খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ৮ জুন ২০২৬
রাজশাহীর বাগমারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি, তদন্ত) কমলেশ দাসের বিরুদ্ধে এক ব্যক্তির কাছ থেকে ঘুষ গ্রহণের একটি ভিডিও ক্লিপ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এই ঘটনার পর প্রশাসনিক ব্যবস্থা হিসেবে তাকে বাগমারা থানা থেকে প্রত্যাহার করে রাজশাহী জেলা পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে। নিজ কার্যালয়ে বসে অবৈধ অর্থ লেনদেনের এই ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ার পর জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নজরে আসে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে পুলিশ প্রশাসনের ভাবমূর্তি অক্ষুণ্ন রাখতে এবং ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে তাৎক্ষণিকভাবে এই শাস্তিমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ওই ভিডিও ক্লিপটি মোট ৫২ সেকেন্ডের। ভিডিওটিতে দেখা যায়, বাগমারা থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) কমলেশ দাস তার নিজস্ব দাপ্তরিক কার্যালয়ে চেয়ারে বসে আছেন। এ সময় এক ব্যক্তি তার সামনে এসে একটি খাম হস্তান্তর করেন। কমলেশ দাস খামটি গ্রহণ করে তার ভেতরে থাকা টাকাগুলো বের করেন এবং অত্যন্ত দ্রুততার সাথে তা গণনা করেন। টাকা গণনা শেষ করার পর তিনি সেই অর্থ নিজের পকেটে থাকা মানিব্যাগে ঢুকিয়ে রাখেন। সম্পূর্ণ অর্থ লেনদেনের সময় অর্থ প্রদানকারী অজ্ঞাত ঐ ব্যক্তির সাথে পুলিশ কর্মকর্তা কমলেশ দাসকে অত্যন্ত স্বাভাবিক ও হাস্যোজ্জ্বল ভঙ্গিতে কথাবার্তা বলতে দেখা যায়।
তবে ছড়িয়ে পড়া এই ভিডিওটির কিছু সীমাবদ্ধতাও পরিলক্ষিত হয়েছে। ভিডিওর দৃশ্যটি স্পষ্ট হলেও সেখানে অর্থ প্রদানকারী ব্যক্তির পরিচয় সুনির্দিষ্টভাবে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। এর পাশাপাশি ভিডিওটির অডিও বা শব্দ ধারণের ব্যবস্থা বন্ধ ছিল। ফলে অর্থ লেনদেনের সময় ওই পুলিশ কর্মকর্তা এবং অর্থ প্রদানকারী ব্যক্তির মধ্যে ঠিক কী ধরনের কথোপকথন হয়েছিল, তা জানা যায়নি। অডিও না থাকায় ঠিক কী কাজ করে দেওয়ার উদ্দেশ্যে বা কী কারণে এই অর্থের আদান-প্রদান সংঘটিত হয়েছিল, সে বিষয়েও প্রাথমিকভাবে কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।
ঘুষ গ্রহণের এই গুরুতর অভিযোগ এবং ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার প্রসঙ্গে অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তা কমলেশ দাসের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগটি সম্পূর্ণ অস্বীকার করেন। তিনি দাবি করেন যে, তাকে একটি সুনির্দিষ্ট মহলের পক্ষ থেকে পরিকল্পিতভাবে ফাঁসানোর উদ্দেশ্যে এই ঘটনাটি ঘটানো হয়েছে। নিজের আত্মপক্ষ সমর্থনে ওসি (তদন্ত) কমলেশ দাস আরও বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যেভাবে বিষয়টি উপস্থাপন করা হচ্ছে বা দাবি করা হচ্ছে, বাস্তবে তিনি কোনো ধরণের ঘুষের টাকা গ্রহণ করেননি। তার দাবি অনুযায়ী, এটি তার বিরুদ্ধে একটি গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ মাত্র।
এই সংবেদনশীল বিষয়ে রাজশাহী জেলা পুলিশের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া গেছে। জেলা পুলিশের মুখপাত্র ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাবিনা ইয়াসমিন গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করছে জেলা পুলিশ প্রশাসন। পুরো ঘটনাটি খতিয়ে দেখতে ইতিমধ্যে একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, তদন্তের কাজ যেন সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ ও প্রভাবমুক্তভাবে সম্পন্ন হতে পারে, সেই স্বার্থেই সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা কমলেশ দাসকে বাগমারা থানা থেকে প্রত্যাহার করে সাময়িকভাবে পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে। তদন্ত কমিটির আনুষ্ঠানিক অনুসন্ধান শেষ হওয়ার পর এবং তদন্তে প্রাপ্ত চূড়ান্ত তথ্যের ভিত্তিতে এই পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পরবর্তী প্রয়োজনীয় আইনি ও বিভাগীয় কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে।