনুরাগ বহু পুরোনো। এক দশক আগে তিনি শিশুদের নামকরণ সংক্রান্ত অনলাইন পরিষেবা প্রদান শুরু করেন। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অ্যাকাউন্ট তৈরি করে শিশুদের নাম নির্বাচন নিয়ে প্রচার চালাতে থাকেন। বর্তমানে টিকটক ও ইনস্টাগ্রামে তাঁর অনুসারীর সংখ্যা এক লক্ষের বেশি। এখন পর্যন্ত তিনি পাঁচ শতাধিক শিশুর নাম রাখতে সহায়তা করেছেন।
গর্ভবতী নারীদের মানসিক ও শারীরিক সহযোগিতা দেওয়ার বিষয়ে হামপ্রির বিশেষ প্রশিক্ষণ রয়েছে। এছাড়া ব্র্যান্ডিং ও বিপণন বিষয়েও তাঁর অভিজ্ঞতা আছে। নামকরণের এই ব্যবসা পরিচালনার ক্ষেত্রে এসব বিষয় তাঁকে সাহায্য করেছে।
নবজাতকের বাবা-মায়ের পছন্দ বুঝতে হামপ্রি তাঁদের বিভিন্ন ধরনের প্রশ্ন করেন। সাধারণ ই-মেইলের মাধ্যমে নামের তালিকা সহ পরামর্শ প্রদানের জন্য তিনি ২০০ ডলার (প্রায় ২৪ হাজার টাকা) গ্রহণ করেন। আর একটি পূর্ণাঙ্গ প্যাকেজের জন্য তিনি ৩০ হাজার ডলার নেন। এই প্যাকেজে অন্যান্য কাজের পাশাপাশি যে শিশুর নাম রাখা হবে, তার পারিবারিক ইতিহাসও খতিয়ে দেখা হয়।
শুধুমাত্র নাম প্রস্তাব করাই নয়, শিশুর নাম নির্বাচন নিয়ে বাবা-মায়ের মধ্যে মতবিরোধ দেখা দিলে হামপ্রিকে অনেক সময় মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকাও পালন করতে হয়। বিত্তশালী পরিবার ছাড়াও পরিচিত তারকারাও তাঁদের নবজাতকের নামকরণের জন্য তাঁর শরণাপন্ন হন।
২০২১ সালে নিউইয়র্কার পত্রিকায় হামপ্রির পরিচিতিমূলক নিবন্ধ প্রকাশিত হয়। এরপর থেকেই তাঁর জনপ্রিয়তা আরও বৃদ্ধি পায়।
হামপ্রিকে নিয়ে অনলাইনে কিছুটা সমালোচনাও হয়। এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমাকে নিয়ে ব্যঙ্গ করা হয়েছে, এমন আধেয় (কনটেন্ট) এর মাধ্যমেই মানুষ প্রায়শই আমাকে খুঁজে পায়। তাই আমি এটি মেনে নিয়েছি। কারণ, আমি বিশ্বাস করি, আমার কাজটি সত্যিই গুরুত্বপূর্ণ।”
খবরওয়ালা/টিএসএন