খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ১৮ জুলাই ২০২৫
গোপালগঞ্জে চলছে কঠোর কারফিউ। শহরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের দল বেঁধে টহল দিতে দেখা গেছে। এর মধ্যেই যৌথ বাহিনীর অভিযানে এখন পর্যন্ত ৪৫ জনকে আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
শুক্রবার (১৮ জুলাই) দুপুরে গোপালগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মির মো. সাজেদুর রহমান জানান, “এখন পর্যন্ত ৪৫ জনকে আটক করে থানায় রাখা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ২৫ জনকে আটক করা হয়, পরে রাতে আরও ২০ জনকে জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে আটক করা হয়।”
তিনি আরও জানান, বুধবার সংঘর্ষ চলাকালে গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার উলপুর ইউনিয়নের খাটিয়াগড় চরপাড়া এলাকায় পুলিশের ওপর হামলা, গাড়ি ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় একটি মামলার প্রস্তুতি চলছে। এ ঘটনায় গোপীনাথপুর পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক আহমদ বিশ্বাস বাদী হয়ে মামলা করবেন। মামলায় নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের গোপালগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ ৭৫ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতপরিচয় আরও ৪০০ থেকে ৫০০ জনকে আসামি করা হবে।
আটকদের ২৪ ঘণ্টার বেশি সময় পার হলেও এখনো আদালতে হাজির না করার বিষয়ে জানতে চাইলে ওসি জানান, “তাঁদের দ্রুততম সময়ের মধ্যে আদালতে তোলা হবে। মামলার বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”
এর আগে, বুধবার (১৬ জুলাই) এনসিপির ঘোষিত পদযাত্রাকে কেন্দ্র করে গোপালগঞ্জে ব্যাপক সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। দিনভর চলে হামলা, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও ককটেল বিস্ফোরণ। এসব ঘটনায় আওয়ামী লীগ ও নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তাঁদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংঘর্ষে পাঁচজন নিহত হন। অন্তত আটজন গুলিবিদ্ধসহ আহত হন আরও অর্ধশতাধিক।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সেদিন রাতেই গোপালগঞ্জে কারফিউ জারি করা হয়। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার সরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে বৈঠক শেষে জানান, কারফিউয়ের সময়সীমা দ্বিতীয় দফায় বাড়িয়ে শুক্রবার সকাল ১১টা পর্যন্ত করা হয়েছে। এরপর আংশিক শিথিল করে দুপুর ২টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত কারফিউ কার্যকর থাকবে।
খবরওয়ালা/এমএজেড