খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ৭ মার্চ ২০২৬
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের তেররশিয়া পোড়াগ্রামে অবস্থিত একটি জামে মসজিদের কমিটি সম্প্রতি গ্রামের সব ধরনের গানবাজনা ও বাদ্যযন্ত্র বাজানো নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে। কমিটির পক্ষ থেকে ‘সমাজ সংস্কার’ নামের আড়ালে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় এবং গ্রামে কোনো বিয়ের অনুষ্ঠানে গানবাজনা হলে সেখানে ধর্মীয় রীতিতে বিয়ে পড়ানোর বিষয়ে স্থানীয় আলেমদের অংশগ্রহণও স্থগিত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়।
প্রায় দুই মাস আগে মসজিদ কমিটি এই বিষয়ে একটি নোটিশ জারি করে। নোটিশে উল্লেখ করা হয়, “আমরা আমাদের গ্রামের পরিবেশ, যুবসমাজের নৈতিকতা এবং পারিবারিক শান্তি রক্ষার জন্য শিরক, বিদ’আত, গান–বাজনা ও অপসংস্কৃতি ইসলামের দৃষ্টিতে হারাম ও ক্ষতিকর হওয়ায় গানবাজনা সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ ঘোষণা করছি। এর পরও যারা বাদ্যযন্ত্র বাজাবে, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
নোটিশে মোট ৩৪ জন মসজিদ কমিটির সদস্য ও গ্রামবাসীর স্বাক্ষর রয়েছে। পাশাপাশি গ্রামের মোড়ে ব্যানার ও ফেস্টুনের মাধ্যমে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়। নোটিশ জারির পর থেকে গ্রামে গানবাজনা ও সাউন্ডবক্সের ব্যবহার বন্ধ থাকে।
তবে বিষয়টি সম্প্রতি জনসমক্ষে আসার পর প্রশাসন সর্তক হয়ে ওঠে। পুলিশ গিয়ে ব্যানার, ফেস্টুন ও নোটিশ জব্দ করে থানায় নিয়ে আসে। সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মারুফ আফজাল (রাজন) জানিয়েছেন, মসজিদ কমিটির কয়েকজন সদস্যকে ডেকে পাঠানো হয়েছে। তারা স্বীকার করেছেন যে, গানবাজনা নিষিদ্ধের নোটিশটি গ্রামের স্বার্থে না বুঝে জারি করা হয়েছিল। কমিটি লিখিতভাবে সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের পাশাপাশি ক্ষমা প্রার্থনা করেছে।
গ্রামে স্থানীয়দের মধ্যে এই সিদ্ধান্তকে নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। প্রবীণরা কিছুটা সমর্থন জানালেও, তরুণরা অসন্তুষ্ট। নারী সম্প্রদায়ের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে, কারণ বিয়েবাড়িতে গান বা গীত গাওয়ার সুযোগ বন্ধ হয়ে গেছে। কিশোরদের সাউন্ডবক্সে গান ও পিকনিকও এখন নিষিদ্ধ।
গ্রামের কিছু ব্যক্তি অভিযোগ করেছেন যে, কমিটি এমনকি জানিয়েছে, নামাজ না পড়া ব্যক্তিদের জানাজা পড়ানো হবে না। যদিও বেশিরভাগ গ্রামবাসী এই নির্দেশ মানতে নারাজ।
নিচের টেবিলে ঘটনার মূল তথ্য সংক্ষেপে দেওয়া হলো:
| বিষয় | বিস্তারিত তথ্য |
|---|---|
| স্থান | তেররশিয়া পোড়াগ্রাম, ইসলামপুর ইউনিয়ন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর |
| সিদ্ধান্ত | গানবাজনা ও বাদ্যযন্ত্র সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ |
| নোটিশ প্রকাশ | প্রায় দুই মাস আগে |
| স্বাক্ষর | ৩৪ জন মসজিদ কমিটি ও গ্রামবাসী |
| প্রশাসনের পদক্ষেপ | ব্যানার ও নোটিশ জব্দ, কমিটির সদস্যদের ডেকে পাঠানো |
| স্থানীয় প্রতিক্রিয়া | প্রবীণদের সমর্থন, তরুণ ও নারীদের অসন্তোষ |
| অতিরিক্ত সিদ্ধান্ত | বিয়েবাড়িতে গান হলে আলেমরা বিয়ে পড়াতে যাবেন না |
গ্রামের নেতৃস্থানীয়রা মনে করছেন, গানবাজনা ও বিনোদন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক চেতনার একটি অংশ, যা সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করা সম্ভব নয়। এ ঘটনায় গ্রামে সামাজিক ও ধর্মীয় বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে, যা এখনও শান্ত হয়নি।