খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৭ মে ২০২৫
চলতি অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে দেশের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে সন্দেহজনক লেনদেনের পরিমাণ আগের বছরের তুলনায় ৫৬ শতাংশ বেড়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)। মঙ্গলবার (২২ মে) বাংলাদেশ ব্যাংকে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য প্রকাশ করে সংস্থাটি। সংস্থাটি জানায়, মূলত জুলাই বিপ্লবের পর এ ধরনের রিপোর্টিং ব্যাপক বেড়েছে।
বিএফআইইউ জানায়, ২০২২-২৩ অর্থবছরে ১৪ হাজার ১০৬টি সন্দেহজনক লেনদেন শনাক্ত করা হয়েছিল, যা ২০২৩-২৪ অর্থবছরে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৭ হাজার ৩৪৫টিতে। একইসঙ্গে বিভিন্ন আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও সরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ১ হাজার ১২০টি তথ্য বিনিময় করা হয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ১৪ শতাংশ বেশি।
সংস্থাটির প্রধান মো. শাহীনুল ইসলাম বলেন, ‘মানি লন্ডারিং ও সন্ত্রাসী কার্যক্রমে অর্থায়ন প্রতিরোধ করে একটি স্থিতিশীল আর্থিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা বিএফআইইউর অন্যতম লক্ষ্য। এজন্য আমরা সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা কামনা করি।’
সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে দেশ থেকে প্রায় ২০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার পাচার হয়েছে। তিনি আরও বলেন, দুর্বল ব্যাংকগুলোর একীভূতকরণের আগে সরকার এগুলোর নিয়ন্ত্রণ নেবে। এ নিয়ে আমানতকারীদের উদ্বিগ্ন হওয়ার প্রয়োজন নেই।’
গভর্নর বলেন, ‘লক্ষ্য হচ্ছে টাকা উদ্ধার করা—হয়রানি নয়। কারও বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আগে আমাদের দেখতে হবে, কীভাবে ব্যাংক থেকে টাকা গেছে এবং তা কীভাবে ফেরত আনা যায়।’
তিনি আরও বলেন, ‘ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানকে ক্ষতিগ্রস্ত করে কোনো ব্যাংক হিসাব জব্দ করা হবে না। সরকার প্রাথমিকভাবে ইসলামী ব্যাংকগুলোকে একীভূত করার চিন্তাভাবনা করছে। তবে একসঙ্গে সব ব্যাংকে এ প্রক্রিয়া চালানো সম্ভব নয়, কারণ সরকারের সক্ষমতাও সীমিত। আমরা একবারে সব ব্যাংকে একীভূতকরণ করতে পারব না। তাই প্রথম ধাপে ইসলামী ব্যাংকগুলো নিয়ে পরিকল্পনা হচ্ছে। আইন অনুযায়ী, প্রয়োজনে সরকারীকরণও করা হবে।’
বিএফআইইউ জানায়, কেবল সংস্থাটি নিজেরা উদ্যোগী হয়ে কোনো ব্যাংক হিসাব জব্দ করে না; বরং বিভিন্ন আইন প্রয়োগকারী সংস্থা বা সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষের অভিযোগের ভিত্তিতে এই ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
উল্লেখ্য, প্রতিবছর দুর্নীতি, অনিয়ম ও অর্থ পাচারের মাধ্যমে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে হাজার হাজার কোটি টাকার লেনদেন হয়ে থাকে। যার একটি বড় অংশ পাচার হয়ে গেলেও বেশিরভাগ অপরাধী থেকে যায় ধরা-ছোঁয়ার বাইরে।
বাংলাদেশ ব্যাংক ও বিএফআইইউ-এর পক্ষ থেকে এসময় আর্থিক খাতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এবং আমানতকারীদের স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণের আশ্বাস দেওয়া হয়।
খবরওয়ালা/আরডি