খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬
চাঁপাইনবাবগঞ্জে গৃহশিক্ষিকা মরিয়ম বেগম হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার গৃহবধূ সুমাইয়া আক্তার সুমি আদালতে হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে তিনি উল্লেখ করেন, কাঠের বাটাম দিয়ে আঘাত করার পর শ্বাসরোধ করে একাই মরিয়ম বেগমকে হত্যা করেন।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর আমলি আদালতের জ্যেষ্ঠ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. আশরাফুল ইসলাম বুধবার সন্ধ্যায় ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় তার জবানবন্দি রেকর্ড করেন। বৃহস্পতিবার সকালে চাঁপাইনবাবগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এ এন এম ওয়াসিম ফিরোজ বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, নিহত মরিয়ম বেগম চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর এলাকার উজ্জ্বলপাড়ার বাসিন্দা এবং মোসাদ্দেক হোসেনের স্ত্রী। তিনি সুমাইয়া আক্তার সুমির সন্তানকে ব্যক্তিগতভাবে পড়াতেন। গত ১৮ মে তিনি সুমির বাসায় পড়াতে যান। সে সময় নিজের ছেলের জন্য একটি বহনযোগ্য কম্পিউটার কেনার উদ্দেশ্যে তিনি সুমির কাছে কিছু টাকা ধার চান। তবে সুমির কাছে টাকা না থাকায় তিনি তা দিতে পারেননি।
পরে মরিয়ম বেগম তার কানে থাকা দুটি স্বর্ণের দুল বিক্রি করার জন্য সুমিকে দেন। পুলিশ জানায়, দুল দুটি স্থানীয় স্বর্ণকার দীপক সাহার কাছে ১২ হাজার টাকায় বিক্রি করা হয়। সেই টাকা থেকে সুমি ৫ হাজার টাকা খরচ করেন। এ বিষয় নিয়ে মরিয়ম বেগম ও সুমির মধ্যে তর্কাতর্কির সৃষ্টি হয়।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এ এন এম ওয়াসিম ফিরোজ জানান, একপর্যায়ে সুমি ঘরে থাকা কাঠের বাটাম দিয়ে মরিয়ম বেগমকে আঘাত করেন। আঘাতের পর মরিয়ম চিৎকার করলে তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। হত্যাকাণ্ডের পর মরদেহ একটি মোটা কাপড়ে জড়িয়ে প্রথমে শয়নকক্ষের খাটের নিচে রাখা হয়। পরে মরদেহটি বস্তার মধ্যে ভরে ঘরের বাইরের একটি স্থানে সরিয়ে রাখা হয়। রাতের দিকে সুমি তার স্বামী মো. রুবেলকে পুরো ঘটনা জানান।
এরপর ১৯ মে সকালে চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর এলাকার নামোশংকরবাটি চৌকাপাড়ায় সুমির বাড়ি থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় মরিয়ম বেগমের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। একই ঘটনায় সুমাইয়া আক্তার সুমি, তার স্বামী মো. রুবেল, শ্বশুর আনোয়ার হোসেন এবং স্বর্ণকার দীপক সাহাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ আরও জানায়, স্বর্ণকার দীপক সাহাও আদালতে জবানবন্দি দিয়ে সুমির কাছ থেকে স্বর্ণের দুল কেনার বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তদন্তের অংশ হিসেবে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত কাঠের বাটাম, মরিয়ম বেগমের এক জোড়া কানের দুল এবং দুল বিক্রির অবশিষ্ট ৭ হাজার ৫০০ টাকা জব্দ করা হয়েছে।
ঘটনার পর নিহতের ছেলে মোবারক হোসেন বাদী হয়ে ১৯ মে সদর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলাটির তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| নিহতের নাম | মরিয়ম বেগম |
| পেশা | গৃহশিক্ষিকা |
| ঘটনার স্থান | নামোশংকরবাটি চৌকাপাড়া, চাঁপাইনবাবগঞ্জ |
| মরদেহ উদ্ধারের তারিখ | ১৯ মে |
| প্রধান অভিযুক্ত | সুমাইয়া আক্তার সুমি |
| হত্যার পদ্ধতি | কাঠের বাটাম দিয়ে আঘাত ও শ্বাসরোধ |
| জব্দ আলামত | কাঠের বাটাম, স্বর্ণের দুল, ৭ হাজার ৫০০ টাকা |
| মামলা দায়েরকারী | মোবারক হোসেন |
| আদালতে জবানবন্দি | ১৬৪ ধারায় রেকর্ড করা হয়েছে |