খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 12শে পৌষ ১৪৩২ | ২৬ই ডিসেম্বর ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
ঘন কুয়াশার কারণে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌরুট পাটুরিয়া–দৌলতদিয়ায় ফেরি চলাচল সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে গেছে। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১২টা থেকে দুর্ঘটনার ঝুঁকি এড়াতে সাময়িকভাবে সব ধরনের ফেরি সার্ভিস স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেয় কর্তৃপক্ষ। এতে মাঝ পদ্মা নদীতে যানবাহনবোঝাই তিনটি ফেরি আটকে পড়েছে এবং দুই পাড়ের ঘাট এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে তীব্র যানজট ও যাত্রীভোগান্তি।
কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কুয়াশার ঘনত্ব অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়। দৃশ্যমানতা এতটাই কমে আসে যে ফেরির ব্রিজ থেকে নদীর দিকনির্দেশনা, আশপাশের নৌযান কিংবা তীরভূমি স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছিল না। এই পরিস্থিতিতে নৌপথে চলাচল অব্যাহত রাখা মারাত্মক দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে—এমন আশঙ্কায় ফেরি মাস্টারদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সার্ভিস বন্ধ রাখা হয়।
ফেরি চলাচল বন্ধ থাকায় মাঝ পদ্মা নদীতে নোঙর করে রাখা হয়েছে রো-রো ফেরি শাহ পরান, রো-রো ফেরি গোলাম মাওলা এবং ফেরি বাইগার। এসব ফেরিতে পণ্যবাহী ট্রাক, যাত্রীবাহী বাস ও ব্যক্তিগত যানবাহন রয়েছে। দীর্ঘ সময় নদীর মাঝখানে আটকে থাকায় ফেরিতে থাকা যাত্রীদের মধ্যে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা তৈরি হয়েছে, যদিও নিরাপত্তার স্বার্থেই এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
এদিকে পাটুরিয়া ও দৌলতদিয়া ঘাটের বিভিন্ন পয়েন্টে আরও একাধিক ফেরি চলাচলের অপেক্ষায় আটকে রয়েছে। ফেরি বন্ধ থাকায় ঢাকা থেকে দক্ষিণ ও পশ্চিমাঞ্চলের রাজবাড়ী, ফরিদপুর, খুলনা, যশোর, কুষ্টিয়া ও বরিশাল অঞ্চলের সঙ্গে পাটুরিয়া ঘাট হয়ে সড়ক যোগাযোগ কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। ঘাট এলাকায় পণ্যবাহী ট্রাক, দূরপাল্লার বাস, প্রাইভেটকার ও মাইক্রোবাসের দীর্ঘ সারি দেখা গেছে। অনেক চালক ও যাত্রীকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে।
বাংলাদেশ নৌ-পরিবহন করপোরেশন (বিআইডব্লিউটিসি) আরিচা এরিয়া অফিসের উপ-মহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) আব্দুস সালাম বলেন, “ঘন কুয়াশার কারণে দৃশ্যমানতা বিপজ্জনক মাত্রায় নেমে এসেছে। ফেরি মাস্টারদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী যাত্রী ও যানবাহনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই সাময়িকভাবে ফেরি চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। কুয়াশা কমে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেই দ্রুত ফেরি সার্ভিস চালু করা হবে।”
তিনি আরও জানান, এটি শীত মৌসুমে নিয়মিতভাবে দেখা দেওয়া একটি প্রাকৃতিক সমস্যা। বিশেষ করে গভীর রাত ও ভোরের দিকে নদী এলাকায় কুয়াশার প্রকোপ বেশি থাকে। এ কারণে প্রতিবারই পরিস্থিতি মূল্যায়ন করে ফেরি চলাচল বন্ধ বা চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ফেরি বন্ধ থাকায় সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন পণ্যবাহী ট্রাকচালকরা। অনেক ট্রাকে রয়েছে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য, কৃষিপণ্য ও শিল্পকারখানার কাঁচামাল। দেরিতে গন্তব্যে পৌঁছানোর কারণে আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা করছেন তারা। পাশাপাশি যাত্রীদের মধ্যেও চরম দুর্ভোগ দেখা দিয়েছে, বিশেষ করে নারী, শিশু ও বয়স্ক যাত্রীদের জন্য অপেক্ষার সময়টা কষ্টকর হয়ে উঠেছে।
ঘটনার সারসংক্ষেপ ও বর্তমান পরিস্থিতি নিচের টেবিলে তুলে ধরা হলো—
বিষয় | তথ্য
সময় | বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১২টা থেকে
কারণ | ঘন কুয়াশা ও দৃশ্যমানতা কমে যাওয়া
রুট | পাটুরিয়া–দৌলতদিয়া নৌপথ
বন্ধের ধরন | সাময়িকভাবে সব ফেরি চলাচল বন্ধ
মাঝ নদীতে আটকে ফেরি | শাহ পরান, গোলাম মাওলা, বাইগার
দায়িত্বশীল সংস্থা | বিআইডব্লিউটিসি
প্রভাবিত এলাকা | ঢাকা–দক্ষিণ ও পশ্চিমাঞ্চল সড়ক যোগাযোগ
কর্তৃপক্ষের বক্তব্য | কুয়াশা কাটলেই ফেরি চলাচল শুরু
বিআইডব্লিউটিসি কর্তৃপক্ষ আশ্বস্ত করেছে, আবহাওয়া অনুকূলে এলেই এবং দৃশ্যমানতা নিরাপদ পর্যায়ে পৌঁছালেই ধাপে ধাপে ফেরি সার্ভিস পুনরায় চালু করা হবে। ততদিন পর্যন্ত যাত্রী ও চালকদের ধৈর্য ধারণ এবং নিরাপত্তা নির্দেশনা মেনে চলার অনুরোধ জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
শীত মৌসুমে ঘন কুয়াশাজনিত এ ধরনের পরিস্থিতি নতুন নয়। তবে পাটুরিয়া–দৌলতদিয়া নৌরুটে প্রতিদিন হাজার হাজার যানবাহন ও যাত্রী চলাচল করায় ফেরি বন্ধের প্রভাব তুলনামূলকভাবে বেশি পড়ে। তাই দ্রুত কুয়াশা কাটবে এবং স্বাভাবিক যোগাযোগ ব্যবস্থা ফিরবে—এই প্রত্যাশায় রয়েছেন যাত্রী, চালক ও সংশ্লিষ্ট সবাই।