খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 28শে ফাল্গুন ১৪৩২ | ১২ই মার্চ ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
আজকাল অনেকেই রাতের অন্ধকারে মোবাইল স্ক্রল করে ঘুমান এবং সকালে ঘুম ভেঙে হাতেই মোবাইল ধরে সামাজিক মাধ্যম বা সংবাদ দেখে থাকেন। এই অভ্যাস স্বাভাবিক মনে হলেও নিয়মিত এ ধরনের আচরণ শরীর ও মনের উপর গভীর প্রভাব ফেলে। বিশেষত, ঘুম ভাঙার সঙ্গে সঙ্গে মোবাইল ব্যবহারে মস্তিষ্ক ও দৃষ্টিশক্তি, মনোযোগ ও মানসিক স্বাস্থ্যে সমস্যা দেখা দিতে পারে।
ঘুমের সময়ে মস্তিষ্ক বিশ্রামে থাকে এবং ডেল্টা মোডে থাকে। ঘুম ভাঙার সঙ্গে সঙ্গে এটি ধীরে ধীরে থিটা এবং আলফা মোডে আসে। কিন্তু কেউ ঘুম থেকেই মোবাইল স্ক্রল শুরু করলে মস্তিষ্ক হঠাৎ ডেল্টা থেকে সরাসরি বিটা মোডে চলে যায়। এতে মস্তিষ্কে অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয় এবং দিনভর মনোযোগ কমে যায়।
সকালের সময় শরীরে কর্টিসল হরমোনের মাত্রা স্বাভাবিকভাবেই বেশি থাকে। এই সময় মোবাইল স্ক্রল করলে মানসিক চাপ আরও বৃদ্ধি পায়। নানারকম সংবাদ, মেসেজ ও সামাজিক মাধ্যমে সমালোচনার তথ্য মনকে অস্থির করে, যার ফলে উদ্বেগ এবং মানসিক ক্লান্তি বাড়ে।
মোবাইলের নীল রশ্মি চোখের জন্য ক্ষতিকর। সকালে ঘুম ভেঙে সঙ্গে সঙ্গে মোবাইল ব্যবহার করলে চোখে শুষ্কতা, চুলকানি এবং ড্রাই আইজ়ের সমস্যা দেখা দেয়। দীর্ঘমেয়াদে দৃষ্টিশক্তিতেও সমস্যা হতে পারে।
ঘুম ভাঙার সঙ্গে সঙ্গে মোবাইল ব্যবহার দিনের শুরুতেই মনোযোগে ব্যাঘাত ঘটায়। এটি কাজের প্রতি আগ্রহ কমিয়ে দেয়। পাশাপাশি নেতিবাচক মন্তব্য বা সমালোচনা মস্তিষ্কে দীর্ঘ সময় ধরে প্রভাব ফেলে, ফলে সারাদিন ওই বিষয়গুলো মাথায় ঘুরপাক খায়।
মোবাইলের নীল আলো মেলাটোনিন হরমোনের নিঃসরণে বাধা দেয়। এই হরমোন ঘুমের চক্র নিয়ন্ত্রণ করে। রাতের মোবাইল ব্যবহার ঘুমে ব্যাঘাত ঘটায়। সকালে ঘুম থেকে ওঠার সঙ্গে সঙ্গে মোবাইল ব্যবহারও হরমোনের প্রাকৃতিক নিঃসরণে বাধা তৈরি করে, যা উদ্বেগ ও অনিদ্রার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
সকালে মোবাইল ব্যবহারে স্বাস্থ্যঝুঁকি কমাতে বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দেন, ঘুম ভাঙার ৩০ মিনিট থেকে এক ঘণ্টা পরে মোবাইল ব্যবহার করা। এতে মস্তিষ্ক এবং দেহের প্রাকৃতিক ঘুম-জাগ্রত চক্র বজায় থাকে।
নিম্নের টেবিলে ঘুম ভাঙার সঙ্গে মোবাইল ব্যবহারের প্রভাব সংক্ষেপে দেখানো হলো:
| প্রভাব ক্ষেত্র | সমস্যা/প্রতিক্রিয়া | সমাধান/সতর্কতা |
|---|---|---|
| মস্তিষ্ক | হঠাৎ চাপ, মনোযোগ কমে যাওয়া | ঘুম ভাঙার ৩০-৬০ মিনিট পরে মোবাইল ব্যবহার |
| মানসিক চাপ | উদ্বেগ, স্ট্রেস, অ্যাংজাইটি | প্রাতঃকালের শান্ত সময় কেটে দেওয়া |
| চোখ | ড্রাই আইজ়, চোখে ক্লান্তি | নীল আলো রোধকারী গ্লাস ব্যবহার, বিরতি দেওয়া |
| মনোযোগ | কাজের প্রতি উদাসীনতা | ফোন ব্যবহারের আগে ছোট নাস্তা বা হাঁটা |
| ঘুম | অনিদ্রা, মেলাটোনিন হরমোনে ব্যাঘাত | রাতে মোবাইল সীমিত ব্যবহার, সকালেও ধীর ব্যবহার |
সঠিক অভ্যাসে ঘুম ভাঙার পর মোবাইল ব্যবহারে শরীর ও মনের উপর নেতিবাচক প্রভাব অনেকটাই কমানো সম্ভব। নিয়মিত বিশ্রাম ও সচেতন প্রযুক্তি ব্যবহার সুস্থ জীবনধারার জন্য অপরিহার্য।