খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 29শে পৌষ ১৪৩২ | ১২ই জানুয়ারি ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
নীলফামারীর সৈয়দপুর শহরে চাঁদাবাজির প্রতিবাদে শহরের সব মাছের দোকান তিন দিন ধরে বন্ধ রয়েছে। এই কর্মসূচিতে স্থানীয় ক্রেতা ও দূর-দূরান্ত থেকে আসা পাইকাররা চরম দুর্ভোগের মুখোমুখি হয়েছেন। ব্যবসায়ীরা জানিয়েছে, চাঁদাবাজদের বিচার না হওয়া পর্যন্ত দোকান খোলা হবে না।
রোববার (১১ জানুয়ারি) রাতে সৈয়দপুর শহরের মাছ বাজারের অবস্থা পরিদর্শন করা হলে দেখা যায়, সব দোকান লকডাউন করা। এর আগে বিকেলে ব্যবসায়ীরা বাজারে বিক্ষোভ মিছিল করেছে এবং দোষীদের শাস্তির দাবিতে রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ জানিয়েছে।
ব্যবসায়ীদের অভিযোগ অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরে গোয়ালপাড়া এলাকার বাসিন্দা ওয়াকার আলী ও তার সহযোগীরা নিয়মিতভাবে দৈনিক চাঁদা আদায় করে আসছিলেন। বৃহস্পতিবার বিকেলে চাঁদা দাবি করতে গেলে ব্যবসায়ীরা তা দিতে অস্বীকৃতি জানায়। 이에 ক্ষিপ্ত হয়ে ওয়াকার আলী ও তার সঙ্গীরা কয়েকজন মাছ ব্যবসায়ীকে মারধর করেন।
মাছ ব্যবসায়ী রহমত আলী বলেন, “আমরা দীর্ঘদিন ধরে ওয়াকার আলী ও তার সহযোগীদের চাঁদা দিয়ে আসছি। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে ব্যবসা চালানোই কঠিন। চাঁদা দেওয়া আমাদের জন্য সম্ভব নয়। তাই আমরা আর তা দিতে চাই না।”
আরেক ব্যবসায়ী নওশাদ হোসেন পলু বলেন, “চাঁদাবাজির প্রতিবাদ করায় আমাদের মারধর করা হয়েছে। সুষ্ঠু বিচার না পাওয়া পর্যন্ত শহরের সব মাছ ব্যবসায়ীর বেচাকেনা বন্ধ থাকবে। আমরা আরও বড় আন্দোলনের জন্য প্রস্তুত।”
সৈয়দপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রেজাউল করিম রেজা জানান, “একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে এবং দ্রুত সমাধান করা হবে।”
নিচের টেবিলে ঘটনার সংক্ষিপ্ত বিবরণ তুলে ধরা হলো:
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| ঘটনা স্থান | সৈয়দপুর মাছ বাজার, নীলফামারী |
| ঘটনা সময় | বৃহস্পতিবার বিকেল, ১১ জানুয়ারি অবধি |
| অভিযুক্ত | ওয়াকার আলী ও সহযোগীরা |
| অভিযোগ | মাছ ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চাঁদা আদায় ও মারধর |
| ব্যবসায়ীদের পদক্ষেপ | তিন দিন ধরে দোকান বন্ধ, থানায় লিখিত অভিযোগ |
| স্থানীয় প্রশাসনের বক্তব্য | তদন্তাধীন, দ্রুত সমাধান আশা করা হচ্ছে |
| সম্ভাব্য আন্দোলন | সুষ্ঠু বিচার না হলে আরও বড় বিক্ষোভের হুমকি |
সৈয়দপুরের এই ঘটনার মাধ্যমে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের দীর্ঘদিনের চাপে থাকা চাঁদাবাজি সমস্যা আবারও প্রকাশ পেল। স্থানীয়রা আশা করছেন, দ্রুত বিচার নিশ্চিত হলে বাজার পুনরায় স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরবে।