খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 15শে শ্রাবণ ১৪৩২ | ৩০ই জুলাই ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
চাঁদা না দেওয়ার ‘অপরাধে’ নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার আহম্মদপুর বাজারের ১০টি দোকানঘরে তালা লাগিয়ে দখলে নেওয়ার অভিযোগে জামায়াতের এক নেতা ও স্থানীয় বিএনপি কর্মীসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। সোমবার (২৮ জুলাই) সন্ধ্যায় সেনাবাহিনী ও পুলিশের যৌথ অভিযানে দোকানগুলো দখলমুক্ত করে প্রকৃত মালিকদের জিম্মায় দেওয়া হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, জোয়াড়ী ইউনিয়নের জামায়াত সভাপতি রুহুল আমিন, তাঁর ভাই জামায়াত কর্মী আজিমুদ্দিন, বিএনপি কর্মী হায়দার আলী এবং তাঁর বাবা মুজিবর রহমান আহম্মদপুর বাজারে গিয়ে দোকানপ্রতি মাসে পাঁচ হাজার টাকা করে চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তারা প্রায় ৪০-৫০ জন সহযোগী নিয়ে দোকানগুলোতে তালা লাগিয়ে দেন এবং ব্যবসায়ীদের প্রাণনাশের হুমকি দেন। অভিযোগ পাওয়ার পরই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অভিযান চালিয়ে চারজনকে গ্রেপ্তার করে।
ভুক্তভোগী মোতালেব হোসেন বলেন, ‘আমাদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে চাঁদার নামে অন্যায়ভাবে টাকা দাবি করা হয়। আমরা রাজি না হলে দোকানে তালা দিয়ে দখলে নেওয়া হয়। পুলিশ-সেনা দ্রুত অভিযান চালিয়ে দোকান উদ্ধার করায় আমরা কৃতজ্ঞ।’
এ ঘটনায় মঙ্গলবার বিকেলে নাটোর শহরের একটি রেস্তোরাঁয় সংবাদ সম্মেলন করে জামায়াতে ইসলামী। জেলা আমির মীর নূরুল ইসলাম বলেন, ‘এটি চাঁদাবাজির ঘটনা নয়। বিরোধপূর্ণ দোকানঘরের ভাড়া নিয়ে সালিসের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মাসিক টাকা দাবি করা হয়েছিল। তবে দোকানে তালা লাগানো অন্যায় হয়েছে।’
তিনি আরও দাবি করেন, ‘যিনি তালা লাগিয়েছেন, তিনি জামায়াত নেতা নন। প্রকৃতপক্ষে কেউ অপরাধ করলে তার বিরুদ্ধে দলীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
তবে গ্রেপ্তার জামায়াত নেতা রুহুল আমিন নিজেও দোকানের মালিকানা দাবি করেছেন এবং ভাড়া চাওয়াকেই চাঁদা দাবি বলে প্রচার করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন। তবে তালা লাগানো ঠিক হয়নি বলে স্বীকার করেছেন তিনি।
পুলিশ জানিয়েছে, চাঁদাবাজির ঘটনায় একটি মামলা হয়েছে এবং চার আসামিকে মঙ্গলবার আদালতে হাজির করলে বিচারক তাঁদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
তবে ভুক্তভোগীদের ভাষ্য, ‘মালিকানা প্রমাণ ছাড়াই কেউ দোকানভাড়া চাইলে তা চাঁদাবাজিই। জোর করে তালা লাগানো এবং হুমকি দেওয়ার মধ্য দিয়ে ঘটনা আরও ভয়ংকর রূপ নিয়েছে।’